চরচা ডেস্ক

প্রজননকে সাধারণত টিকে থাকার উপায় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু প্রাণিজগতের কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে যৌনক্রিয়া হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। কীটপতঙ্গ থেকে স্তন্যপায়ী-কিছু প্রাণী এমন প্রজনন আচরণে অংশ নেয়, যা তাদের জীবন নাটকীয়ভাবে সংক্ষিপ্ত করে বা মিলনের পরপরই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব আচরণ হঠাৎ বা বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নয়। বিবর্তনের নানা পরিবর্তনের চাপে গড়ে ওঠা এসব কৌশলে ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে জিনের পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছানোই মুখ্য হয়ে ওঠে।
অনেক ক্ষেত্রে যৌনক্রিয়ার ধরন সন্তানের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই এ ঘটনাগুলো বুঝতে হলে ফলাফলের বাইরে গিয়ে জৈবিক ও আচরণগত প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করা জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রজননের এই রহস্য ব্যাখ্যা করেছেন আম্বেদকর নগরের আরডি পেট হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ভেটেরিনারিয়ান ডা. দীপরাজ প্রজাপতি।
মিলনের সময় বা পরপরই মারা যাওয়া ৩ প্রাণী
ডা. দীপরাজ প্রজাপতি জানান, সবচেয়ে সুপরিচিত উদাহরণ তিনটি হলো- পুরুষ অ্যান্টেকিনাস, প্রেয়িং ম্যান্টিস এবং কিছু প্রজাতির অক্টোপাস।
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষুদ্র মারসুপিয়াল প্রাণী অ্যান্টেকিনাসে প্রজনন মৌসুমের পর পুরুষদের দ্রুত শারীরিক ভাঙন দেখা যায়। তারা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ মিলনে অংশ নেয়। এই অতিরিক্ত পরিশ্রমে কর্টিসলসহ স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দমন করে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলতার সৃষ্টি করে এবং মিলনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু ডেকে আনে।

প্রেয়িং ম্যান্টিস প্রজাতিতে অনেক সময় স্ত্রী ম্যান্টিস মিলনের সময় বা পরে পুরুষকে খেয়ে ফেলে। যদিও এটি সব ক্ষেত্রে ঘটে না, তবে যথেষ্ট পরিমাণে ঘটে বলেই তা বিবর্তনীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের দেহ স্ত্রীকে পুষ্টি জোগায়, যা ডিমের বিকাশ ও টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।
কিছু প্রজাতির অক্টোপাসের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গভীর সমুদ্রের কিছু অক্টোপাসে যৌনক্রিয়ার পর পুরুষের দ্রুত জৈবিক অবনতি ঘটে। স্ত্রী অক্টোপাসও ডিম পাহারা দেওয়ার সময় খাবার বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়। হরমোনজনিত পরিবর্তনের ফলে বেঁচে থাকার চেয়ে প্রজননই অগ্রাধিকার পায়।
ডা. দীপরাজ বলেন, বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে বেঁচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কেবল তখনই, যখন তা প্রজননে সহায়তা করে। যেসব প্রজাতির প্রাণীর প্রজননের সুযোগ সীমিত বা একবারই আসে তার মূল্য মৃত্যুও হলেও তারা প্রজনন নিশ্চিত করে ।
এই বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন, এ ধরনের প্রাণীরা প্রায়ই এমন পরিবেশে বাস করে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজননের সুযোগ অনিশ্চিত। শিকারি প্রাণীর ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন বা স্বল্পায়ু জীবনচক্রের কারণে তারা অনিশ্চয়তায় ভোগে। ফলে শক্তি সঞ্চয় করে দীর্ঘায়ু হওয়ার চেয়ে একবারেই সব শক্তি প্রজননে বিনিয়োগ করা বেশি কার্যকর।

ডা. দীপরাজ বলেন, “দীর্ঘায়ুর বদলে বিবর্তন এমন জিন নির্বাচন করে, যা সফলভাবে পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছায়। তাই প্রজননের পর মৃত্যু হলে সেটি বিবর্তনের ব্যর্থতা নয় বরং অত্যন্ত বিশেষায়িত ও কার্যকর জীবন-কৌশল।”
এই আচরণের পেছনে কী কারণ?
তীব্র প্রতিযোগিতা, লিঙ্গ অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা, মৌসুমি প্রজনন এবং শাবকের উচ্চ মৃত্যুহার—এসব কারণ চরম প্রজনন আচরণকে উৎসাহিত করে বলে জানান ডা. দীপরাজ।
তার মতে, যেসব পরিবেশে যৌনক্রিয়ার সুযোগ সীমিত বা অল্প সময়ের জন্য থাকে, সেখানে শক্তি সঞ্চয় করলে প্রজননের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পুরুষদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বা স্ত্রীদের পছন্দও চাপ বাড়ায়, ফলে একবারের যৌনক্রিয়ায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেখা যায়।
ডা. দীপরাজ বলেন, “ব্যক্তি মারা গেলেও তার জিনের সাফল্যই বিবর্তনের বিচারে মুখ্য। বংশধারার টিকে থাকাই এখানে জীবনের চেয়ে বড়।”

