ইয়াসিন আরাফাত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সফরকে পুরোপুরি শূন্য হাতে ফেরা বলে অভিহিত করেছে, আবার অন্য অংশের মতে এটি সম্পূর্ণ শূন্য নয়, তবে প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম।
সফরের মূল ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, ট্রাম্প সবচেয়ে বড় যে সাফল্যের কথা প্রচার করছেন তা হলো বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি চুক্তি। তার দাবি অনুযায়ী চীন আমেরিকার কাছ থেকে দুই শত বিমান কিনবে এবং ভবিষ্যতে আরও সাড়ে সাত শত বিমান কেনার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাও এই চুক্তি নিশ্চিত করেছে, যাকে প্রায় এক দশক পর চীনা বাজারে আমেরিকার একটি বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সয়াবিন, বিভিন্ন কৃষিপণ্য এবং তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির কথাও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টি তদারকি করবে। তবে এই চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো জোরালোভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো কেবল ট্রাম্পের দাবি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে গণমাধ্যমে এসেছে।
অন্যদিকে কৌশলগত ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে বড় ধরনের কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি বা ব্রেকথ্রু লক্ষ্য করা যায়নি। ইরান পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালী সংকট, তাইওয়ান ইস্যু, চিপসসহ উন্নত প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং শুল্ক যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দুই দেশ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট ইরান ইস্যুতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই সফরকে প্রত্যাশিত ফলাফলের চেয়ে অনেক কম বা সংক্ষিপ্ত হিসেবে বর্ণনা করছে।
এই সফরকে শূন্য হাতে ফেরা বলার পেছনে মূলত কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মতো এবার কোনো বড় কাঠামোগত বা চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি। দ্বিতীয়ত, চীনের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই বেইজিং মূলত কৌশলগতভাবে সময়ক্ষেপণ করতে চাইছে। তৃতীয়ত, তাইওয়ান ও প্রযুক্তি লড়াইয়ের মতো নিজেদের মূল জাতীয় স্বার্থের জায়গাগুলোতে বেইজিং কোনো ছাড় দেয়নি। তবে এত কিছুর পরও এই সফরকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলা চলে না, কারণ এর মাধ্যমে দুই দেশের বৈরী সম্পর্কে এক ধরণের সাময়িক স্থিতিশীলতা এসেছে।
ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে একজন মহান নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং আগামী সেপ্টেম্বরে তাকে ওয়াশিংটনে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুই পক্ষই আপাতদৃষ্টিতে এই সফরকে সফল বলে অভিহিত করেছে, যদিও তাদের ভেতরের বর্ণনায় অনেক অমিল রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এই সফরটি ট্রাম্পের নিজস্ব নীতি ও ঘরানার সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বরাবরের মতোই ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতির চেয়ে বাণিজ্যিক লাভকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন এবং পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চেয়েছেন। চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, তারা ট্রাম্পকে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়ানোর জন্য মূল্যবান সময় পেয়ে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কোনো স্থায়ী বা ঐতিহাসিক চুক্তির পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থির স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে, যেখানে উভয় পক্ষই যুদ্ধ এড়াতে চায় কিন্তু পর্দার আড়ালের মূল প্রতিযোগিতা ঠিকই জারি রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চীন থেকে একেবারে খালি হাতে ফিরে আসেননি। বিমান চুক্তি, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি মার্কিন শিল্প খাতের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু শুল্ক, প্রযুক্তি এবং ইরানের মতো ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে তার বড় বড় প্রত্যাশাগুলো অনেকাংশেই অপূর্ণ রয়ে গেছে। এই সফরটি ট্রাম্পের একজন দক্ষ চুক্তি প্রস্তুতকারক ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লাভের বিচারে এর ফলাফল বেশ মিশ্র। এই প্রতিশ্রুতিগুলো ভবিষ্যতে কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য বোর্ড কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সফরের আসল মূল্যায়ন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, গার্ডিয়ান, এপি, দ্য আটলান্টিক কাউন্সিল, বিবিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর শেষ হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই সফরকে পুরোপুরি শূন্য হাতে ফেরা বলে অভিহিত করেছে, আবার অন্য অংশের মতে এটি সম্পূর্ণ শূন্য নয়, তবে প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম।
