Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

যেভাবে ভারতের অর্থনীতির ‘বড় ক্ষতি’ করছে বায়ুদূষণ

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩৮
যেভাবে ভারতের অর্থনীতির ‘বড় ক্ষতি’ করছে বায়ুদূষণ

প্রতি বছর এই মৌসুমে দিল্লিতে অল্প সময়ের জন্য এক মনোমুগ্ধকর আবহ তৈরি হয়। বসন্তের আগমনে বাগানগুলো ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, আর এক-দুই সপ্তাহের জন্য আকাশও নীল হয়ে ওঠে। প্রায় তিন কোটি মানুষের এই শহরে তখন অনেকেই মনে করেন, বিষাক্ত দূষণ যেন কিছুটা কমেছে, বাতাস আবার শ্বাস নেওয়ার মতো হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বাস্তবে তা নয়। দিল্লির বায়ুদূষণ সারা বছরের সমস্যা। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শহরটিতে একদিনও বাতাসের মান ‘ভালো’ হিসেবে রেকর্ড হয়নি। আর সরকার যে মানদণ্ডে ‘সন্তোষজনক’ বলে চিহ্নিত করে, সেই পর্যায়ে ছিল মাত্র ৬৫ দিন।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, সমস্যাটি ভৌগোলিকভাবেও বিস্তৃত হচ্ছে। উত্তর ভারতের বাইরে থাকা অনেকেই মনে করেন, অন্তত দিল্লির মতো খারাপ অবস্থা তাদের নয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পূর্ব ভারতের কলকাতা শহরের বিখ্যাত হাওড়া ব্রিজ প্রায়ই কুয়াশা ও ধোঁয়াশায় আড়াল হয়ে যায়। পশ্চিমের মুম্বাইয়ের পরিস্থিতিও একই। এমনকি তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার বাতাসের জন্য পরিচিত দক্ষিণ ভারতেও ক্ষুদ্র কণাদূষণ সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত করছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

ইকোনমিস্ট বলছে, ভারতে বায়ুদূষণ সংকট বিস্তারের পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মোটরযানের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি। দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট যানজট ও থেমে-থেমে চলাচল নির্গমন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশজুড়ে একের পর এক সড়কসহ নানা নির্মাণকাজে বিপুল পরিমাণ ধুলা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইটভাটাগুলো থেকেও অতিরিক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে দূষণ বাড়ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ঢাকার বাতাস কী কখনো ‘শুদ্ধ’ হবে না?dhaka-air-pollution3

ভারতে বায়ুদূষণের আর্থিক ও মানবিক মূল্য দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসাবিষয়ক ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের তথ্য অনুযায়ী, দূষিত বায়ুর কারণে প্রতিবছর দেশটিতে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতা গোপিনাথ বলেন, দূষণের অর্থনৈতিক প্রভাব মার্কিন শুল্কের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর। ২০১৯ সালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডালবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুদূষণের কারণে ভারতের বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতি জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ।

বিপরীতে, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক (যা পরে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়) ভারতের জিডিপি ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমিয়েছে। তবে শুল্ক আরোপের পরপরই নীতিগত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও দূষণের ক্ষেত্রে তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, ভারত সরকার বায়ুদূষণ সমস্যাকে খাটো করে দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেন, দূষণের সঙ্গে মৃত্যু ও রোগের সরাসরি সম্পর্কের কোনো তথ্য নেই। তিনি দাবি করেন, বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যপ্রভাব নানা উপাদানের সম্মিলিত ফল। ১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত সর্বশেষ বাজেটে দূষণ নিয়ন্ত্রণ খাতে বরাদ্দও কমানো হয়েছে।

ইকোনমিস্টের মতে, ধূমপানের সঙ্গে এর একটি তুলনা টানা যায়। ধূমপায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানেন, এটিও জানেন যে এটি ব্যয়বহুল অভ্যাস। কিন্তু এসব উদ্বেগ অনেক সময় বিমূর্ত থেকে যায়। একইভাবে, চোখে না দেখা অর্থনৈতিক ক্ষতি সহজেই উপেক্ষিত হয়। দূষণ সমস্যার সমাধান জটিল, এর সুফল দীর্ঘমেয়াদি এবং তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভও স্পষ্ট নয়, ফলে অগ্রাধিকার কম।

২৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ থাকবে চরম তাপমাত্রায়, বাংলাদেশের ক্ষতি কতটা?Heat

তবে বিমূর্ত অর্থনৈতিক উদ্বেগ এখন দৃশ্যমান ব্যবসায়িক প্রভাব হিসেবে সামনে আসছে। সাম্প্রতিক এক নথিতে খুচরা বিপণি প্রতিষ্ঠান শপার্স স্টপ গত বছরের শেষ দিকে ভোক্তাদের চলাচল ও ঐচ্ছিক ব্যয় কমে যাওয়ার জন্য দূষণকে দায়ী করেছে। একই সময়ে সুপারমার্কেট চেইন বিশাল মেগা মার্টের প্রধান নির্বাহী বলেন, উত্তর ভারতের বায়ুমান সমস্যা ভোগব্যয়ের প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে।

এদিকে, দূষণের ঝুঁকি উল্লেখ করে অনেক দেশই এখন ভারতে ভ্রমণ বিষয়ে নাগরিকদের সতর্কতা জারি করছে, যার প্রভাব পড়ছে পর্যটনখাতে। প্রতিবছর শীতকালে উত্তর ভারতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় শত শত ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

বায়ুদূষণের প্রভাব করপোরেট খাতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দক্ষ জনবল আকর্ষণ ও ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গত ডিসেম্বর একটি ওষুধ কোম্পানির ভারতীয় এক শীর্ষ নির্বাহী দিল্লির দূষণের কারণে পদত্যাগ করেন। একই কারণে অনেক বিদেশি নির্বাহীও ভারতে চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন। গত বছর সফররত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী ব্রায়ান জনসন খারাপ বায়ুমানের অভিযোগ তুলে একটি পডকাস্টের রেকর্ডিং মাঝপথে ছেড়ে যান।

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিসরেও অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। গত ডিসেম্বর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে একটি ক্রিকেট ম্যাচ ধোঁয়াশার কারণে বাতিল করতে হয়, বল দেখা যাচ্ছিল না। জানুয়ারিতে বিশ্বের শীর্ষ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের একজন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া ওপেন থেকে সরে দাঁড়ান, কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন খারাপ বায়ুমান। এজন্য তাকে ৫ হাজার ডলার জরিমানাও গুনতে হয়। যারা খেলেছেন, তারা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন।

ধূমপায়ীরা সাধারণত কবে অভ্যাস ছাড়েন? অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সামনে এলে। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা যখন হঠাৎ তীব্র ও ভয়াবহ রূপ নেয়, তখনই সিদ্ধান্ত বদলায়। ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এরকম পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দূষণ সরাসরি ভোগব্যয় ও প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এই বায়ুদূষণ। এরপরও যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আর কিছুতেই ভারত সরকারের বোধদয় হবে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা।

বিষয়: জলবায়ুবায়ুদূষণভারতবায়ু দূষণ
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।