ads

চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালু
ছবি: সংগৃহীত

স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) চালু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর মধ্য দিয়ে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ শতভাগ ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে বন্দরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই রূপান্তরের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস পোর্ট’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই প্রক্রিয়ায় টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাসের ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার সব ম্যানুয়াল বা কাগজভিত্তিক কাজ বাদ দিয়েছে।

এর আগে, ২০১১ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেসেল মুভমেন্ট ও বন্দরের ভেতরে কন্টেইনার মুভমেন্ট কার্যক্রম টিওএস এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণ না থাকার কারণে এর পরিপূর্ণ সুবিধা পাওয়া এতদিন সম্ভব হয়নি।

আগে শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক ডেলিভারি অর্ডার (ইডিও) আবেদন এবং ইডিও জেনারেশন এই দুটি ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হত এবং অবশিষ্ট সকল কার্যক্রম ম্যানুয়ালি হতো। এখন থেকে অনলাইন ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল টিওএস ইকোসিস্টেমের মধ্যে পরিচালিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বয়ংক্রিয় টিওএস সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ পর্যায়ক্রমিক হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট একটি ধাপ বাদ দিয়ে বা স্কিপ করে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে না।

আবেদনের পূর্ববর্তী ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হলে তবেই পরবর্তী ধাপটি সিস্টেম দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনলক হবে। নিরাপত্তা ও আইনি কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে বন্দরের টিওএস সিস্টেমকে এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসকুইডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সাথে রিয়াল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কন্টেইনার বা মালামাল ব্লক বা হোল্ড করতে চায়, তবে সেই ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিয়াল-টাইমে বন্দরের টিওএস সিস্টেমে চলে আসবে।

ডাটা আসার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ফাইলের পরবর্তী সমস্ত প্রসেস ‘লক’ করে দেবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সেখানেই ‘স্টপ’ থাকবে৷

প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ার কারণে সব ধরনের জাল-জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে বলে বন্দরের দাবি।

পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে হওয়ায় ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে তাদের নিজস্ব প্যানেলে লগ ইন করে তাদের নথিপত্র বা ফাইলটি কোন পর্যায়ে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতেও পারবেন বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

সম্পর্কিত