Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

মামদানি: মানুষ রায় দিয়েছে, এবার কাজ শুরুর সময়

মাসুদ মোভাহেদ

মাসুদ মোভাহেদ

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ৪৬
মামদানি: মানুষ রায় দিয়েছে, এবার কাজ শুরুর সময়

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব বিজয় এনে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী অঙ্গরাজ্যের তরুণ আইনপ্রণেতা জোহরান মামদানি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জোরালো সমর্থন পেয়েছিলেন–তাকে হারিয়ে মামদানি ইতিহাস গড়েছেন। এছাড়া তিনি শহরের প্রথম মুসলিম অভিবাসী মেয়র ও শত বছরে সবচেয়ে কমবয়সী নেতা। তার এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে–বিশেষ করে সেই প্রগতিশীল তরুণদের মাঝে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনীতিতে হতাশ ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন প্রচারে মামদানি হাত বাড়িয়েছেন আফ্রিকান-আমেরিকান, মুসলিম, ইহুদি, হিন্দু, পূর্ব আফ্রিকান ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষের দিকে। বিশেষ করে সেই তরুণদের দিকে যারা ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্বল পারফরম্যান্সে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। মামদানি তাদের আবার সক্রিয় করেছেন, ফিরিয়ে এনেছেন ভোটের রাজনীতিতে।

জোহরান মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকার: ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ, সবার জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা, দ্রুত ও বিনামূল্যের বাস ব্যবস্থা চালু করা এবং ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সার্বজনীন ও বিনামূল্যের সেবা-যত্ন–শহরজুড়ে বৈপ্লবিক এক ভাষ্য তৈরি করেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর সমাজতান্ত্রিক সংগঠক ইউজিন ডেবসের পর এমন সমতা-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভাষ্য আমেরিকান মূলধারায় খুব কমই দেখা গেছে।

জোহরান মামদানি: আমেরিকায় এক নতুন মানবিক রাজনীতির প্রতীকzohran-3

টেলিভিশনে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ বলতে কী বোঝায়–জিজ্ঞাসা করা হলে মামদানি উত্তরে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কথা উদ্ধৃত করেন। সেটা অনেককেই চমকে দিয়েছে। “কিং বলেছিলেন–এটি গণতন্ত্র বলুন বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র, ঈশ্বরের সন্তানেরা যাতে সঠিকভাবে সম্পদের ভাগ পায়, সেই ব্যবস্থাই মূল লক্ষ্য।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কিন্তু বাস্তবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? বহু মানুষের কাছে ‘সমাজতন্ত্র’ মানেই সোভিয়েত যুগের সেই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অদক্ষ, কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি–যেখানে সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা ও মানবিক বিকাশের জায়গা ছিল খুবই কম। অথচ সোভিয়েত ব্যবস্থা সমাজতন্ত্র ছিল না–বরং সত্যিকার অর্থেই ছিল ‘রাষ্ট্রবাদ’–যেখানে অর্থনীতির সব নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক ক্ষমতাবান আমলাদের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।

কার্ল মার্কসের ব্যাখ্যায় সমাজতন্ত্র দাঁড়ায় দুটি মূলনীতির ওপর:

১) শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা–যাতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে মতামত দিতে পারে।

২) কাজের সময় কমিয়ে মানুষের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ বাড়ানো–যা পুঁজিবাদ আজও দিতে ব্যর্থ।

কিন্তু ১৯ ও ২০ শতকের সমাজতান্ত্রিক পরীক্ষাগুলো এসব মানবিক নীতির ধারেকাছেও ছিল না। সোভিয়েত রাষ্ট্রতন্ত্র শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল দুর্নীতিগ্রস্ত, জনবিচ্ছিন্ন ও দমনের যন্ত্রে। ফলে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি পরিণত হয়েছে ব্যর্থতার প্রতীকে, যদিও তার মূল দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দিকে।

