জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে ‘অসাধারণ সাহসিকতার প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় তরুণদের সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই আন্দোলন ছিল নজিরবিহীন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল এক অসাধারণ আন্দোলন। আমি চীনের মহাপ্রাচীর দেখিনি, কিন্তু আবু সাঈদের বুক দেখেছি। আমি দেখেছি, কীভাবে তিনি মহাপ্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে বুক পেতে গুলি মোকাবিলা করেছেন।”
আরেক শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু আমি ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে জ্বলন্ত গুলি বুকে ধারণ করতে দেখেছি।”
আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভূমিকার জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রিজভী।
স্বজনহারাদের বেদনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আমি আহনাফের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু আমাকে প্রশান্ত মহাসাগরের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, কোনো মহাসাগরই একজন মায়ের চোখের জলের সমান হতে পারে না।”
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, “আমাদের সব জানালা খোলা রাখতে হবে। শহীদরা নীরবে আমাদের স্মৃতিতে ফিরে আসবেন এবং আমাদের অনুপ্রাণিত করবেন, যাতে কোনো মিথ্যা স্বপ্ন আমাদের মনে শিকড় গাড়তে না পারে।”
রিজভী স্বৈরাচারের পুনরাবির্ভাবের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেন, কোনো গণতন্ত্রবিরোধী বা স্বৈরাচারী শক্তিকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া যাবে না।
শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন তরুণরা কখনো ঘুমিয়ে থাকে না।
তিনি বলেন, “তাদের আরও সংগ্রাম, আরও আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনের পথে আরও দৃঢ় পদযাত্রার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”