পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন, পাবেন কীভাবে?

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন, পাবেন কীভাবে?

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি)— বিদেশে চাকরি, পড়াশোনা, অভিবাসন কিংবা বিভিন্ন ধরনের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বাধ্যতামূলক নথি। মূলত আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই—এই মর্মে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রত্যয়নপত্রই পিসিসি। বর্তমানে এই সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়, ফলে ঘরে বসেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট লাগে

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট একজন নাগরিকের অপরাধমূলক অবস্থান যাচাইয়ের সরকারি দলিল। বিদেশি দূতাবাস, আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তা কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর অতীত অপরাধসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করতে এই সনদ প্রয়োজন। সাধারণত বিদেশে চাকরি, স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট, ইমিগ্রেশন বা স্থায়ী বসবাসের (পিআর) আবেদনের ক্ষেত্রে এই সনদ প্রয়োজন হয়। এছাড়া দেশেও কিছু সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।

কীভাবে অনলাইনে আবেদন করবেন, ফি কত

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে হবে বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে pcc.police.gov.bd। প্রথমে ‘Apply for Police Clearance’ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে নিবন্ধন করতে হবে।

এই সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকা (ভ্যাটসহ)। ফি সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করতে পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি (ন্যূনতম ৩ মাস মেয়াদ থাকতে হবে), জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, সদ্য তোলা সত্যায়িত ছবি এবং চালান বা অনলাইন পেমেন্টের কপি আপলোড করতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের কপি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া

অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীর বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়। এ সময় আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানা ও অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করা হয়। পাসপোর্টে উল্লেখিত ঠিকানাকেই ভেরিফিকেশনের জন্য প্রাধান্য দেওয়া হয়।

কত দিনে পাওয়া যায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

সাধারণত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবস সময় লাগে। ঢাকাসহ যেকোনো মেট্রোপলিটন এলাকায় গড়ে সাত কর্মদিবস এবং জেলা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এই সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তবে কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে বা ভেরিফিকেশনে বিলম্ব হলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে। সার্টিফিকেট প্রস্তুতের সময় মূলত সংশ্লিষ্ট থানার ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার গতির ওপর নির্ভর করে।

সার্টিফিকেট সংগ্রহ ও শর্ত

ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আবেদনকারী অনলাইনে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারেন। প্রয়োজনে প্রিন্ট কপিও ব্যবহার করা যায়। সাধারণত এই সনদের বৈধতা ৬ মাস পর্যন্ত থাকে। তবে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড থাকলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় না। একইভাবে তথ্য ভুল বা তথ্য অসম্পূর্ণ হলে আবেদন বাতিল হতে পারে। ফলে আবেদন করার সময় ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমীর খসরু বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য কোনো ব্যক্তি আবেদন করার পর স্থানীয় থানা-পুলিশ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দূতাবাস থেকে তদন্ত করা হয়। ভেরিফিকেশন শেষে প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হলে একদিনের মধ্যেই সার্টিফিকেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

ডিসি মো. আমীর খসরু আরও বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনে বা কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে সেটিও আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তারা দ্রুত সমাধান করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ভুল আবেদন করার পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কোথায় যোগাযোগ করবেন

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংক্রান্ত তথ্য বা জটিলতায় যোগাযোগ করা যাবে— পিসিসি পোর্টালে pcc.police.gov.bd, বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েবসাইটে www.police.gov.bd। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলা বা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসন বিভাগে।

সম্পর্কিত