লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণকারী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার জাহাজ মালিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সৌদি তেল বোঝাই বা খালাস করে, এমন যেকোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি ‘গেট অব টিয়ার্স’ নামেও পরিচিত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
হুতিদের হুঁশিয়ারির পর চীন ও ভারতের উদ্দেশে সৌদি অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাওয়া তিনটি ট্যাংকার মঙ্গলবার লোহিত সাগরে ইউ-টার্ন নিয়ে ইয়েমেন উপকূল এড়িয়ে সুয়েজ খালের দিকে রওনা দেয়।
এর আগে সোমবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, হুতিরা এখনো বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করেনি। তবে তারা এমন পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত তা ঘটেনি। যদি এমন কিছু ঘটে, আমরা তা মোকাবিলা করব।”
ইরান এরই মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসার প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল পরিবহনের বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরব আংশিকভাবে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এড়াতে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠিয়ে আসছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।
হুতিরা যদি এই বিকল্প পথও পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তাহলে সৌদি আরবের অধিকাংশ তেল রপ্তানি আটকে যাবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে হুতিদের হুমকির পর মঙ্গলবার ২ শতাংশের বেশি বাড়ার পর আজ বুধবার এশিয়ার বাজারেও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম আবারও ৪ ডলারের বেশি হয়েছে।