ads

আন্দোলনের চাপ বাড়ছেই, কী করবেন মোদি?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আন্দোলনের চাপ বাড়ছেই, কী করবেন মোদি?
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো মানুষের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভের দুই দিন পর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্ল্যাকার্ড হাতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকদের অবস্থান। ২২ জুলাই ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার দেশটির পার্লামেন্টের (লোকসভা) বাইরে বিক্ষোভ করেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। পরে তারা সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশি সহিংসতা নিয়ে আলোচনার দাবি জানালে অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি করতে হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

গত মাসে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেওয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন চলতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তরুণদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

গত সোমবার নয়াদিল্লির রাস্তায় কয়েক হাজার তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।

আজ বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনের বাইরে জড়ো হন। তাদের অনেকেই কালো পোশাক পরেছিলেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ বিক্রির জন্য নয়” এবং “জীবন বাঁচান, নিট বন্ধ করুন”। তারা প্রধানমন্ত্রী মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী প্রধানের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন।

সংসদে প্রবেশের পর বিরোধী আইনপ্রণেতারা শিক্ষার্থী বিক্ষোভে কথিত পুলিশি সহিংসতা এবং প্রশ্নফাঁস নিয়ে আলোচনা দাবি করেন। এতে অধিবেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে মোদি ও ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনায় রাজি।

এর আগে মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস মোদির সরকারি বাসভবনের প্রবেশপথের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভ প্রত্যাহার না করায় পুলিশ রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং বিরোধী জোটের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আটক করে। পরে মঙ্গলবার রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। প্রথমটি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এ মুহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো— যারা শিক্ষার্থীদের দিকে আঙুল তুলেছে, যারা তাদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছে এবং হামলা চালিয়েছে তাদের উভয়কে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

ভারতে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে আন্দোলন

নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে পরিচয় দেওয়া আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে। শুরুতে এতে মাত্র কয়েকশ তরুণ অংশ নিলেও এখন তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

আজ বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তর বিক্ষোভস্থলে এক হাজারের বেশি আন্দোলনকারী জড়ো হন। তারা স্লোগান দেন, জাতীয় পতাকা বহন করেন এবং হালকা বৃষ্টির মধ্যেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবারের পর সিজেপির নেতারা সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

এদিকে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।

দিল্লির বাইরে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, গোয়া, গুয়াহাটি, তিরুবনন্তপুরম, জম্মু ও আহমেদাবাদেও তরুণ ও বিরোধী দলগুলোর উদ্যোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করা শুধু সরকারের নয়, বরং পুরো জাতির দায়িত্ব।

সম্পর্কিত