শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জন নিহত হওয়ার কয়েক দিন পরও ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। ভূমিকম্পে আরও ২০০ জনের বেশি মানুষ আহত এবং হাজারো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুর্যোগে অনেক শিশু এখনো ভয় ও মানসিক আঘাতের সঙ্গে লড়ছে।
বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ভোরে ফ্লোরেসের উপকূলের কাছে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ১৯ হাজারের বেশি মানুষ তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। ভূমিকম্পে অন্তত ৪ হাজার ৫০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ২১৩ জন আহত হয় এবং পুরো দ্বীপজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ২৫২টি স্কুল এবং ৮৪টি উপাসনালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছু আগে ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সুনামির সতর্কতা জারি হলে আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ২ হাজার ১০০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করেছে, যদিও এর মধ্যে মাত্র ৭০টি বাসিন্দারা অনুভব করেছে।
পূর্ব মাংগারাই জেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর একটি লাম্বা লেদার। সবুজ পাহাড়ঘেরা ওই এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৫০টি বাড়ি ধসে পড়েছে এবং গাছপালা উপড়ে গেছে।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ওই গ্রামের ভিনসেনশিয়ুস রানো নিজের বিধ্বস্ত বাড়িটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “বাইরে বের হওয়ার সময়ই পাইনি। সবকিছু এত দ্রুত ঘটেছিল। ছাদ আমাদের ওপর ভেঙে পড়ে, আর আমি শুধু নিজের পিঠ দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে আড়াল করার চেষ্টা করতে পেরেছিলাম।” তার বাড়িটি ছিল সাধারণ কাঠের তৈরি।
গ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অভিভাবকেরা জানায়, অনেক শিশু ঘরের ভেতরে ফিরতে ভয় পাচ্ছে। দ্বীপে পরাঘাত অনুভূত হলেই তারা আতঙ্কে ঘুম থেকে জেগে উঠছে।
১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণেই দেশটিতে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বেশি।
১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে দেশটির অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছিল। ওই সময় একটি ভূমিকম্পের পর সুনামিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়।