ads

রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করা যায়?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করা যায়?
বঙ্গভবন। ছবি: রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠার পরপরই তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কয়েকটি সংগঠন। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পরেও শুক্রবার গণঅধিকার পরিষদের নেতা আবু হানিফ তার গ্রেপ্তার দাবি করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের খবর জানিয়ে যে সংবাদ সম্মেলন করেন, সেখানেও সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন। জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলার নাই। দেশের রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। এটা একটা সলেম অকেশন, লেট আস ডু ইট ফর হিম।”

Advertisement

সাহাবুদ্দিনের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।”

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোতেও স্বাক্ষর করতে হয়েছে তাকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি উঠেছিল। ওই সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে ‘অপমান’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের একটি বাংলা জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, না হলে পদত্যাগ করবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপিও তাকে সরানোর পথে হাঁটেনি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদে নজিরবিহীন ক্ষোভও প্রকাশ করে।

এরইমধ্যে গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন ওঠে, পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই গুঞ্জনের মধ্যেই গত পরশু বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসে ‘মঞ্চ-২৪’ নামের একটি সংগঠন।

আজ শুক্রবার সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পরপরই বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চও তার গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবদুল্লাহ জাবের বলেন, “শেখ হাসিনার গুম-খুনকে বৈধতা দিয়েছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তাকে অপসারণ করে বিচারের দাবি করা হলেও বিএনপি সরকার তা অগ্রাহ্য করেছে। আমরা চাই একজন গণহত্যার সহায়তাকারী হিসেবে তার বিচার করা হোক। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলন করেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যার জন্য জামায়াতে ইসলামী মামলা করবে কি না। জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, “যদি সে রকমের কোনো ক্রেডিবল আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করার দাবি উঠছে, তারপরই প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রপ্রধানকে তার কাজের জন্য গ্রেপ্তার করা যায় কি না? আইনে এ বিষয়ে কী বলা আছে?

দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানে রাষ্ট্রপতির কিছু দায়মুক্তি দেওয়া আছে। সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোনো কাজ করলে বা না করলে সেজন্য তাকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না। এখানে আরও বলা আছে, এই বিধানের ক্ষেত্রে ৫২ অনুচ্ছেদের কোনো ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

৫২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের বিধান আছে। গুরুতর অসদাচরণ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যায়।

সংবিধানের ৫১ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাবে না এবং তার গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য কোনো আদালত হতে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।

তবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব ছাড়ার পর কোনো অপরাধের জন্য তার কোনো দায়মুক্তি নেই।

সংবিধানে আরও একটি বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রশ্নের বাইরে রাখা হয়েছে। ৪৮ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি তার অন্য সব দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আদৌ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না এবং কী পরামর্শ দিয়েছেন, কোনো আদালত সেই সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের তদন্ত করতে পারবেন না।

সম্পর্কিত