ads

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আরও ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

গত তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে নগরীর কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, তিনপুলের মাথা, জিইসি মোড়, ওয়াসা মোড়, চান্দগাঁও, বাদুরতলা ও চকবাজারসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম চরচাকে বলেন, ‘‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এ কারণে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।’’

নগরীর কাপাসগোলা আবাসিক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, দুই দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছি। বৃষ্টিও কমছে না, পানিও নামছে না।

বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা সাফায়েত হোসেন বলেন, সোমবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। আগের দিনও বৃষ্টি হয়েছিল, তবে পানি জমেনি। কিন্তু রাত থেকে টানা বৃষ্টির পর হাঁটুসমান পানি জমে গেছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন খাল এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন শুরু করেন। শুরুতেই তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা পরিদর্শন করেন।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) একটি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে। টানা বর্ষণের মধ্যেও সিডিএর কর্মকর্তারা নগরীর বিভিন্ন খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন চরচাকে বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টিপাতের মধ্যেও সেনাবাহিনীর সদস্য ও সিডিএর কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তদারকি করছেন। নগরীর কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ছাড়া কোথাও তেমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।’’

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সতর্কতা জারির পর নগরীর পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত দুই দিন ধরে মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরকে পাঁচটি জোনে ভাগ করে সংশ্লিষ্ট পাঁচজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন।

সম্পর্কিত