Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

করের ধাক্কায় শৃঙ্খলায় ফিরবে ‘বাংলার টেসলা’?

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ২১: ২৫
করের ধাক্কায় শৃঙ্খলায় ফিরবে ‘বাংলার টেসলা’?

ভোর পাঁচটা। কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট এলাকার একটি গ্যারেজে সারা রাত চার্জ হওয়া প্রায় ১০০টি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চালক রহমত আলী (৪২) গামছা দিয়ে রিকশা মুছতে মুছতে বলছিলেন, “শুনছি আমাদিগের নাকি টেক্স দেওয়া লাগবে। সরকার চাইলে টেক্স দেব, আপত্তি নেই। কিন্তু টেক্স দিলে কি পুলিশ আর পৌরসভার লোক আমাদিগের অবৈধ কয়ে ধরা বন্ধ করবে?”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রহমত আলীর এই সরল প্রশ্নটিই এখন অমীমাংসিত নীতি-নির্ধারণী বিতর্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলারের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এত দিন যে খাতটি আইনগতভাবে ‘অদৃশ্য’ কিন্তু বাস্তবে দেশের সড়ক পরিবহনের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন ছিল, তাকে করের জালে এনে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যুক্ত করার এই চেষ্টা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এক বড় সাহসী পদক্ষেপ। আবার মাঠপর্যায়ে এ এক জটিল ধাঁধাও বটে।

কেন এখন কর?

বাজেট দলিল ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রস্তাব বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজস্ব আদায়ের তাড়নার পাশাপাশি একটি বিশাল খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা রয়েছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, এর মূল লক্ষ্য, ‘একটি সুশৃঙ্খল ডাটাবেজ তৈরি’ এবং ‘অনিয়ন্ত্রিত যানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা’।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
করপোরেট কর কমানো সম্ভব না: এনবিআর চেয়ারম্যানnbr

অর্থনৈতিক ও পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এখানে করকে মূলত একটি ‘শনাক্তকরণ হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। অর্থাৎ, কোন রুটে কতটি গাড়ি চলছে, চালকের বৈধতা কী—এই বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করার জন্য কর আদায়ের প্রক্রিয়াকে একটি পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। সরকারের একাংশ মনে করছে, এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে চলা একটি অনানুষ্ঠানিক খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সহজ হবে।

নিষিদ্ধ, কিন্তু চলছেই

রিচার্জেবল ব্যাটারিচালিত হওয়ায় দেশে থ্রি হুইলার অটোরিকশা ও ইজিবাইককে অনেকেই আদর করে ‘বাংলার টেসলা’ বলে ডাকে। যার যেভাবে ইচ্ছা, যতটা ইচ্ছা এই টেসলা রাস্তায় নামানো হয়েছে। ফলে কেউ জানে না এই টেসলার প্রকৃত সংখ্যা কত! এর কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যের মধ্যে রয়েছে বড় ধরনের অমিল। তবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের ধারণা অনুযায়ী, দেশে এই যানের সংখ্যা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ।

সারা দেশে এই রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ (সাড়ে সাতশ মেগাওয়াট) ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ চার্জ হয় অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের মাধ্যমে। দেশে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে, যার কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও বিআরটিএ-এর খাতায় এগুলো দীর্ঘদিন ধরে ‘অননুমোদিত’ হলেও মফস্বল, পৌরসভা এমনকি রাজধানীর অলিগলিতে যাতায়াতের প্রধান বাহন এখন এগুলোই। এই দ্বৈত বাস্তবতা রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে। একদিকে আইনি নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে কোটি মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের নির্ভরতা-এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে খাতটি এক ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও রাজস্বের প্রশ্নে থ্রি হুইলার

এই অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি রাষ্ট্রের কতটা ক্ষতি বা উপকার করছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অঙ্ক কষা হচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কিছুদিন আগে এই খাতের একটি কাঠামোগত খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন।

ছবি: চরচা
ছবি: চরচা

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের দেওয়া তথ্যমতে, সারা দেশে এই রিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রতিদিন দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ (সাড়ে সাতশ মেগাওয়াট) ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ চার্জ হয় অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের মাধ্যমে। দেশে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে, যার কারণে সরকার প্রতি বছর প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

