রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও উত্তর বাড্ডা এলাকায় পৃথক ঘটনায় দুই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন অটোরিকশাচালক মো. নয়ন (৩০) এবং প্রাইভেটকার চালক মো. রবিউস সানি (৩১)।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে দুটি স্থান থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে সকালে পৌনে নয়টার দিকে কামরাঙ্গীরচরের হাসান নগর সিকদার স্কুলের গলির একটি নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের সিঁড়ি সংলগ্ন কক্ষ থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াদ মাহমুদ নাহিদ জানান, নিহত নয়ন শরীয়তপুরের জাজিরা থানার বয়াতিকান্দি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে কামরাঙ্গীরচরের ওই ভবনে থাকতেন।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গত মার্চ মাসে তার স্ত্রী পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে নয়ন আর্থিক সংকট ও পারিবারিক হতাশা ভুগছিলেন। প্রাথমিক ধারণা, মানসিক চাপে রাতের কোনো এক সময় তিনি সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর বাড্ডার স্বাধীনতা সরণির একটি সাততলা ভবনের একটি কক্ষ থেকে রবিউস সানির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত দত্ত জানান, নিহত রবিউস সানি কুমিল্লার আদর্শ নগর এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত নানা বিষয়ে সানি কিছুদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ভোরের দিকে কোনো এক সময় তিনি জানালার লোহার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পৃথক দুটি ঘটনায় অপমৃত্যুর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।