তাসীন মল্লিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় এবার ভোটের ফল ঘোষণায় সময় বেশি লাগবে। সঙ্গে ডাকযোগে ফেরত আসা প্রবাসীদের ‘পোস্টাল ব্যালট’ গণনা ফলাফল ঘোষণা বিলম্বিত করতে পারে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ব্যালট গণনা শেষে অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা স্বীকার করে তিনি বলেছেন, বড় জোর শেষ রাত বা পর দিন ঘোষণা হতে পারে।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালটই ফলাফল ঘোষণা বিলম্বিত করবে জানিয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যেসব কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট থাকবে, সেখানে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
ইসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ১০ জানুয়ারি পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনায় কত সময় লাগে তা দেখতে একটি মহড়ার আয়োজন করা হয়। ওই মহড়ায় পোস্টাল ব্যালট গুনতে সময় লেগেছে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের বেশি। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গণনায় যেখানে ১ মিনিটের কম সময় লাগে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
গণনা হবে ৩ ধরনের ব্যালট
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ৩ ধরনের ব্যালট গুনবেন ভোটের কর্মকর্তারা। এরমধ্যে কেন্দ্র ও ‘পোস্টাল ব্যালটের’ খামে গণভোটের ব্যালটটি থাকছে অভিন্ন। গোলাপী কাগজের ওই ব্যালটে থাকছে গণভোটের প্রশ্ন এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার ছক।
তবে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট রয়েছে দুই ধরনের। প্রবাসের পোস্টাল ব্যালট পেপারে (ওসিভি) দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সব প্রতীক (নৌকা বাদ দিয়ে ১১৮টি প্রতীক ও ‘না’ ভোট) থাকবে। আর কেন্দ্রের ব্যালট এবং দেশের অভ্যন্তরের (আইসিপিভি) পোস্টাল ব্যালট পেপারে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে। ফলে ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগবে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান চরচাকে বলেন, ‘‘নরমাল ভোটিংয়ের চেয়ে পোস্টাল ব্যালটে সময় বেশি লাগবে, এটা হচ্ছে সাধারণ জ্ঞান। প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ও দেশের পোস্টাল ব্যালটের খামে দুটি করে ভোট। সব মিলিয়ে একটু সময় বেশি লাগাটাই স্বাভাবিক।’’
পোস্টাল ব্যালট গণনা যেভাবে
প্রবাসী ভোটারদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপার দেশে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ৪০০টি পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স রাখা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ইসি একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে।
পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কার্যক্রমের শুরুতেই রিটার্নিং অফিসার ব্যালট বাক্স সিল করার সময় প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিত থাকার জন্য নির্ধারিত দিন ও সময় উল্লেখ করে লিখিতভাবে জানাবেন। উপস্থিত সকলের সামনে প্রতিটি ব্যালট বাক্সে চারটি করে সিল বা লক লাগানো হবে এবং সিল ও বাক্সের নম্বর উচ্চস্বরে পড়ে শোনানো হবে। কোনো বাক্স পূর্ণ হলে সেটি পঞ্চম লক দিয়ে বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে।
ডাকযোগে পাওয়া পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন রিটার্নিং অফিসার। প্রতিটি খামের উপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যালটগুলো আসনভিত্তিক নির্ধারিত বাক্সে রাখা হবে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সফটওয়্যার থেকে ফরম-১২ অনুযায়ী বিতরণ ও প্রাপ্তির তালিকা তৈরি হবে, যা প্রতিদিন স্বাক্ষর করে সংরক্ষণ করা হবে। কোনো কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে শনাক্ত হলে সেই ব্যালট বাতিল হবে এবং খাম না খুলেই আলাদা করে রাখা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, খাম পাওয়ার পর কিউআর কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক। কেউ স্ক্যান না করেই ভোট পাঠালে সেটি শনাক্ত না হওয়ায় ব্যালট বাতিল হবে। ভোট গ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটই গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে; এর পর পাওয়া ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত কক্ষে। ফেরত খাম খুলে ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করা হবে। যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র থাকলেই ব্যালট বৈধ হিসেবে গণনা হবে। ঘোষণাপত্রে নাম বা এনআইডি না থাকলেও শুধু স্বাক্ষর থাকলে ব্যালট বৈধ হবে, তবে স্বাক্ষর না থাকলে ব্যালট বাতিল হবে। সব বৈধ ব্যালট আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক
ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আগেও ছিল। তবে এবার ব্যাপক আকারে হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় তুলনায় নতুন এই উদ্যোগ শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নানা অনিয়ম এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পোস্টাল ভোটিং। পোস্টাল ব্যালটের ভোটে কারচুপির চেষ্টার অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলো একে–অপরের দিকে তীর ছুড়ছে। এমনকি ব্যালটের নকশা ও প্রতীক বিন্যাস নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
চলতি জানুয়ারি মাসে বাহারাইন প্রবাসী এক জামায়াত নেতার বাসায় কয়েক শ পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বিএনপি এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। একই ধরনের আরও ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায় সৌদি আরবের জেদ্দা ও কুয়েত থেকে। এ ছাড়া প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্ন মার্কায় ভোট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করছেন প্রবাসীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিএনপি এবং জামায়াতের সঙ্গে এনিয়ে বৈঠকও করেছেন।
অনিয়ম ও কারচুপি-চেষ্টার ঘটনায় বিএনপি ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হচ্ছে বলে দাবি দলটির। আর জামায়াত বলেছে, প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
বিএনপি পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের ক্রমবিন্যাস নিয়েও অভিযোগ তুলেছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পেপারের ভাঁজে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক থাকায় সেটি ‘অস্পষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপরীতে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং এনসিপির প্রতীক রয়েছে ব্যালটের উপরের দিকে। যদিও ইসির দাবি, প্রতীক বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি চরচাকে বলেছেন, ‘‘পোস্টাল ব্যালট যদি ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে পুরো নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।”
পরিশেষে
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক স্তিমিত না হতেই আলোচনায় উঠে এসেছে ভোট গণনা দেরি হওয়ার বিষয়টি। ইসি বিভিন্ন সময় এক্ষেত্রে পোস্টাল ভোট গণনায় দেরি হবে বলে জানিয়েছে। অবশ্য কেবল পোস্টাল ভোটের কারণেই সামগ্রিক ভোট গণনায় দেরি হবে কিনা—সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য ইসির কাছ থেকে মেলেনি। তবে পোস্টাল ভোটের গণনা যে সেক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ হয়ে উঠতে চলছে, সেটি একপ্রকার নিশ্চিত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় এবার ভোটের ফল ঘোষণায় সময় বেশি লাগবে। সঙ্গে ডাকযোগে ফেরত আসা প্রবাসীদের ‘পোস্টাল ব্যালট’ গণনা ফলাফল ঘোষণা বিলম্বিত করতে পারে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ব্যালট গণনা শেষে অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা স্বীকার করে তিনি বলেছেন, বড় জোর শেষ রাত বা পর দিন ঘোষণা হতে পারে।
এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালটই ফলাফল ঘোষণা বিলম্বিত করবে জানিয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, যেসব কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট থাকবে, সেখানে আরও সময় প্রয়োজন হবে।
ইসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ১০ জানুয়ারি পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনায় কত সময় লাগে তা দেখতে একটি মহড়ার আয়োজন করা হয়। ওই মহড়ায় পোস্টাল ব্যালট গুনতে সময় লেগেছে ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের বেশি। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট গণনায় যেখানে ১ মিনিটের কম সময় লাগে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
গণনা হবে ৩ ধরনের ব্যালট
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ৩ ধরনের ব্যালট গুনবেন ভোটের কর্মকর্তারা। এরমধ্যে কেন্দ্র ও ‘পোস্টাল ব্যালটের’ খামে গণভোটের ব্যালটটি থাকছে অভিন্ন। গোলাপী কাগজের ওই ব্যালটে থাকছে গণভোটের প্রশ্ন এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার ছক।
তবে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট রয়েছে দুই ধরনের। প্রবাসের পোস্টাল ব্যালট পেপারে (ওসিভি) দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সব প্রতীক (নৌকা বাদ দিয়ে ১১৮টি প্রতীক ও ‘না’ ভোট) থাকবে। আর কেন্দ্রের ব্যালট এবং দেশের অভ্যন্তরের (আইসিপিভি) পোস্টাল ব্যালট পেপারে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে। ফলে ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যালট গণনায় স্বাভাবিকভাবেই সময় বেশি লাগবে।
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান চরচাকে বলেন, ‘‘নরমাল ভোটিংয়ের চেয়ে পোস্টাল ব্যালটে সময় বেশি লাগবে, এটা হচ্ছে সাধারণ জ্ঞান। প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ও দেশের পোস্টাল ব্যালটের খামে দুটি করে ভোট। সব মিলিয়ে একটু সময় বেশি লাগাটাই স্বাভাবিক।’’
পোস্টাল ব্যালট গণনা যেভাবে
