Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যের বাজার কেন সম্প্রসারিত হচ্ছে

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ০৬
উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যের বাজার কেন সম্প্রসারিত হচ্ছে

বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এখন প্রায় সব দেশেরই বড় সমস্যা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ এই কঠিন সময়েও উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যের বাজারে, যা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্যারিসভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ইপসসের ২০টি দেশের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থনীতির প্রতি মানুষের আস্থা এখনো দুর্বল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্যচুক্তি ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা কিংবা বন্ধু-শত্রু নির্বিশেষে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকিও ভোক্তাদের মনোবল বাড়াতে পারেনি। তবু দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, নিত্যপণ্য কিনতে কষ্ট হলেও মানুষের চেহারায় উজ্জ্বলতা বেড়েছে।

আমেরিকার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ম্যাককিন্সির হিসাব অনুযায়ী, ত্বক, চুল, মেকআপ ও সুগন্ধি—সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যে খুচরা ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার। আগের দুই বছরে এ খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৭ শতাংশ, যা সামগ্রিক খুচরা বাজারের প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি।

কঠিন সময়ে মানুষ ছোটখাটো বিলাসে খরচ বাড়ায়—এই প্রবণতাকে একসময় আমেরিকান বিউটি উদ্যোক্তা লিওনার্ড লডার নাম দিয়েছিলেন ‘লিপস্টিক ইফেক্ট’।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আমেরিকান প্রসাধনী প্রস্তুতকারক কোম্পানি এস্টি লডারের বর্তমান প্রধান স্টেফান দ্য লা ফাভেরির মতে, মানুষ নিজেকে আরও ‘আত্মবিশ্বাসী’ দেখানোর জন্য এসব পণ্য কিনে থাকে।

তবে সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যের বাড়তি চাহিদার পেছনে কেবল মানসিক সান্ত্বনা নয়, আরও গভীর কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিপুলসংখ্যক পুরুষও এখন সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যে খরচ করছেন। ছবি: রয়টার্স
বিপুলসংখ্যক পুরুষও এখন সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যে খরচ করছেন। ছবি: রয়টার্স

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানো ভোক্তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিজের চেহারা নিয়ে সচেতন। পাশাপাশি দ্রুত ওজন কমানোর ওষুধ ও উন্নত প্লাস্টিক সার্জারির দিকেও ঝুঁকছেন অনেকে। ফলে নতুন ক্রেতা, নতুন পণ্য ও নতুন ব্র্যান্ডের সম্মিলিত ঢেউ সৌন্দর্যবর্ধক শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

নতুন শ্রেণির ক্রেতা

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শিল্প আর শুধু নারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিপুলসংখ্যক পুরুষও এখন সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যে খরচ করছেন। হেয়ার জেল বা ফেসক্রিমের পাশাপাশি মেকআপেও বাড়ছে ব্যয়। বিশেষ করে টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার, কনসিলার ও আইব্রো জেলের মতো হালকা পণ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সেফোরার মতো খুচরা বিক্রেতারা কসমেটিকস কাউন্টারে পুরুষ বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, যাতে পুরুষ ক্রেতারা কম অস্বস্তি বোধ করেন। দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পুরুষ বিউটি ইনফ্লুয়েন্সাররা সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে ভূমিকা রাখছেন। সেফোরার কর্মকর্তা প্রিয়া ভেঙ্কটেশের ভাষায়, “পুরুষদের মেকআপ করা এখন পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।”

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশু-কিশোরদের মধ্যেও সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিপগ্লস থেকে অ্যান্টি-এজিং ক্রিম পর্যন্ত নানা পণ্য দেখে তারা বাবা-মাকে কিনে দিতে বলছে। আল্টা বিউটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া আমেরিকানরা সাধারণত ১৮ বছর বয়সের পর এসব পণ্য ব্যবহার শুরু করতেন। কিন্তু জেনারেশন-আলফা (২০১০–২০২৫ সালে জন্ম নেওয়া) মাত্র আট বছর বয়সেই এসব পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে।

ভোক্তাদের সৌন্দর্যবর্ধক পণ্যে করা ব্যয়ের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশই যায় স্কিন কেয়ারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (আসল ও ভুয়া) ত্বকবিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মানুষ রেটিনলের মতো সক্রিয় উপাদান সম্পর্কে শিখছেন, যা বয়সের ছাপ কমাতে সহায়ক।

