নেপালে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের এক বছর পেরিয়েছে। গতবছর এ সময় সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজারো নেপালি তরুণ-তরুণী। বিক্ষোভ দমাতে সরকার কারফিউ জারি করে, অনেককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হন।
তবে সরকারের এসব পদেক্ষেপের ফল হয় উল্টো। আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। এরপর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় বসে।
বর্তমানে দেশটির আকস্মিক বন্যার ভয়াবহতা মোকাবিলা করছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে–গত এক বছরে নেপালে কী বদলেছে এবং জেন-জি আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো কতটা পূরণ হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বিষয়টি উঠে এসেছে।
গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশের একের পর এক দুর্নীতির ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের সন্তানদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করায় তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে।
তার আগে ‘ক্ষতিকর’ কনটেন্টের অভিযোগে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স ও টিকটকসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল নেপাল সরকার। সব মিলিয়ে ক্ষোভে ফেটে পরে তরুণরা।
বিক্ষোভ শুরুর পর সরকার কারফিউ জারি করে। অনেক তরুণ সেই কারফিউ অমান্য করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে অন্তত ৭৬ জন নিহত হন। শত শত মানুষ আহত ও গ্রেপ্তার হন। বিক্ষোভকারীরাও পার্লামেন্ট ভবনসহ কয়েকটি সরকারি স্থাপনায় আগুন দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। ছবি: রয়টার্স
পর দিন, ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এক সপ্তাহের মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে চলতি বছরের মার্চে ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
বালেন্দ্র শাহ রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জেন-জি আন্দোলনের পর গড়ে ওঠা এই নতুন দল গত মার্চের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে জেতে।
আল জাজিরা বলছে, বালেন্দ্র শাহ সরাসরি আন্দোলনের সংগঠক না হলেও, তিনি তরুণদের ক্ষোভকে নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় কাজে লাগিয়ে অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন।
জেন-জি আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি কী ছিল?
তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল–
দুর্নীতি বন্ধ করা: আন্দোলনকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতি বন্ধ, সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি করেন। পাশাপাশি স্বজনপ্রীতি বন্ধেরও দাবি ছিল।
গণহারে পদত্যাগ ও সাময়িক বরখাস্ত: আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগ এবং এমপিদের গণপদত্যাগের দাবি করেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া কর্মকর্তাদেরও দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি ছিল।
রাজনৈতিক পরিবর্তন: তারা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং নতুন জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেন।
এসব দাবি কি পূরণ হয়েছে?
আল জাজিরার বিশ্লেষণ বলছে, আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে। জেন-জি আন্দোলনের পর কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। তার সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও পদ ছাড়েন। পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং চলতি বছরের মার্চে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নেপালের পোখারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক যোগ রাজ লামিছানে বলেন, আন্দোলনে অনেক মানুষ ও সম্পদের ক্ষতি হলেও অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজন করতে পেরেছে। নির্বাচনের ফল পুরনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের অসন্তোষের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে।
চলতি বছরের মার্চে নেপাল পুলিশ গত বছরের আন্দোলনে দমন-পীড়নের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করে। তবে এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা এখনো তদন্তের আওতায় আছেন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
তবে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতির বিষয়টি এখনো তেমনভাবে সমাধান হয়নি বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালেচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক দিনেশ পাওডেল বলেন, গত বছর তরুণরা যেসব সমস্যা ও দাবি সামনে এনেছিলেন, সেগুলো এখনো একই রয়ে গেছে। নতুন সরকার এলেও সরকারের কাজের ধরনে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। কিছু ছোটখাটো বিষয়ে শুধু জনপ্রিয় হওয়ার মতো বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনে কি কোনো পার্থক্য হয়েছে?
আল জাজিরা বলছে, আন্দোলনের কিছু তরুণ নেতা এখন সংসদ ও সরকারের বিভিন্ন পদে আছেন। অন্যরা এখনো আন্দোলন ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে। কারণ, পুরনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা সমঝোতা করা উচিত, তা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। মার্চের নির্বাচনে জয়ী তরুণ পার্লামেন্টের সদস্যদের বেশির ভাগই আরএসপির সদস্য।
নেপালের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কনটেম্পোরারি রিসার্চের গবেষণা পরিচালক বিষ্ণু রাজ উপ্রেতি বলেন, তরুণদের রাজনীতিতে আসা আন্দোলনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোর একটি। কারণ পার্লামেন্টের নতুন সদস্যদের বেশির ভাগই তরুণ, শিক্ষিত এবং পরিবর্তন আনতে আগ্রহী।
লামিছানের মতে, নেতৃত্বের পরিবর্তনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্লামেন্টের নতুন সদস্যরা এখনো পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আটকে আছেন। দলীয় নেতৃত্বের ওপর তাদের অনেকটাই নির্ভর করতে হয়।
বিষ্ণু রাজ উপ্রেতি বলেন, তরুণ নেতারা এখনো অনভিজ্ঞ এবং দলীয় কাঠামোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। পুরনো ও নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের মধ্যে অবিশ্বাসও সংস্কারের পথে বাধা তৈরি করছে। তিনি বলেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এটি ভালো বিষয়, কিন্তু শুধু এটুকু যথেষ্ট নয়।
এ কারণে জেন-জি আন্দোলনের মধ্যেও এখন বিভক্তি দেখা দিয়েছে। যারা সরকারে আছেন এবং যারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
চলতি বছরের মে মাসে সংবিধান সংশোধন নিয়ে মতামত জানতে জেন-জি আন্দোলনের কর্মীদের আমন্ত্রণ জানায় সরকার। ২৯ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ২৫ জন বৈঠক বর্জন করেন। তাদের অভিযোগ, বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো এবং আগের সরকারের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে।
আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত আয়ুশ বাসিয়াল আল জাজিরাকে বলেন, এখন যারা সরকারে থাকা নতুন প্রজন্মের নেতাদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আগের আন্দোলনকারীদের মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
কারণ, নতুন নেতারা এখন সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করছেন, যাদের বিরুদ্ধে তারা আগে আন্দোলন করেছিলেন। আবার একই সঙ্গে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে বড় পরিবর্তনের দাবি করেছিলেন, সেটিও বাস্তবায়ন করতে চাইছেন।
আন্দোলনকারীরা এখন কোথায়?