প্রবাসী ভোটারদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপার দেশে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ৪০০টি পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্স রাখা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ, সংরক্ষণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ইসি একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে।
পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কার্যক্রমের শুরুতেই রিটার্নিং অফিসার ব্যালট বাক্স সিল করার সময় প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টদের উপস্থিত থাকার জন্য নির্ধারিত দিন ও সময় উল্লেখ করে লিখিতভাবে জানাবেন। উপস্থিত সকলের সামনে প্রতিটি ব্যালট বাক্সে চারটি করে সিল বা লক লাগানো হবে এবং সিল ও বাক্সের নম্বর উচ্চস্বরে পড়ে শোনানো হবে। কোনো বাক্স পূর্ণ হলে সেটি পঞ্চম লক দিয়ে বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা হবে।
ডাকযোগে পাওয়া পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন রিটার্নিং অফিসার। প্রতিটি খামের উপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যালটগুলো আসনভিত্তিক নির্ধারিত বাক্সে রাখা হবে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সফটওয়্যার থেকে ফরম-১২ অনুযায়ী বিতরণ ও প্রাপ্তির তালিকা তৈরি হবে, যা প্রতিদিন স্বাক্ষর করে সংরক্ষণ করা হবে। কোনো কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে শনাক্ত হলে সেই ব্যালট বাতিল হবে এবং খাম না খুলেই আলাদা করে রাখা হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, খাম পাওয়ার পর কিউআর কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক। কেউ স্ক্যান না করেই ভোট পাঠালে সেটি শনাক্ত না হওয়ায় ব্যালট বাতিল হবে। ভোট গ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটই গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে; এর পর পাওয়া ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
পোস্টাল ব্যালট গণনা হবে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত কক্ষে। ফেরত খাম খুলে ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করা হবে। যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র থাকলেই ব্যালট বৈধ হিসেবে গণনা হবে। ঘোষণাপত্রে নাম বা এনআইডি না থাকলেও শুধু স্বাক্ষর থাকলে ব্যালট বৈধ হবে, তবে স্বাক্ষর না থাকলে ব্যালট বাতিল হবে। সব বৈধ ব্যালট আলাদা করে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক
ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা আগেও ছিল। তবে এবার ব্যাপক আকারে হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় তুলনায় নতুন এই উদ্যোগ শুরুতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নানা অনিয়ম এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে পোস্টাল ভোটিং। পোস্টাল ব্যালটের ভোটে কারচুপির চেষ্টার অভিযোগে রাজনৈতিক দলগুলো একে–অপরের দিকে তীর ছুড়ছে। এমনকি ব্যালটের নকশা ও প্রতীক বিন্যাস নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
চলতি জানুয়ারি মাসে বাহারাইন প্রবাসী এক জামায়াত নেতার বাসায় কয়েক শ পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর, বিএনপি এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। একই ধরনের আরও ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায় সৌদি আরবের জেদ্দা ও কুয়েত থেকে। এ ছাড়া প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিভিন্ন মার্কায় ভোট দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করছেন প্রবাসীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বিএনপি এবং জামায়াতের সঙ্গে এনিয়ে বৈঠকও করেছেন।
অনিয়ম ও কারচুপি-চেষ্টার ঘটনায় বিএনপি ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হচ্ছে বলে দাবি দলটির। আর জামায়াত বলেছে, প্রবাসী জামায়াত নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
বিএনপি পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের ক্রমবিন্যাস নিয়েও অভিযোগ তুলেছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট পেপারের ভাঁজে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক থাকায় সেটি ‘অস্পষ্ট’ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপরীতে ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং এনসিপির প্রতীক রয়েছে ব্যালটের উপরের দিকে। যদিও ইসির দাবি, প্রতীক বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি চরচাকে বলেছেন, ‘‘পোস্টাল ব্যালট যদি ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা না করা হয়, তাহলে পুরো নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।”
পরিশেষে
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক স্তিমিত না হতেই আলোচনায় উঠে এসেছে ভোট গণনা দেরি হওয়ার বিষয়টি। ইসি বিভিন্ন সময় এক্ষেত্রে পোস্টাল ভোট গণনায় দেরি হবে বলে জানিয়েছে। অবশ্য কেবল পোস্টাল ভোটের কারণেই সামগ্রিক ভোট গণনায় দেরি হবে কিনা—সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য ইসির কাছ থেকে মেলেনি। তবে পোস্টাল ভোটের গণনা যে সেক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ হয়ে উঠতে চলছে, সেটি একপ্রকার নিশ্চিত।