Advertisement Banner

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে, তবে ধীরে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে, তবে ধীরে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: ফেসবুক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া প্রথম বিশেষ সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি এই সম্পর্ককে বর্ণনা করেছেন ‘ধীরে, কিন্তু নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার’ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হিসেবে।

এই ইতিবাচক সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা গেছে গত ২৬ মার্চ দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে, যেখানে দুই দেশের জাতীয় সংগীতের যুগল পরিবেশনা পারস্পরিক বন্ধনের এক শক্তিশালী বার্তা দেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, দিল্লির বর্তমান পরিবেশ এখন দুই দেশের স্বার্থের সমন্বয়ের দিকে এগোচ্ছে। উভয় দেশই নতুন উদ্যোগ ও আলোচনায় আগ্রহী হলেও তিনি ধৈর্য ও ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন, যাতে কোনো সিদ্ধান্তই তাড়াহুড়া করে চাপিয়ে দেওয়া না হয়।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা এই সম্পর্কের ‘রিসেট’ বা নতুন শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হতে পারে। জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি জানান, বিদ্যমান পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে। সম্প্রতি দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে এই সরবরাহ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ভারতও তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত বন্ধনের প্রতীক। তার ভাষায়, গঙ্গা মানেই জীবন। সীমান্তের দুই পাশের মানুষের জীবন ও জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। তাই আগামী তিন দশকের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিন্ন সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ভিত্তিতে। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সহজতর ভিসা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের প্রভাব নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের অবস্থান কোনো ‘জিরো-সাম গেম’ নয়। অর্থাৎ, এক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক অন্য পক্ষের ক্ষতির বিনিময়ে গড়ে তোলা হয় না। তার মতে, ভারত বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি বিদেশি অংশীদার নয়, বরং একটি অপরিহার্য প্রতিবেশী বাস্তবতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক পরিপূরকতা, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ এবং যৌথ অবকাঠামোর সুফল যেন সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় সেটিই এখন দুই দেশের সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সম্পর্কিত