ads

খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে, অংশ নিতে পারেন ২ কোটি মানুষ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে, অংশ নিতে পারেন ২ কোটি মানুষ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: রয়টার্স

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ শিয়া ধর্মীয় নেতা (মারজা) ও রাষ্ট্রপ্রধান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ চার মাস বিশেষ হিমাগারে সংরক্ষণের পর, গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে তার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সেখানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা শেষে তার নিহত আত্মীয়দের মরদেহসহ কফিনটি ইরাকের নাজাফ-কারবালা হয়ে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হবে। ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ড মেনে রাসায়নিক এমবামিং ছাড়াই এতদিন খামেনির দেহ হিমাগারে রাখা হয়েছিল।

আকার ও গুরুত্বে নজিরবিহীন এই জানাজাকে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষে একটি গণভোট এবং বিপ্লবী শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখাতে চাইছে। দেড় থেকে দুই কোটি সমর্থক জড়ো করতে সরকার পরিবহন, আবাসন ও খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করেছে। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ভারতের পক্ষে বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং চীন, আফগানিস্তান ও ককেশাস অঞ্চলের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে উপস্থিত হয়ে বিশ্বকে ঐক্যের বার্তা এবং প্রতিশোধের ডাক দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন তার পুত্র মোজতবা খামেনি। তবে জীবননাশের হুমকিতে তিনি জানাজায় অনুপস্থিত থাকবেন।

তবে সরকারের দেখানো এই কৃত্রিম ঐক্যের আবরণের আড়ালে ইরানের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি এবং দমনপীড়নে দেশটির তরুণ সমাজ ক্ষুব্ধ। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে খামেনির মৃত্যুর স্লোগান উঠেছিল এবং তার মৃত্যুর খবরে অনেকের উল্লাসের কথাও জানা গেছে।

সরকার ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগানে দেশাত্মবোধ জাগানোর চেষ্টা করলেও তেহরান এখন থমথমে ও শান্ত। এটি ১৯৮৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ খোমেনি সেই আবেগঘন ও স্বতঃস্ফূর্ত জানাজার সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের ভিড়ে কফিন থেকে কাফনের কাপড় পর্যন্ত সরে গিয়েছিল।

সম্পর্কিত