‘দ্য অর্ডিনারি’র মতো ব্র্যান্ড তুলনামূলক কম দামে উচ্চমাত্রার সক্রিয় উপাদানযুক্ত পণ্য বাজারে আনছে। রোমান্টিক নাম ও গোলাপি জারের বদলে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে সাদামাটা বোতল ও ক্লিনিক্যাল লেবেল। কোলাজেন ট্যাবলেটের মতো ‘বিউটি ইনজেস্টিবল’ এবং এলইডি ফেস মাস্কের মতো যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বাড়ছে।

২০২৪ সালে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিউটি সার্ভিসে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার। এসব সেবায় ব্যবহৃত হয় এমন পদার্থ ও যন্ত্র, যা সাধারণ ভোক্তারা নিজেরা কিনতে পারেন না—যেমন বোটক্স, হায়ালুরোনিক ফিলার, কেমিক্যাল পিল, লেজার দিয়ে লোম অপসারণ বা চুল ঘন করা।

এস্টি লডারের বর্তমান প্রধান স্টেফান দ্য লা ফাভেরির মতে, মানুষ নিজেকে আরও ‘আত্মবিশ্বাসী’ দেখানোর জন্য এসব পণ্য কিনে থাকে। ছবি: রয়টার্স
এস্টি লডারের বর্তমান প্রধান স্টেফান দ্য লা ফাভেরির মতে, মানুষ নিজেকে আরও ‘আত্মবিশ্বাসী’ দেখানোর জন্য এসব পণ্য কিনে থাকে। ছবি: রয়টার্স

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব অ্যাস্থেটিক প্লাস্টিক সার্জারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২ কোটির বেশি নন-সার্জিক্যাল প্রক্রিয়া হয়েছে, যা ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। ফলে সৌন্দর্যবর্ধক শিল্প ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমারেখা ক্রমেই মুছে যাচ্ছে।

লন্ডনের সেলিব্রিটি ফেসিয়ালিস্ট সারা চ্যাপম্যান জানান, তার ক্লিনিকে এখন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, প্রেসক্রিপশন লেখেন এমন চিকিৎসক, এমনকি রক্ত ও মল পরীক্ষা করা মেডিকেল পেশাজীবীরাও কাজ করেন। তাদের লক্ষ্য শুধু বলিরেখা কমানো নয়, বরং ক্লায়েন্টদের সুস্থ দেখাতে সহায়তা করা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নতুন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বিজ্ঞাপন ছাড়াই ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। ব্রিটিশ মেকআপ ব্র্যান্ড শার্লট টিলবারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তাদের ‘সবচেয়ে বড় শোরুম’ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ড বাবলও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে কিশোর ফলোয়ার তৈরি করেছে।

সুগন্ধির ক্ষেত্রেও নতুন কৌশল দেখা যাচ্ছে। সল দে জানেইরো পারফিউমকে ‘মিস্ট’ নামে বাজারজাত করেছে, আর কায়ালি গ্রাহকদের একাধিক সুগন্ধি ‘লেয়ারিং’ করতে উৎসাহ দিচ্ছে।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এসব নতুন ব্র্যান্ড পুরোনো কোম্পানিগুলোর জন্য হুমকির চেয়ে সুযোগই বেশি তৈরি করছে। বড় কোম্পানিগুলো দ্রুত জনপ্রিয় ব্র্যান্ড অধিগ্রহণ করছে। মে মাসে আমেরিকান প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান ইএলএফ বিউটি, হেইলি বিবারের মেকআপ ব্র্যান্ড কিনেছে সর্বোচ্চ ১ বিলিয়ন ডলারে। এস্টি লডার কিনেছে দ্য অর্ডিনারি। ল’রিয়াল ‘বিজ্ঞানভিত্তিক’ ব্র্যান্ড মেডিক৮-এ বড় শেয়ার নিয়েছে এবং সুইস অ্যাস্থেটিক ইনজেকশন প্রস্তুতকারী গালডার্মায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। পি অ্যান্ড জি ও ইউনিলিভারও অধিগ্রহণে সক্রিয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর বেশি প্রভাব বিস্তার ও বড় আকারের বিজ্ঞাপন চালানোর আর্থিক সক্ষমতা দিচ্ছে। একই সঙ্গে চীনে স্থানীয় ব্র্যান্ডের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো আমেরিকা ও ইউরোপে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করছে।

বিষয়: বাজারঅর্থনীতির খবরবিউটি টিপসমূল্যস্ফীতিদ্রব্যমূল্য
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।