স্বাধীনতার বিরোধীরাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছে: মির্জা ফখরুল

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
স্বাধীনতার বিরোধীরাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছে: মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাইতে আসছে।

আজ শনিবার বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে দেশে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যা হবে মা-বোনদের একটি কার্যকর অস্ত্র। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পেয়ে নারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।”

এছাড়া, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনাদের ১৯৭১ সালের কথা মনে আছে, যুদ্ধের কথা মনে আছে। আমরা নিজেরাই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। কেউ বাইরে থেকে এসে আমাদের হয়ে যুদ্ধ করে দেয়নি। আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি। কিন্তু যারা তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসছে। আপনারাই বিচার করুন, তারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল নাকি বিপক্ষে।”

আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ধানের শীষ প্রতীকে সকলের ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আপনাদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাই। আমি সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করি। আপনারা যেহেতু আমাকে সমর্থন করেন, সেহেতু আপনাদের মূল্যবান ভোট আমি চাই।”

পথসভায় উপস্থিত কয়েকজন ভোটার মঞ্চে উঠে বিগত সময়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুলের সময়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। তারা কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধিতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে নতুন উন্নয়ন প্রত্যাশার কথা জানান।

জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্পর্কিত