তবে, খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম একে ঢালাওভাবে বন্ধ করার পক্ষে নন। তাঁর ভাষ্যে, “এই যানগুলো আমাদের বোঝা নয়, কারণ সাধারণ মানুষ এগুলো ব্যবহার করছে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পুরো অটোরিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে। গ্যারেজ মালিকদের লাইসেন্স ও মনিটরিংয়ের আওতায় এনে নির্দিষ্ট সংখ্যায় এটিকে রেগুলেট (নিয়ন্ত্রণ) করতে হবে। কর আরোপ করতে হলে অবশ্যই ব্যাটারিচালিত রিকসাগুলোকে রেগুলেট করতেই হবে। একে নেতিবাচকভাবে দেখা ঠিক হবে না।”

জ্বালানির চুরি থামবে?

ব্যাটারিচালিত রিকশায় রাজস্ব ক্ষতির খতিয়ানকে জ্বালানি নিরাপত্তার চশমায় একটু ভিন্নভাবেও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, “কর আরোপের আগে অটোরিকশা খাতকে একটি কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। এর ফলে যে ডাটাবেজ তৈরি হবে তার ভিত্তিতে প্রকৃত বিদ্যুতের চাহিদা নিরূপণ করা যাবে। সে অনুযায়ী চার্জিং স্টেশনসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো তৈরি করা গেলে বিদ্যুৎ বিতরণ ও চুরির সিন্ডিকেটকে নিষ্ক্রিয় করা সহজ হবে।”

প্রতিদিন যত সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে তার ২০ থেকে ২৫ শতাংশের জন্য দায়ী এসব ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার। এগুলোর কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ দিন দিন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই অবৈধভাবে চলাচলকারী অনেক রিকশাকে ডাম্পিং করেও এদের থামানো যাচ্ছে না।

ম. তামিমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যানগুলো সাধারণত রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চার্জ হয়, যা বিদ্যুতের ‘অফ-পিক আওয়ার’ (যখন চাহিদা সর্বনিম্ন থাকে)। অলস বসে থাকা বিদ্যুতের এই বাণিজ্যিক ব্যবহার বিদ্যুৎ খাতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারত, যদি বিদ্যুৎ বিল সঠিকভাবে আদায় করা যেত। তাই সমস্যা বিদ্যুৎ ব্যবহারে নয়, সমস্যা বিদ্যুৎ চুরিতে।

এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, বাজেটে শুধু কর বসালেই হবে না, এই যানগুলোকে বৈধতা বা নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে ‘লিথিয়াম-আয়ন’ ব্যাটারির মতো সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বৈধ বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশন স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে করে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয়।

যানজটের কী হবে?

ব্যাটারিচালিত রিকশাকে সড়কে যানজটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণ মানুষ বা পুলিশ, সবাই এক্ষেত্রে একমত।  

ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের কারণে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান চরচা’কে বলেন, “প্রতিদিন যত সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে তার ২০ থেকে ২৫ শতাংশের জন্য দায়ী এসব ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার। এগুলোর কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ দিন দিন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই অবৈধভাবে চলাচলকারী অনেক রিকশাকে ডাম্পিং করেও এদের থামানো যাচ্ছে না।”

কর আরোপের ফলে এই ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো এক ধরনের আইনি বৈধতা পাবে বলেই ধারণা। কর আরোপে কী ধরনের সুফল আসতে পারে, এমন প্রশ্নে সরাসরি কোন মন্তব্য না করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, “সরকার নিশ্চয়ই বুঝেশুনেই সিদ্ধান্ত নেবে।”

কর বসিয়ে পরোক্ষ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধিতাও করছেন অনেকে। তাদের একজন বুয়েটের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক। তিনি মনে করেন, ছোট গাড়ির আধিক্য শহরগুলোকে স্থবির করে দিচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি হলো যেন কেবল স্থানীয় সরকারের আয় না বাড়িয়ে এই বিশাল খাতকে একটি সুশৃঙ্খল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত করা হয়। এই কর আদায়কে জাতীয় রাজস্বের সাথে যুক্ত করারও দাবি জানান তিনি।

এম শামসুল হক সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি ছোট ছোট গাড়িগুলোকে ঢালাওভাবে জায়গা করে দিতে থাকি, তাহলে শহর থেকে কোনো দিন যানজট যাবে না। যত দিন এসব রিকশাপ্রধান সড়কে চলবে, ততদিন ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা বাড়তেই থাকবে।” তবে মাঠের বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে তিনি শাখা সড়ক বা অলিগলিগুলোতেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।

