কাজী সাজিদুল হক

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ক্রেডেনশিয়াল জমা দেন।
বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে লিখেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ায় এখন আর তাকে কোনো কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করতে পারবে না। তিনি কোনো সচিবের সাথে বৈঠক করবেন না। অনেকে আবার লিখছেন–ভারত এখানে ‘চাল’ চেলেছে। কারণ, কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লিতে যাওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছিল; এখন এমন কোনো পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীকে তলব করা যাবে না। কারণ, তিনি মন্ত্রী। কোনো দেশের মন্ত্রীকে তলব করা যায় না।
তাহলে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে দেশটির আদেশে কী বলা হয়েছে।
গত বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) এক অফিস স্মারকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ (টিওপি)-এ প্রদান করা হয়েছে। তবে এ জন্য টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনো সংশোধন আনা হয়নি।”
এতে আরও বলা হয়, “টেবিল অব প্রিসিডেন্সে এই অবস্থান কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”
অর্থাৎ, ভারতের কোনো মন্ত্রীর যে প্রশাসনিক দায়িত্ব আছে, দীনেশ ত্রিবেদীর সেরকম কোনো দায়িত্ব নেই। তিনি ভারতের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্বাহী দায়িত্বে থাকবেন না। তিনি অন্য যেকোনো হাইকমিশনারের মতো তার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবেন।
তাহলে তাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার ফলে কোনো বাড়তি সুবিধা কি নেই? আছে। তা হলো–ভারতের টিওপি অর্থাৎ, দেশটির সরকারি প্রটোকল তালিকা মূলত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি, গভর্নর, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পদাধিকারীর আনুষ্ঠানিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, আসনবিন্যাস, অভ্যর্থনা ও প্রটোকলের জন্য এই তালিকা ব্যবহৃত হয়; এটি প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্ধারণ করে না। বাংলাদেশে যেমন ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ভারতের টিওপি ঠিক তাই।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট বলেছেন, এই ধরনের মর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। এটি সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হয়।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে নিযুক্ত কয়েকজন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারও একই মর্যাদা পেয়েছিলেন।
বাংলাদেশও একসময় ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল। সেসময় কিন্তু সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বাংলাদেশে কোনো নির্বাহী দায়িত্বে ছিলেন না। ভারতের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তিনি নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দিতেন না। সেই এখতিয়ারও তার ছিল না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেই বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানাতেন।
তেমনই দীনেশ ত্রিবেদী যদি বাংলাদেশের কোনো বিষয়ে কোনো মন্ত্রী বা সচিব বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো বিষয়ে আলোচনা করেন, সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিনি মন্ত্রী হিসেবে নিতে পারবেন না। তাকে তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রদূতের মূল কাজ হলো–নিজে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা, তথ্য সংগ্রহ করে নিজ সরকারকে জানানো এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দীনেশ ত্রিবেদী এই কাজগুলোই করবেন। ভারতের মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে দূতিয়ালি করবেন না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে দূত হিসেবে পাঠানোয় এটা ধরে নেওয়া যায় যে, এই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি।
গুজরাটি দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হন তিনি। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জানাবোঝা বেশি বলে ধরে নেওয়াই যায়। এক সময়ের কংগ্রেস নেতা দীনেশ ১৯৯০ সালে জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
২০০২-০৮ পর্যন্ত ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তৃণমূলের আইনপ্রণেতা ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ভোটে জিতে কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী হন।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। সেই দায়িত্ব বর্তায় দীনেশের কাঁধে। পরে তাকে সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ। কিন্তু বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তৃণমূল তাকে পরে আবার রাজ্যসভার এমপি করে। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ২০২১ সালে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশের সরকার হয়তো মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার। বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর মর্যাদা নয়, বরং ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদায় কাজ করবেন; যেমন অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা করে থাকেন।
তবে এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের নিকটতম এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশে আলাদা গুরুত্ব পায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সরকার কীভাবে সামলাবে, তা সরকারি সিদ্ধান্ত। এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কূটনৈতিক পথেই হয়। অপতথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে যে হয় না, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেখা গেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ক্রেডেনশিয়াল জমা দেন।
বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে লিখেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ায় এখন আর তাকে কোনো কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করতে পারবে না। তিনি কোনো সচিবের সাথে বৈঠক করবেন না। অনেকে আবার লিখছেন–ভারত এখানে ‘চাল’ চেলেছে। কারণ, কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লিতে যাওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছিল; এখন এমন কোনো পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীকে তলব করা যাবে না। কারণ, তিনি মন্ত্রী। কোনো দেশের মন্ত্রীকে তলব করা যায় না।
তাহলে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে দেশটির আদেশে কী বলা হয়েছে।
গত বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) এক অফিস স্মারকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ (টিওপি)-এ প্রদান করা হয়েছে। তবে এ জন্য টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনো সংশোধন আনা হয়নি।”
এতে আরও বলা হয়, “টেবিল অব প্রিসিডেন্সে এই অবস্থান কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”
অর্থাৎ, ভারতের কোনো মন্ত্রীর যে প্রশাসনিক দায়িত্ব আছে, দীনেশ ত্রিবেদীর সেরকম কোনো দায়িত্ব নেই। তিনি ভারতের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্বাহী দায়িত্বে থাকবেন না। তিনি অন্য যেকোনো হাইকমিশনারের মতো তার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবেন।
তাহলে তাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার ফলে কোনো বাড়তি সুবিধা কি নেই? আছে। তা হলো–ভারতের টিওপি অর্থাৎ, দেশটির সরকারি প্রটোকল তালিকা মূলত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি, গভর্নর, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পদাধিকারীর আনুষ্ঠানিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, আসনবিন্যাস, অভ্যর্থনা ও প্রটোকলের জন্য এই তালিকা ব্যবহৃত হয়; এটি প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্ধারণ করে না। বাংলাদেশে যেমন ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ভারতের টিওপি ঠিক তাই।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট বলেছেন, এই ধরনের মর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। এটি সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হয়।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে নিযুক্ত কয়েকজন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারও একই মর্যাদা পেয়েছিলেন।
বাংলাদেশও একসময় ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল। সেসময় কিন্তু সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বাংলাদেশে কোনো নির্বাহী দায়িত্বে ছিলেন না। ভারতের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তিনি নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দিতেন না। সেই এখতিয়ারও তার ছিল না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেই বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানাতেন।
তেমনই দীনেশ ত্রিবেদী যদি বাংলাদেশের কোনো বিষয়ে কোনো মন্ত্রী বা সচিব বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো বিষয়ে আলোচনা করেন, সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিনি মন্ত্রী হিসেবে নিতে পারবেন না। তাকে তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রদূতের মূল কাজ হলো–নিজে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা, তথ্য সংগ্রহ করে নিজ সরকারকে জানানো এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দীনেশ ত্রিবেদী এই কাজগুলোই করবেন। ভারতের মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে দূতিয়ালি করবেন না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে দূত হিসেবে পাঠানোয় এটা ধরে নেওয়া যায় যে, এই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি।
গুজরাটি দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হন তিনি। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জানাবোঝা বেশি বলে ধরে নেওয়াই যায়। এক সময়ের কংগ্রেস নেতা দীনেশ ১৯৯০ সালে জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
২০০২-০৮ পর্যন্ত ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তৃণমূলের আইনপ্রণেতা ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ভোটে জিতে কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী হন।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। সেই দায়িত্ব বর্তায় দীনেশের কাঁধে। পরে তাকে সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ। কিন্তু বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তৃণমূল তাকে পরে আবার রাজ্যসভার এমপি করে। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ২০২১ সালে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশের সরকার হয়তো মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার। বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর মর্যাদা নয়, বরং ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদায় কাজ করবেন; যেমন অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা করে থাকেন।
তবে এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের নিকটতম এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশে আলাদা গুরুত্ব পায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সরকার কীভাবে সামলাবে, তা সরকারি সিদ্ধান্ত। এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কূটনৈতিক পথেই হয়। অপতথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে যে হয় না, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেখা গেছে।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে নিজেদের ছায়া বাজেট প্রকাশ করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছায়া বাজেটে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুধু প্রস্তাব নয়, বাজেট অধিবেশনে দলটির সংসদ সদস্যদের এ–সংক্রান্ত বক্তব্যও সবার নজর

অথচ, চীনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তগুলো ওষুধ তৈরির সময় আরও বাড়িয়ে দেবে, খরচ বাড়াবে এবং নতুন ওষুধ খোঁজার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কি আসলেই চায় যে কোনো যুগান্তকারী চিকিৎসা সাধারণ আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানোর আগেই ইউরোপ বা এশিয়ার রোগীরা তা পেয়ে যাক?