আরমান ভূঁইয়া

চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা, মারামারি, হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের হুমকি বা কিছু হারিয়ে গেলে সাধারণ মানুষের দরকার পুলিশের সহায়তা। সাধারণত পুলিশের কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতার দরকার হলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হয়। তবে বর্তমানে এই সেবা সহজ করার জন্য অনলাইন সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
ধরুন, আপনার মোবাইল ফোন কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়েছে বা আবার আপনি আপনার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বা আপনাকের কেউ হুমকি দিয়েছে, এখন আপনি কী করবেন? এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই আপনাকে আইনি সহায়তা নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। তবে সময়, দূরত্ব ও হয়রানির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ থানায় গিয়ে জিডি করতে আগ্রহ হারায়। আর এমন বাস্তবতাতেই শুরু হয়েছে অনলাইন জিডির ব্যবস্থা। তবে আলোচনার বিষয়— এটা কতটা কার্যকর হচ্ছে।
জিডি কী, আর কেন জরুরি
সাধারণ ডায়েরি বা জিডি কোনো মামলা নয়। এটি মূলত থানার নথিতে একটি ঘটনার লিখিত বিবরণ সংরক্ষণ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জিডি হলো ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের একটি প্রাথমিক ভিত্তি। কোনো ঘটনা পরবর্তীতে অপরাধে রূপ নিলে বা ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণের প্রয়োজন হলে জিডি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষ করে হারানো কাগজপত্র, প্রতারণার আশঙ্কা, পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধ, এমনকি রাজনৈতিক বা পেশাগত হুমকির ক্ষেত্রেও জিডি করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।
থানাকেন্দ্রিক চাপ কমানো ও নাগরিকদের পুলিশ সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা— মূলত এই দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশ অনলাইনে জিডির ব্যবস্থা চালু করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “অনলাইনে জিডি চালুর ফলে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে থানায় ভিড় কমছে। পাশাপাশি নাগরিকরাও সহজে রেকর্ড রাখতে পারছেন।”
অনলাইনে জিডি কীভাবে করবেন
বাংলাদেশ পুলিশের “Online GD” মোবাইল অ্যাপ অথবা gd.police.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এখন ঘরে বসেই সাধারণ জিডি করা যায়। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), সচল মোবাইল নম্বর ও লাইভ ছবির মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের সময় মোবাইল ফোনে পাঠানো ওটিপি (ভেরিফিকেশন নম্বর) দিয়ে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে অ্যাপে লগইন করে জিডির ধরন নির্বাচন করতে হবে, এরপর ঘটনা কোথায় ও কখন ঘটেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করে তথ্য সাবমিট করলে আবেদন হয়ে যাবে এবং যাচাই শেষে একটি ডিজিটাল জিডি কপি নাগরিকের কাছে চলে আসবে।
জিডি করতে কোনো ধরনের ফি লাগে না এবং প্রদত্ত সব তথ্য নির্ভুল হওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ জিডি পরবর্তীতে আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রয়োজন হলে হারানো বা প্রাপ্ত সামগ্রীর সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার সুযোগও রয়েছে। পুলিশ অভিযোগ যাচাই করে জিডির অনুমোদন দেয়। যদি অভিযোগটি আমলযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে, তাহলে আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে মামলা করতে হবে এবং পুলিশ তা তদন্ত করে বিচারের জন্য আদালতে পাঠায়।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জিডি প্রক্রিয়া সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হলেও তথ্যের যথার্থতা ও ফলোআপ নিশ্চিত করাই এর কার্যকারিতার মূল শর্ত। তবে বাস্তবে সব ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মিলছে—এমন নয়। পুলিশও সব জিডি আমলে নিচ্ছে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইনে জিডি করার অভিজ্ঞতা
ঢাকার বাসিন্দা হাসিবুর রহমান বেসরকারি চাকরি করেন। তিনি বলেন, “মোবাইল হারানোর পর অনলাইনে জিডি করেছি। নম্বর পেয়েছি, কিন্তু পরে থানায় গিয়ে আবার কাগজ দেখাতে হয়েছে। সেটিও সমস্যা নেই। কিন্তু মোবাইলটি এখনও ফিরে পাইনি। হয়তো পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জিডির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা— সব ধরনের ঘটনার অভিযোগ অনলাইনে গ্রহণ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে থানায় উপস্থিত হয়ে যাচাই করতে বলা হয়। অনলাইন জিডিকে আরও কার্যকর করতে হলে থানাভিত্তিক ফলোআপ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অনলাইন জিডি ব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ে পুলিশের সাড়া দেওয়ার ওপর। তার মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ সহজ হয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জিডির পর থানাভিত্তিক ফলোআপ না হলে নাগরিক আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
তৌহিদুল ইসলাম মনে করেন, অনলাইন জিডিকে শুধু তথ্য গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তদন্ত, যাচাই ও প্রতিক্রিয়ার একটি সমন্বিত কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই ব্যবস্থার ওপর আস্থা তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন জিডি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি নাগরিক–পুলিশ সম্পর্ককে সহজ করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন— দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা। তাছাড়া অনলাইন জিডি কেবল একটি ডিজিটাল উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা, মারামারি, হত্যাকাণ্ডসহ যেকোনো ধরনের হুমকি বা কিছু হারিয়ে গেলে সাধারণ মানুষের দরকার পুলিশের সহায়তা। সাধারণত পুলিশের কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতার দরকার হলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হয়। তবে বর্তমানে এই সেবা সহজ করার জন্য অনলাইন সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।
