ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে রাজধানী ঢাকায়। ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর মাঝে দুই দিন খোলা ছিল অফিস, এরপর ফের তিন দিনের ছুটি শেষে আজ রোববার সব প্রতিষ্ঠান খুলেছে।
বিশেষ করে দীর্ঘ ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলেছে আজ। যে কারণে সকাল থেকেই রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় লক্ষ্য করা গেছে কাজে বের হওয়া মানুষের ভিড়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি, থেমে থেমে যানজট, দোকানপাটে সরব উপস্থিতি। সব মিলিয়ে পুরোনো রূপে ফিরেছে ব্যস্ত নগরী ঢাকা।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঈদের আগের মঙ্গলবার থেকে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়। এরপর ঈদ শেষে রাজধানীর সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল, বেশিরভাগ দোকানপাট খোলেনি। বিগত এক সপ্তাহ ঢাকার চিরচেনা রূপ হারিয়ে এমন চিত্র ছিল সর্বত্র।
আজ সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল আটটার পর থেকেই উত্তরা থেকে মতিঝিলমুখী সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। আবদুল্লাহপুর, বিমানবন্দর সড়ক, কাকলী মোড় পেরিয়ে গুলশান-বনানী এলাকায় দেখা যায় অফিসগামী মানুষের ভিড়। ঈদের সময় ফাঁকা থাকা সড়কগুলোতে আবারও ফিরেছে চিরচেনা যানজট। গণপরিবহনেও ছিল অতিরিক্ত চাপ।
পল্টন, মতিঝিল ও গুলশানের ফুটপাতের চা-স্টল, অফিসপাড়ার রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার ভিড়।
উত্তরার একটি বায়িং হাউজে কর্মরত নাসরিন আক্তার বলেন, “দীর্ঘ ছুটির পর আজ অফিসে এসে দেখি অনেক কাজ জমে আছে। বিদেশি বায়ারদের ইমেইল ও অর্ডার ফলোআপ করতে হবে। তবে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করে কাজ শুরু করতে ভালো লাগছে।”
গুলশান-বনানীর করপোরেট অফিসপাড়ায়ও একই চিত্র। দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিলেও ছিল ব্যস্ততা চিরচেনা রূপ।
বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। সকাল থেকেই কাউন্টারগুলোতে ভিড় দেখা যায়। ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি বিভিন্ন অফিস ও অধিদপ্তরগুলোতেও সেবা গ্রহীতাদের আনাগোনা ছিল দেখার মতো।
বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রবেশপথে সকাল থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সারি দেখা যায়। নিরাপত্তা চৌকিতে পরিচয় যাচাই শেষে ধীরে ধীরে ভরে ওঠে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র।
সচিবালয়ের এক উপসচিব বলেন, “দীর্ঘ ছুটির পর কাজের চাপ কিছুটা বেশি থাকে। তবে আমরা দ্রুত ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছি। সামনে বাজেট-সংক্রান্ত অনেক কাজ জমে রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফাইল চলাচল শুরু হয়েছে।"