গত বছর পুলিশের দমন-পীড়নে নিহত আন্দোলনকারীদের পরিবারের সদস্যরা গত মঙ্গলবার একটি স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানটি নেপালের পুরোনো পার্লামেন্ট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০ বছর পার্লামেন্ট ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর গত বছর জেন-জি আন্দোলনকারীরা ভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দিলে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে জেন-জি আন্দোলনের ভেতরের বিভক্তি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন নেতারা আন্দোলনকারীদের দাবির পক্ষে যথেষ্ট কথা বলছেন না–এমন অভিযোগও রয়েছে।
লামিছানে বলেন, আহত আন্দোলনকারীদের বেশির ভাগই চিকিৎসা পেয়েছেন এবং কিছু আর্থিক সহায়তাও পেয়েছেন। তবে তার মতে, শুধু টাকা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যথেষ্ট নয়। আন্দোলনের মূল দাবি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করাই হবে প্রকৃত ক্ষতিপূরণ।
বাসিয়াল বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ এখন পার্লামেন্ট সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক আন্দোলনকারী এখনো কারাগারে রয়েছেন। অর্থ ও রাজনৈতিক প্রভাব না থাকায় তারা নিজেদের কথা বলতে পারছেন না।
তার দাবি, সরকারি হিসাবে ৯০০-এর বেশি এবং বেসরকারি হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৬০০ বা তারও বেশি মানুষ এখনো অগ্নিসংযোগের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তিনি বলেন, এসব আন্দোলনকারী এখনো জেলে থাকাটা উদ্বেগের বিষয়। এতে মনে হতে পারে, এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে এবং অপরাধের শাস্তি না পাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা আশা করছেন, নতুন সরকার কারাগারে থাকা এসব মানুষের সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করবে। তবে সরকার শেষ পর্যন্ত কী করে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এখনো কী কী পরিবর্তন দরকার?
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নেপালে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। লামিছানে বলেন, সরকার আইন ও নীতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এখনো সেসব প্রতিশ্রুতির বড় অংশ বাস্তবায়ন হয়নি।
বিষ্ণু রাজ উপ্রেতির মতে, নতুন সরকার এখনো কোনো বড় কাঠামোগত পরিবর্তন শুরু করেনি। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইন পরিবর্তন এবং নতুন আইন ও নীতি তৈরির মাধ্যমে কাঠামোগত পরিবর্তন শুরু করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন নেতারা এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না।
তার মতে, আমলাতন্ত্রে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া জেন-জি আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেনি। তিনি আরও বলেন, নেপালের দুই বড় প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ও আস্থা বাড়ানোও জরুরি। কারণ নেপালের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য অনেকটাই এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, নেপালের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে বাধা।
নেপালের জেন-জি আন্দোলন। ছবি: সংগৃহীত
বিষ্ণু রাজ উপ্রেতি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে শক্তিশালীভাবে কাজ করা দরকার। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
অধ্যাপক পাওডেল বলেন, নেপালের সমাজ ও রাজনীতিতে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য, শিক্ষিত শ্রেণি ও কৃষকদের মধ্যে দূরত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোও পরিবর্তনের পথে বাধা। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে–এমনটা এখনই আশা করা কঠিন।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, নেপাল আরেকটি বড় গণআন্দোলনের সুযোগ পেয়েও এমন পরিবর্তন আনতে পারেনি, যা সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারত।
এরপর কী হতে পারে?
বাসিয়াল বলেন, নতুন সরকারের ওপর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সরকার সেই প্রত্যাশার চাপেই অনেকটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, নেপালে দীর্ঘদিন ধরে একটি সমস্যা রয়েছে; মানুষ সরকারের কাছে অনেক কিছু আশা করে, কিন্তু সরকার খুব কম কাজ করে। ফলে মানুষের হতাশা বাড়তে থাকে।
তার মতে, বর্তমান সরকারও যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। বাসিয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে খুব বেশি কথা বলেন না। কয়েকবার সংসদে বক্তব্য দিলেও সেসব অধিবেশন বেশ বিশৃঙ্খল ছিল। এই সমস্যার সমাধান না হলে মানুষের মধ্যে আবারও বড় ধরনের হতাশা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
তবে রাজ লামিছানে বলেন, সরকার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারে কি না, তা দেখতে আরও সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। এখনই সরকারের সমালোচনা করার উপযুক্ত সময় নয়। কারণ, ভয়াবহ বন্যায় নেপাল বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
বাসিয়াল বলেন, নেপালের বর্তমান সংবিধান ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে চূড়ান্ত ও কার্যকর করা হয়েছিল। এর আগে ওই বছরের এপ্রিল ও মে মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয় এবং প্রায় এক দশকের অচলাবস্থা কাটাতে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। তিনি বলেন, মনে হয় জাতীয় দুর্যোগ এলেই নেপালের মানুষ একসঙ্গে হয়। তাই এখন যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনে কাজে লাগবে–এমনটাই আশা করছেন তারা।