ট্রাম্প-মামদানির বৈঠকে সৌহার্দ্যের বার্তাzohran mamdani reuters

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র আসলে এই ধারণাকেই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা–অর্থনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা। এখানে বাজারব্যবস্থা থাকে, তবে উৎপাদন ও সম্পদের মালিকানা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়। এর লক্ষ্য বাজার বিলোপ নয়, বরং বাজারকে জনগণের জবাবদিহির আওতায় আনা–যাতে অর্থনীতির ফলাফল প্রতিফলিত হয় সমাজের যৌথ মূল্যবোধে, কেবল ধনী গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।

পুঁজিবাদ প্রবৃদ্ধি আনলেও তা মানুষের বিশাল এক অংশকে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও অসমতার মধ্যে ফেলে রাখে। ‘পছন্দের স্বাধীনতা’, যা পুঁজিবাদ গর্বের সঙ্গে প্রচার করে–বাস্তবে এক সীমিত স্বাধীনতা মাত্র। প্রকৃত স্বাধীনতা–যা মানুষের জীবনচয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। তা পুঁজিবাদের বৈষম্যপূর্ণ সমাজ কাঠামোতে সবার নাগালে থাকে না।

প্রথম দিনের লাঞ্চে কী বার্তা দিলেন জোহরানmamdani-food

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র তাই সমতার পাশাপাশি প্রকৃত স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়। মামদানির নীতি–ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, বিনামূল্যের বাস, সার্বজনীন শিশুযত্ন–এসব মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করার উপায়। যখন আয়ের বেশির ভাগটাই ভাড়ায় চলে যায়, তখন স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। বাসস্থানের নিশ্চয়তা মানুষকে মর্যাদা দেয়, ভবিষ্যৎ ভাবতে সাহায্য করে। বিনামূল্যের বাসব্যবস্থা শহরজুড়ে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ায়। আর শিশুযত্নকে সামাজিক দায়িত্বে পরিণত করলে নারীরা বিশেষভাবে মুক্তি পায়–কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও জনজীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

এই নীতিগুলো স্বাধীনতাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে, যাতে ধনীদের সীমাহীন সম্পদ সঞ্চয়ের স্বাধীনতা নয়, বরং থাকে সবার নিরাপত্তা, সুযোগ ও মর্যাদার স্বাধীনতা।

আজকের পুঁজিবাদী বিশ্বে নর্ডিক দেশগুলো যেমন: নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড–গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আদর্শের সবচেয়ে কাছে রয়েছে। সেখানে শ্রমজীবী মানুষের শক্ত ভূমিকাই সামাজিক নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানেও সম্পদের বৈষম্য রয়ে গেছে, যা দেখায় যে প্রকৃত রূপান্তরের পথ এখনো অসম্পূর্ণ।

জোহরান মামদানির বিজয় তাই নতুন দিগন্তের আশা দেখায়। কঠোর ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের মাঝেও তার জয় প্রমাণ করে–মানুষ এখনো ন্যায়, সমতা ও মর্যাদার রাজনীতিকে মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচন কেবল শুরু। সামনে আরও কঠিন কাজ–প্রতিশ্রুতিকে নীতিতে রূপান্তর, আশাকে বাস্তব পরিবর্তনে পরিণত করা।

মানুষ রায় দিয়েছে। এবার কাজ শুরু করার সময়।

**আল জাজিরায় প্রকাশিত লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।**

মাসুদ মোভাহেদ: সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারা।

বিষয়: আমেরিকাসমাজতান্ত্রিকগণতন্ত্রনিউইয়র্কমেয়র
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড

  • বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    বিশ্বজুড়ে ফিরেছে মূল্যস্ফীতি?

    ‘সফট ল্যান্ডিং’-এর কথা মনে আছে? আগে বলে নেওয়া দরকার সফট ল্যান্ডিং কী? ‘সফট ল্যান্ডিং’ বলতে বোঝায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রিত ও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, যাতে মূল্যস্ফীতি কমে আসে, কিন্তু অর্থনীতিতে মন্দা দেখা না দেয় বা বিপুলসংখ্যক মানুষ চাকরি না হারান।