প্রজননকে সাধারণত টিকে থাকার উপায় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু প্রাণিজগতের কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে যৌনক্রিয়া হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ। কীটপতঙ্গ থেকে স্তন্যপায়ী-কিছু প্রাণী এমন প্রজনন আচরণে অংশ নেয়, যা তাদের জীবন নাটকীয়ভাবে সংক্ষিপ্ত করে বা মিলনের পরপরই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব আচরণ হঠাৎ বা বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নয়। বিবর্তনের নানা পরিবর্তনের চাপে গড়ে ওঠা এসব কৌশলে ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে জিনের পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছানোই মুখ্য হয়ে ওঠে।
অনেক ক্ষেত্রে যৌনক্রিয়ার ধরন সন্তানের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই এ ঘটনাগুলো বুঝতে হলে ফলাফলের বাইরে গিয়ে জৈবিক ও আচরণগত প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করা জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রজননের এই রহস্য ব্যাখ্যা করেছেন আম্বেদকর নগরের আরডি পেট হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ ভেটেরিনারিয়ান ডা. দীপরাজ প্রজাপতি।
মিলনের সময় বা পরপরই মারা যাওয়া ৩ প্রাণী
ডা. দীপরাজ প্রজাপতি জানান, সবচেয়ে সুপরিচিত উদাহরণ তিনটি হলো- পুরুষ অ্যান্টেকিনাস, প্রেয়িং ম্যান্টিস এবং কিছু প্রজাতির অক্টোপাস।
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষুদ্র মারসুপিয়াল প্রাণী অ্যান্টেকিনাসে প্রজনন মৌসুমের পর পুরুষদের দ্রুত শারীরিক ভাঙন দেখা যায়। তারা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ মিলনে অংশ নেয়। এই অতিরিক্ত পরিশ্রমে কর্টিসলসহ স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দমন করে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকলতার সৃষ্টি করে এবং মিলনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মৃত্যু ডেকে আনে।

প্রেয়িং ম্যান্টিস প্রজাতিতে অনেক সময় স্ত্রী ম্যান্টিস মিলনের সময় বা পরে পুরুষকে খেয়ে ফেলে। যদিও এটি সব ক্ষেত্রে ঘটে না, তবে যথেষ্ট পরিমাণে ঘটে বলেই তা বিবর্তনীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষের দেহ স্ত্রীকে পুষ্টি জোগায়, যা ডিমের বিকাশ ও টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।
কিছু প্রজাতির অক্টোপাসের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গভীর সমুদ্রের কিছু অক্টোপাসে যৌনক্রিয়ার পর পুরুষের দ্রুত জৈবিক অবনতি ঘটে। স্ত্রী অক্টোপাসও ডিম পাহারা দেওয়ার সময় খাবার বন্ধ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়। হরমোনজনিত পরিবর্তনের ফলে বেঁচে থাকার চেয়ে প্রজননই অগ্রাধিকার পায়।
ডা. দীপরাজ বলেন, বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে বেঁচে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কেবল তখনই, যখন তা প্রজননে সহায়তা করে। যেসব প্রজাতির প্রাণীর প্রজননের সুযোগ সীমিত বা একবারই আসে তার মূল্য মৃত্যুও হলেও তারা প্রজনন নিশ্চিত করে ।
এই বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন, এ ধরনের প্রাণীরা প্রায়ই এমন পরিবেশে বাস করে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজননের সুযোগ অনিশ্চিত। শিকারি প্রাণীর ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন বা স্বল্পায়ু জীবনচক্রের কারণে তারা অনিশ্চয়তায় ভোগে। ফলে শক্তি সঞ্চয় করে দীর্ঘায়ু হওয়ার চেয়ে একবারেই সব শক্তি প্রজননে বিনিয়োগ করা বেশি কার্যকর।

ডা. দীপরাজ বলেন, “দীর্ঘায়ুর বদলে বিবর্তন এমন জিন নির্বাচন করে, যা সফলভাবে পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছায়। তাই প্রজননের পর মৃত্যু হলে সেটি বিবর্তনের ব্যর্থতা নয় বরং অত্যন্ত বিশেষায়িত ও কার্যকর জীবন-কৌশল।”
এই আচরণের পেছনে কী কারণ?
তীব্র প্রতিযোগিতা, লিঙ্গ অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা, মৌসুমি প্রজনন এবং শাবকের উচ্চ মৃত্যুহার—এসব কারণ চরম প্রজনন আচরণকে উৎসাহিত করে বলে জানান ডা. দীপরাজ।
তার মতে, যেসব পরিবেশে যৌনক্রিয়ার সুযোগ সীমিত বা অল্প সময়ের জন্য থাকে, সেখানে শক্তি সঞ্চয় করলে প্রজননের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পুরুষদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা বা স্ত্রীদের পছন্দও চাপ বাড়ায়, ফলে একবারের যৌনক্রিয়ায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেখা যায়।
ডা. দীপরাজ বলেন, “ব্যক্তি মারা গেলেও তার জিনের সাফল্যই বিবর্তনের বিচারে মুখ্য। বংশধারার টিকে থাকাই এখানে জীবনের চেয়ে বড়।”