চালক-মালিকের যত চিন্তা

বিশেষজ্ঞদের অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে মাঠের সমীকরণ একেবারেই আলাদা। ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইক চালকদের অনেকে বলছেন, তারা কর দিতে নীতিগতভাবে রাজি, যদি এর বিনিময়ে সড়কে মাথা উঁচু করে চলার আইনি নিশ্চয়তা পান। তারা স্থানীয় চাঁদাবাজ আর পুলিশকে ‘টাকা না দিয়ে’ সরাসরি সরকারের কোষাগারে কর দিতে চান। কিন্তু কর দেওয়ার পরও পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাম্পিং কিংবা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে কি না—এই প্রশ্ন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাটারিচালিত রিকশাকে রাজস্বের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম। চরচাকে তিনি বলেন, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ১২ দফা দাবিরই একটি অংশ। তবে, বিআরটিএ-এর মতো যথাযথ কাঠামোর অধীনে না এনে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে এটি একটি ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করবে বলেও সতর্ক করেন এই শ্রমিক নেতা।

রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর আরোপের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। আরিফুল ইসলাম নাদিম বলেন, শ্রমিকদের দাবি হলো যেন কেবল স্থানীয় সরকারের আয় না বাড়িয়ে এই বিশাল খাতকে একটি সুশৃঙ্খল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির মূল ধারায় যুক্ত করা হয়। এই কর আদায়কে জাতীয় রাজস্বের সাথে যুক্ত করারও দাবি জানান তিনি।

আবার রিকশাচালকদের আতঙ্ক অন্য জায়গায়। কর বসানো হচ্ছে মালিকদের ওপর, কিন্তু মাঠের কঠোর বাস্তবতায় এই করের খরচ তুলতে মালিকরা যদি দৈনিক জমা বা রিকশা ভাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেন, তবে এই করের বোঝা গিয়ে পড়বে চালকদের ঘাড়েই। আর চালকেরা স্বাভাবিভাবেই সেটি যাত্রীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়তো করবেন। ফলে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকেই। কিন্তু উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করাটা কতটুকু সফল হবে, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।

সমীকরণ জটিল, সমাধানই চ্যালেঞ্জ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব মূলত বাংলাদেশের একটি বিশাল অনানুষ্ঠানিক পরিবহন খাতকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আনার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চেষ্টা। এটি কেবল সরকারের খাতায় কিছু রাজস্ব বাড়ানোর গল্প নয়; এটি একটি বিশাল ‘অদৃশ্য অর্থনীতিকে’ দৃশ্যমান করার লড়াই।

নীতিমালার খসড়া এবং সড়কের বাস্তবতার মধ্যে ফারাক অনেক। খুব স্বাভাবিকভাবেই কর আদায়ের মধ্য দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা এক ধরনের বৈধতা পেয়ে যাবে। তখন সড়কে বাংলার টেসলার সংখ্যা আরও বেড়েও যেতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে যানজট কীভাবে সামলানো হবে, ওই বিষয়ে এখনও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা কিন্তু মেলেনি।

তাই সড়কে সৃষ্টি হতে পারে হ–য–ব–র–ল একটি পরিস্থিতি। সরকারের নতুন উদ্যোগ চালকদের জন্য নতুন বোঝা আর উচ্ছেদের নতুন হাতিয়ারেও পরিণত হতে পারে। আর যাত্রীদের পকেট কাটার শঙ্কা তো আছেই। তাই করের আওতা বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং মাঠের জটিল চিত্রের মধ্যে ভারসাম্য আনা খুবই জরুরি। নইলে হয়তো সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বদলে উল্টো সব জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যেতে পারে!

বিষয়: রিকশাচালকট্যাক্সরিকশাকরসরকারঅটোরিকশাগাড়িআইনবিআরটিএ
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড

  • বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর কথা মনে আছে? আগে বলে নেওয়া দরকার সফট ল্যান্ডিং কী? ‘সফট ল্যান্ডিং’ বলতে বোঝায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রিত ও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, যাতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, কিন্তু অর্থনীতিতে মন্দা দেখা না দেয় বা বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি না হারান।