সফরের মূল ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, ট্রাম্প সবচেয়ে বড় যে সাফল্যের কথা প্রচার করছেন তা হলো বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি চুক্তি। তার দাবি অনুযায়ী চীন আমেরিকার কাছ থেকে দুই শত বিমান কিনবে এবং ভবিষ্যতে আরও সাড়ে সাত শত বিমান কেনার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাও এই চুক্তি নিশ্চিত করেছে, যাকে প্রায় এক দশক পর চীনা বাজারে আমেরিকার একটি বড় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সয়াবিন, বিভিন্ন কৃষিপণ্য এবং তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জ্বালানি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির কথাও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টি তদারকি করবে। তবে এই চুক্তিগুলোর বিস্তারিত তথ্য চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো জোরালোভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো কেবল ট্রাম্পের দাবি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে গণমাধ্যমে এসেছে।
অন্যদিকে কৌশলগত ও রাজনৈতিক ইস্যুগুলোতে বড় ধরনের কোনো যুগান্তকারী অগ্রগতি বা ব্রেকথ্রু লক্ষ্য করা যায়নি। ইরান পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালী সংকট, তাইওয়ান ইস্যু, চিপসসহ উন্নত প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এবং শুল্ক যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে দুই দেশ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট ইরান ইস্যুতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই সফরকে প্রত্যাশিত ফলাফলের চেয়ে অনেক কম বা সংক্ষিপ্ত হিসেবে বর্ণনা করছে।
এই সফরকে শূন্য হাতে ফেরা বলার পেছনে মূলত কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মতো এবার কোনো বড় কাঠামোগত বা চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি। দ্বিতীয়ত, চীনের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই বেইজিং মূলত কৌশলগতভাবে সময়ক্ষেপণ করতে চাইছে। তৃতীয়ত, তাইওয়ান ও প্রযুক্তি লড়াইয়ের মতো নিজেদের মূল জাতীয় স্বার্থের জায়গাগুলোতে বেইজিং কোনো ছাড় দেয়নি। তবে এত কিছুর পরও এই সফরকে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলা চলে না, কারণ এর মাধ্যমে দুই দেশের বৈরী সম্পর্কে এক ধরণের সাময়িক স্থিতিশীলতা এসেছে।
ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে একজন মহান নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন এবং আগামী সেপ্টেম্বরে তাকে ওয়াশিংটনে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুই পক্ষই আপাতদৃষ্টিতে এই সফরকে সফল বলে অভিহিত করেছে, যদিও তাদের ভেতরের বর্ণনায় অনেক অমিল রয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এই সফরটি ট্রাম্পের নিজস্ব নীতি ও ঘরানার সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বরাবরের মতোই ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতির চেয়ে বাণিজ্যিক লাভকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন এবং পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চেয়েছেন। চীনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, তারা ট্রাম্পকে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজেদের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়ানোর জন্য মূল্যবান সময় পেয়ে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কোনো স্থায়ী বা ঐতিহাসিক চুক্তির পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে একটি অস্থির স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে, যেখানে উভয় পক্ষই যুদ্ধ এড়াতে চায় কিন্তু পর্দার আড়ালের মূল প্রতিযোগিতা ঠিকই জারি রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চীন থেকে একেবারে খালি হাতে ফিরে আসেননি। বিমান চুক্তি, কৃষিপণ্য ও জ্বালানি ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি মার্কিন শিল্প খাতের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু শুল্ক, প্রযুক্তি এবং ইরানের মতো ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে তার বড় বড় প্রত্যাশাগুলো অনেকাংশেই অপূর্ণ রয়ে গেছে। এই সফরটি ট্রাম্পের একজন দক্ষ চুক্তি প্রস্তুতকারক ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লাভের বিচারে এর ফলাফল বেশ মিশ্র। এই প্রতিশ্রুতিগুলো ভবিষ্যতে কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য বোর্ড কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সফরের আসল মূল্যায়ন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, গার্ডিয়ান, এপি, দ্য আটলান্টিক কাউন্সিল, বিবিসি

কিউবা বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্যদিকে খাদ্যসংকট ও জনরোষ। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের গোয়েন্দা প্রধান জন র্যাটক্লিফের হাভানা সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।