ধরুন, আপনার মোবাইল ফোন কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়েছে বা আবার আপনি আপনার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বা আপনাকের কেউ হুমকি দিয়েছে, এখন আপনি কী করবেন? এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই আপনাকে আইনি সহায়তা নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। তবে সময়, দূরত্ব ও হয়রানির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ থানায় গিয়ে জিডি করতে আগ্রহ হারায়। আর এমন বাস্তবতাতেই শুরু হয়েছে অনলাইন জিডির ব্যবস্থা। তবে আলোচনার বিষয়— এটা কতটা কার্যকর হচ্ছে।
জিডি কী, আর কেন জরুরি
সাধারণ ডায়েরি বা জিডি কোনো মামলা নয়। এটি মূলত থানার নথিতে একটি ঘটনার লিখিত বিবরণ সংরক্ষণ। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জিডি হলো ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের একটি প্রাথমিক ভিত্তি। কোনো ঘটনা পরবর্তীতে অপরাধে রূপ নিলে বা ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণের প্রয়োজন হলে জিডি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষ করে হারানো কাগজপত্র, প্রতারণার আশঙ্কা, পারিবারিক বা সামাজিক বিরোধ, এমনকি রাজনৈতিক বা পেশাগত হুমকির ক্ষেত্রেও জিডি করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা।
থানাকেন্দ্রিক চাপ কমানো ও নাগরিকদের পুলিশ সেবায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা— মূলত এই দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ পুলিশ অনলাইনে জিডির ব্যবস্থা চালু করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “অনলাইনে জিডি চালুর ফলে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে থানায় ভিড় কমছে। পাশাপাশি নাগরিকরাও সহজে রেকর্ড রাখতে পারছেন।”
অনলাইনে জিডি কীভাবে করবেন
বাংলাদেশ পুলিশের “Online GD” মোবাইল অ্যাপ অথবা gd.police.gov.bd ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এখন ঘরে বসেই সাধারণ জিডি করা যায়। গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), সচল মোবাইল নম্বর ও লাইভ ছবির মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের সময় মোবাইল ফোনে পাঠানো ওটিপি (ভেরিফিকেশন নম্বর) দিয়ে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে অ্যাপে লগইন করে জিডির ধরন নির্বাচন করতে হবে, এরপর ঘটনা কোথায় ও কখন ঘটেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করে তথ্য সাবমিট করলে আবেদন হয়ে যাবে এবং যাচাই শেষে একটি ডিজিটাল জিডি কপি নাগরিকের কাছে চলে আসবে।
জিডি করতে কোনো ধরনের ফি লাগে না এবং প্রদত্ত সব তথ্য নির্ভুল হওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ জিডি পরবর্তীতে আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রয়োজন হলে হারানো বা প্রাপ্ত সামগ্রীর সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার সুযোগও রয়েছে। পুলিশ অভিযোগ যাচাই করে জিডির অনুমোদন দেয়। যদি অভিযোগটি আমলযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে, তাহলে আবেদনকারীকে এসএমএসের মাধ্যমে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে মামলা করতে হবে এবং পুলিশ তা তদন্ত করে বিচারের জন্য আদালতে পাঠায়।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে জিডি প্রক্রিয়া সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হলেও তথ্যের যথার্থতা ও ফলোআপ নিশ্চিত করাই এর কার্যকারিতার মূল শর্ত। তবে বাস্তবে সব ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মিলছে—এমন নয়। পুলিশও সব জিডি আমলে নিচ্ছে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইনে জিডি করার অভিজ্ঞতা
ঢাকার বাসিন্দা হাসিবুর রহমান বেসরকারি চাকরি করেন। তিনি বলেন, “মোবাইল হারানোর পর অনলাইনে জিডি করেছি। নম্বর পেয়েছি, কিন্তু পরে থানায় গিয়ে আবার কাগজ দেখাতে হয়েছে। সেটিও সমস্যা নেই। কিন্তু মোবাইলটি এখনও ফিরে পাইনি। হয়তো পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জিডির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা— সব ধরনের ঘটনার অভিযোগ অনলাইনে গ্রহণ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে থানায় উপস্থিত হয়ে যাচাই করতে বলা হয়। অনলাইন জিডিকে আরও কার্যকর করতে হলে থানাভিত্তিক ফলোআপ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অনলাইন জিডি ব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ে পুলিশের সাড়া দেওয়ার ওপর। তার মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ সহজ হয়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে জিডির পর থানাভিত্তিক ফলোআপ না হলে নাগরিক আস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
তৌহিদুল ইসলাম মনে করেন, অনলাইন জিডিকে শুধু তথ্য গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তদন্ত, যাচাই ও প্রতিক্রিয়ার একটি সমন্বিত কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই ব্যবস্থার ওপর আস্থা তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনলাইন জিডি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি নাগরিক–পুলিশ সম্পর্ককে সহজ করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন— দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা। তাছাড়া অনলাইন জিডি কেবল একটি ডিজিটাল উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।