ads

নেইমারের কান্নাভেজা বিদায়

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
নেইমারের কান্নাভেজা বিদায়

দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে রাজকীয় বিদায় আর দিতে পারলো না ব্রাজিল। নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ১৬ থেকে বাদ পড়ার পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। এর মধ্য দেশটির ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তি ঘটল।

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পরই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। এরপর মিক্সড জোনে তিনি বলেছেন, “আমি চেষ্টা করেছি, অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন এটা শেষ। (ব্রাজিলের জার্সিতে) আমার শুরুটা এখানেই হয়েছিল, শেষটাও এখানেই হল।”

সান্তোসের জার্সিতে গোলের পর গোল করে ‘নতুন পেলে’ তকমা গায়ে মেখে ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের অভিষেক হয় ২০১০ সালে। দীর্ঘ এই ১৫ বছরের অধ্যায়ে তিনিই ছিলেন সেলেসাওদের পোস্টার বয়। বছর তিনেক আগেও ব্রাজিল মানেই ছিল নেইমার। তবে চোট আর দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে বিশ্বকাপ না জেতার হতাশা নিয়েই জাতীয় দল থেকে অবসরে যেতে হয়েছে তাকে।

এবারের বিশ্বকাপেও নেইমারের খেলা নিয়ে ছিল প্রবল সংশয়। নকআউট পর্বের আগে শতভাগ ফিট হবেন না জেনেও তাকে স্কোয়াডে রাখেন কার্লো আনচেলত্তি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫ মিনিট খেললেও জাপানের বিপক্ষে তাকে নামাননি কোচ। নরওয়ের বিপক্ষে বদলি নেমে পেনাল্টি থেকে একটা গোল করলেও দলের হার আটকাতে পারেননি।

অথচ ব্রাজিল ফুটবলের রাজপুত্র বলা হত নেইমারকে, যার হাত ধরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্বপ্ন দেখেছিল রাজত্ব ফিরে পাওয়ার। ২০১৪ সালে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে থাকলেও সেমিফাইনালের আগে চোট পেয়ে ছিটকে যান নেইমার। এরপর দর্শক হয়ে দেখেন জার্মানির কাছে সেই ৭-১ গোলের।

২০১৮ সালের পর ২০২২ সালেও নেইমারের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আটকে যায় কোয়ার্টার ফাইনালেই। মাঝে কোপা আমেরিকা জিতলেও মূল লক্ষ্য তো বিশ্বকাপই। ফলে বড় মঞ্চে নিজের শেষ আসরে নেইমার বিশেষ কিছু করবেন, সেটাই ছিল সবার আশা। তবে ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায়ও চোট পিছিয়ে দিয়েছে তাকে।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থেকে শুরু করে ব্রাজিলের এই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের কাছেই নেইমার আইডল। তাকে দেখেই বড় হয়েছেন ফুটবলার হতে চেয়েছেন তারা। কিন্তু ব্যর্থ ভিনিসিয়ুস, পাকেতা, রাফিনিয়া, মার্তিনেল্লিরাও। কারণ তারা নেইমারকে একটা বিশ্বকাপ এনে দিতে পারেননি।

ব্যক্তিগতভাবে নেইমার ব্রাজিলের জার্সিতে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন অনেক উঁচুতে থেকেই। পেলেকে ছাড়িয়েছেন অনেক আগেই। ব্রাজিলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৮০ করে থেমেছেন, যার ধারেকাছেও নেই কেউ। নিকট ভবিষ্যতেও কারও নেইমারকে পেছনে ফেলার সম্ভাবনাও নেই।

এছাড়া পেলের পর ব্রাজিলের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার বিরল তালিকাতেও নাম লিখিয়েছেন নেইমার। রয়েছে আরও বেশ কিছু রেকর্ডও। তবে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ক্যারিয়ার শেষ করেছেন অনন্ত আক্ষেপ নিয়ে, একটা বিশ্বকাপ না জেতার বেদনা নিয়ে।

সম্পর্কিত