Advertisement Banner

ঢাকা ফিরছে মানুষ, অফিস-আদালত খুলছে কাল

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ঢাকা ফিরছে মানুষ, অফিস-আদালত খুলছে কাল
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। ছবি: চরচা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে টানা ৭ দিনের সরকারি ছুটি শেষ হচ্ছে আজ রোববার। ছুটি শেষ হতে না হতেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন অনেকে।

আজ রোববার সকাল থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের ব্যস্ত আনাগোনা দেখা গেছে। তবে যাত্রীদের চাপ থাকলেও এখনো উপচে পড়া ভিড় বা অতিরিক্ত গাদাগাদি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যা অনেকের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, অফিস খোলা থাকায় তারা আগে ফিরলেও পরিবারের সদস্যদের অনেকেই এখনো গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

ঢাকায় ফিরে আসা এক চাকরিজীবী শেখ রবিন বলেন, “ছুটি আরও কয়েকদিন কাটানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অফিস খোলা থাকায় ফিরতে হয়েছে। পরিবারকে গ্রামেই রেখে এসেছি, পরে সুযোগ হলে আবার নিয়ে আসবো”।

ভ্রমণ নিয়ে তিনি বলেন, “আগের বছরের মতো অতিরিক্ত ভিড় দেখিনি। বসে আসতে পেরেছি, তাই যাত্রাটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল”।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সারা দেশ থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং ২৩টি লোকাল ও মেইল ট্রেনসহ মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে চালু হওয়া বিশেষ ট্রেনগুলোও পর্যায়ক্রমে যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে যাত্রীদের স্বস্তির মধ্যেও কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়। বিশেষ করে নেত্রকোনা, জামালপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা কয়েকটি ট্রেন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুরে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে এই বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে।

এর প্রভাব পড়েছে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের সময়সূচির ওপরও। নির্ধারিত সময়ের পরেও কয়েকটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা যায়। যাত্রীরা বলছেন, ঈদের সময় কিছুটা বিলম্ব মেনে নেওয়া গেলেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলে দুর্ভোগ বাড়ে।

ময়মনসিংহ থেকে আসা জাহিদুল সৌরভ বলেন, “ট্রেনে ভিড় খুব বেশি ছিল না, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা দেরি হওয়ায় যাত্রা দীর্ঘ হয়ে গেছে। তারপরও সড়কপথের যানজটের তুলনায় ট্রেনেই আসতে স্বস্তি লাগে।

ফিরতি যাত্রীদের পাশাপাশি কমলাপুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্রও। ঈদের আগে ও পরে ভিড় এড়াতে অনেকে এখনো ঢাকা ছেড়ে গ্রামের পথে রওনা হচ্ছেন। তাদের কেউ পারিবারিক প্রয়োজনে, কেউ আবার ব্যবসায়িক কাজ শেষে দেরিতে ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি যাচ্ছেন।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমলাপুর রেলস্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। স্টেশনের প্রবেশপথ, প্ল্যাটফর্ম ও যাত্রী চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আনসার সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী ও প্রতারক চক্রের তৎপরতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফেরা মানুষের চাপ ধীরে ধীরে আরও বাড়বে। বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী কয়েকদিন কমলাপুরে যাত্রীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাহিনুর রহমান বলেন, “ঈদ পরবর্তী যাত্রীচাপের পাশাপাশি কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিলম্ব হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি রুটে ক্যাবল তার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা, ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং মিটার গেজ লাইনের সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেন শিডিউলে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের টেকনিক্যাল টিম এবং অপারেশন ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করছে। দ্রুত সময়সূচি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”

সম্পর্কিত