Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া রোহিঙ্গারা

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ৪৫
মৃত্যুঝুঁকি জেনেও কেন ক্যাম্প ছাড়তে মরিয়া রোহিঙ্গারা

সম্প্রতি আন্দামানে নৌকাডুবির ঘটনায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছে। তাদের সবারই সলিল সমাধি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারমধ্যে ছিলেন ২০ জন রোহিঙ্গা। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে নৌকাটি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে এমন বিপদসংকুল যাত্রার যে হিড়িক পড়েছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই ঘটনায় বেঁচে ফেরাদের মধ্যে আছেন রহিলা বেগম। আন্দামান সাগরে টানা দুই দিন দুই রাত একটি ভাঙা কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে ভেসে ছিলেন তিনি। মালয়েশিয়াগামী ওই নৌকায় উপচে পড়া ভিড় ছিল। এরপর যে কয়েকজন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন, রহিলা তাদেরই একজন।

তিনি বলেন, “আমার শরীরের শক্তি শেষ হয়ে আসছিল। এক সময় কাঠের তক্তাটি ভেসে দূরে চলে গেল, গভীর সাগরে আমি একা হয়ে পড়লাম। আমি আল্লাহর কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছিলাম। বাবা-মায়ের দোয়া আমার সাথে ছিল। এরপর আল্লাহর কুদরতে একটি জাহাজ এসে আমাকে উদ্ধার করে”

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে জীবনযাত্রার মান অবনতি এবং মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে প্রাণঘাতী এই সমুদ্রযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আন্দামানে ডুবে যায় নৌকাটি। ছবি: রয়টার্স
প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আন্দামানে ডুবে যায় নৌকাটি। ছবি: রয়টার্স

ক্যাম্পে বছরের পর বছর কর্মসংস্থানহীন জীবন, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং ত্রাণ কমে আসায় তাদের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। অন্যদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনাও ফিকে হয়ে আসছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, পাচারকারী বা নৌকাডুবির ভয়ের চেয়েও এখন বাঁচার তাগিদ অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

রহিলার হাত ও শরীরে পোড়া দাগ যা সমুদ্রের পানির সাথে মিশে থাকা নৌকার জ্বালানি থেকে হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। জাতিসংঘ সেই অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করলেও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে।

নয় বছর পার হয়ে গেলেও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কোনো লক্ষণ নেই। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। সেখানে জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে লড়াই পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ করতে পারেন না, চলাফেরায় রয়েছে বিধিনিষেধ। ত্রাণের বরাদ্দ কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে এখন অনাহারে থাকতে হচ্ছে। এই নিরাপত্তাহীনতা ও পাচারকারীদের তৎপরতা তাদের চরম হতাশায় ঠেলে দিচ্ছে।

এত বড় বিপদের পরও কেন আবার ফিরে যেতে চান? এমন প্রশ্নে রহিলা বলেন, “সুযোগ পেলে আমি আবার চেষ্টা করব। এখানে ক্যাম্পে আমার স্বামী নিয়মিত আমাকে মারধর ও নির্যাতন করে। আমি তার হাত থেকে এবং এই কষ্টকর জীবন থেকে মুক্তি চাই। এখানে আমার আর মন টেকে না।”

রহিলার এই গল্প মূলত একটি বৃহত্তর সংকটের প্রতিফলন মাত্র।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। সে বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে যাত্রার চেষ্টা করেছিলেন, যার মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন মারা গেছেন। এটা বিশ্বের যেকোনো শরণার্থী সমুদ্রপথের তুলনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। ছবি: রয়টার্স
২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা মারা গেছেন। ছবি: রয়টার্স

২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২ হাজার ৮ শর বেশি রোহিঙ্গা এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই যাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেওয়া নৌকাগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই থাকে। পাচার, শোষণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও অনেকে দেশ ছাড়ছেন।

অধিকাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাইলেও নাগরিকত্ব না থাকা এবং ক্রমাগত নিপীড়ন তাদের আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর প্রটেকশন বিষয়ক মুখপাত্র অ্যাস্ট্রিড কাস্টেলিন জানান, ত্রাণ কমে যাওয়ায় শরণার্থীরা বাল্যবিবাহ, জুয়া, অপহরণ এবং বিপজ্জনক অভিবাসনের মতো ক্ষতিকর পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি মনে করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তরুণ এবং তারা একটি সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেই আশা এখন হতাশায় রূপ নিচ্ছে, যার ফলে যুবসমাজ ও পরিবারগুলো এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

রহিলা বেগমের জন্য জীবনের সমীকরণটি এখন খুবই কঠিন, হয় ক্যাম্পের দুর্বিষহ জীবন মেনে নেওয়া, না হয় একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় জীবনের শেষ ঝুঁকি নেওয়া।

তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে মালয়েশিয়া পৌঁছান, আমি সেখানে একজন ভালো মানুষকে বিয়ে করে নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই। আর তা না হলে সেখানে ভালো মানুষের আশ্রয় নিয়ে থাকব। আমি সেই দিনটির অপেক্ষায় আছি।’’

বিষয়: নৌকাডুবিনিহতইউএনএইচসিআররোহিঙ্গা শরণার্থীরোহিঙ্গা ক্যাম্পরোহিঙ্গা
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।