চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। একই সময়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের মোট ৫৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী এখনো বড় আকারের হামলা প্রতিহত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কয়েকটি ড্রোন মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে পৌঁছে আঘাত হানে। তিনি আরও জানান, হামলায় একটি শপিং সেন্টারও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এটি চলতি সপ্তাহে ওই শোধনাগারে দ্বিতীয় হামলা। এর আগে মঙ্গলবারের ড্রোন হামলার পর শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় । একইসঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশটির জ্বালানি সংকটও তীব্র হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো রাশিয়ার বিমান হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, শত্রুপক্ষ রাজধানীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। বিমান হামলার সতর্কতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকতে হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেনের দিকে অন্তত ২৩৯টি ড্রোন এবং সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। দেশটির দাবি অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
এমন এক পরিস্থিতিতে এই পাল্টাপাল্টি হামলা হলো, যখন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়াকে আলোচনায় আনতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং জি-৭ ভুক্ত অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির তেল ও গ্যাস খাতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথাও বলেছেন।