Advertisement Banner

হামলার বিচার নয়, উন্মুক্ত ফুটপাত চাই: সোহানী শিফা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
হামলার বিচার নয়, উন্মুক্ত ফুটপাত চাই: সোহানী শিফা
ছবি: চরচা

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ‘ঢাকা বাঁচাও, হকার হটাও’ আন্দোলনের আন্দোলনকারী সোহানী শিফা। নিজের ওপর হামলার কথা ‍উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য কারো শাস্তি চান না। তবে ফুটপাত ও সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান সোহানী।

আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শরিফুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সোহানী শিফা।

সোহানী শিফা জানান, গত ৯ মে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। রাজধানীর ফুটপাত দখল, হকারদের কারণে জনভোগান্তি, নারীদের হয়রানি, অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ঢাকামুখী জনসংখ্যার চাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি শুরু করেন।

সোহানী জানান, গাউছিয়া মার্কেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষ চলাচলে সমস্যার মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, “যখন শুনলাম সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদ করছে, তখন স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু পরে দেখি রাস্তা কেটে সাদা দাগ দিয়ে আবার দোকান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তখন মনে হয়েছে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

সংবাদ সম্মেলনে সোহানী শিফা জানান, পরে তিনি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেন এবং তিন হাজারের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। তবে এ কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার শুরু করার পর কিছু লোক তাকে বাধা দিতে থাকে। তারা বলে রাস্তায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য অনুমতি লাগবে।

তিনি বলেন, গত ৭ জুন ঢাকার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সোহানী বলেন, “আমি আমার বিচার চাই না। আমি চাই ফুটপাত ও সড়ক সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হোক। গ্রাম থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষ ঢাকায় আসছে, কিন্তু ঢাকায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এতে শহর ও গ্রাম-দুই জায়গাতেই সংকট তৈরি হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে সোহানী শিফা। তার প্রস্তাবগুলো হচ্ছে– ঢাকার বাইরে রিকশা ও অটোরিকশাচালকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, হকারদের জন্য জেলা পর্যায়ে হকার্স মার্কেট গড়ে তোলা, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সহায়তায় নিজ অঞ্চলে শ্রমের সঠিক বণ্টন করা, কাজের প্রয়োজনে ঢাকায় আগতদের জন্য ছাড়পত্র বা সনদের ব্যবস্থা, কৃষকদের উৎপাদিত শস্য সরাসরি কেনার উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো।

ছুরিকাঘাতের ঘটনার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সোহানী শিফা বলেন, “আমি একজন মানুষ। কিন্তু আমার দাবি শুধু ব্যক্তিগত নয়। এটি নগরজীবনের নিরাপত্তা, চলাচলের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার দাবি।”

সম্পর্কিত