চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিকে নগরের আসন ধরা হয়। সেই চারটি আসনেই এবার ভোটের মাঠে মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। অতীতের জোট সঙ্গী দুই দলের প্রার্থীদের ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। চারটি আসনেই ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
নগরের চার আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনটির সঙ্গে রয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা। বাকি তিনটি আসন পুরোপুরি সিটি করপোরেশন এলাকায়। এগুলো হলো: চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাঁচলাইশ-হালিশহর) ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন।
বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে জামায়াত বেশ কিছু কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটার আগে থেকে স্থানান্তর করেছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। নগর জামায়াতের কমিটি চারটি আসনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। তারা এলাকা অনুযায়ী উপদল করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
বিপরীতে বিএনপি ভর করেছে এসব আসনে তাদের অতীত রেকর্ডের ওপর। আর ভোট যত কাছে আসছে ততই বাড়ছে তাদের তৎপরতা।
কোতোয়ালি আসনে এবার পারবে জামায়াত?
কোতোয়ালি থানাকে কেন্দ্র করে মূলত চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনটি বিস্তৃত। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাঁচলাইশ, চকবাজার, বাকলিয়া থানা এলাকা। তারপরও এটি কোতোয়ালি আসন নামে খ্যাত। নগরের কেন্দ্রে হওয়ায় চট্টগ্রামের এই আসন ঘিরে ভোটের মাঠে সবসময় ব্যাপক আগ্রহ থাকে রাজনীতিবিদ ও ভোটারদের। নিউমার্কেট, লালদিঘি, সিআরবি, চট্টগ্রাম কলেজ, আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসন কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং এলাকা নিয়ে আসনটি।
আসনটি সবসময় ধরে রাখতে চায় প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। এই আসন থেকে অতীতে লড়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের মতো ব্যক্তিরা। এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। তাই মূলত বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ।
বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান। ছবি: চরচাএই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের দক্ষিণ জেলার সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান। ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবু সুফিয়ান বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেছিলেন চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসন থেকে। জাসদ নেতা ও সংসদ সদস্য মাইনুদ্দিন খান বাদলের মৃত্যুর পর একই আসনে উপনির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন আবু সুফিয়ান।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক। এখানে মোট প্রার্থী ১০ জন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। জামায়াতে ইসলামী আগে কখনো এই আসন থেকে জিততে পারেনি। সব সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এখানে জিতেছে। তবে এবার জামায়াত জেতার সব চেষ্টা করছে। প্রচার-প্রচারণায় সমানভাবে পাল্লা দিচ্ছেন দলটির নেতা-নেত্রীরা। দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তাদের নারী কর্মীরা।
এই আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩। এর মধ্যে নারী ভোটার দুই লাখ দুই হাজার ৪৪৮ জন। বিএনপি তাকিয়ে আছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট এবং ভোটার উপস্থিতির দিকে। ভোটার উপস্থিত হলে এবং কোনো ধরনের কারচুপি না হলে তাদের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা। দলটির নেতা-কর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। এই আসনটিতে প্রায় ২৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন।
বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান চরচাকে বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পক্ষে বিএনপি। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে দিক প্রশাসন এটাই চাওয়া। আশা করি তারা পেশাদার আচরণ করবে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যা নেই। তবে আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছি না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দলের কথায় ও কাজে মিল কম।”
জামায়াত ইসলামীর একটা বড় প্রভাব রয়েছে কোতোয়ালি-চকবাজার-বাকলিয়া আসনটিতে। এখানে দলটির কার্যালয়। চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ছাত্র শিবিরের আধিপত্য রয়েছে। কলেজের আশপাশের এলাকা চকবাজার, কাপাসগোলা, চন্দনপুরা এবং বাকলিয়াতেও জামায়াতের প্রভাব রয়েছে। এই এলাকাগুলো পড়েছে চট্টগ্রাম-৯ আসনে। তাই এবারের ভোটে বিএনপি প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক। ছবি: ফেসবুকনগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী চরচাকে বলেন, “চট্টগ্রাম-৯ আসনে আমাদের প্রার্থী একজন চিকিৎসক। তার পক্ষে বিভিন্ন মত ও পথের লোক আছে। আমরা নগরের চারটি আসন নিয়েই আশাবাদী।”
প্রচারে দুই পক্ষই নানা আশ্বাস দিচ্ছে। এরমধ্যে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নয়ন, নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজি মুক্ত ব্যবসা বাণিজ্যের পরিবেশ অন্যতম।
জামায়াত বিগত সময়গুলোতে শাসন ক্ষমতায় থাকা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দখল ও চাঁদাবাজির নজির তুলে ধরে চাঁদাবাজ ও দখলবাজ মুক্ত এলাকা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আবার বিএনপি ভোটের প্রচারে জামায়াতের বিরুদ্ধে নারী অধিকার হরণ, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাকে সামনে আনছে।
এই আসনটিতে সবসময় জয়ী হয়ে আসছেন সরকার গঠনকারী দলের প্রার্থীরা। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে (তখন চট্টগ্রাম-৮ সংসদীয় আসন ছিল) জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম বিএসসি। সেবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বিএনপির মোহাম্মদ শামসুল আলমকে পরাজিত করেছিলেন তিনি।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান জয়ী হন। দুবারই বিএনপি সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালে নোমানকে হারিয়ে জিতেছিলেন আওয়ামী লীগের এম এ মান্নান। সেবার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
চট্টগ্রাম-৮ শাপলা কলি নাকি দাঁড়িপাল্লা
চট্টগ্রাম-৮ এ ১১ দলীয় জোটের দুইজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে আছেন আবু নাছের। আর শাপলা কলি নিয়ে আছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোবাইরুল হাসান আরিফ।
২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় জামায়াত। দলটির নির্বাচনী জনসভায় ১১ দলীর জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির আরিফের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
কিন্তু নাছেরের পক্ষের লোকজন এখনো মাঠ ছাড়েননি। তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। আবু নাছেরও এখন নতুন করে আবার মাঠে নেমে সভা সমাবেশ করছেন।
এই অবস্থায় এই আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ অনেকটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে ভোটাররা মনে করছেন। মূলত, জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তাতে এরশাদ উল্লাহর ধানের শীষ এগিয়ে থাকবে ধারণা করছেন অনেকেই।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “দলীয়ভাবে আমরা প্রার্থী নাছেরকে বসিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু জনগণ তাকে ঘর থেকে টেনে আবার প্রচারে নামিয়েছে।”
জোটের দুই প্রার্থীই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারে কালুরঘাট সেতু, উন্নয়ন, স্বাস্থ্য শিক্ষার উন্নয়ন, সন্ত্রাস নির্মূলসহ নানা প্রতিশ্রুতি উঠে আসছে। তবে ৫ নভেম্বর এরশাদ উল্লাহ নগরের চালিতাতলী এলাকায় জনসংযোগে গেলে গুলির ঘটনা ঘটে। এসময় সরোয়ার বাবলা নামে এক সন্ত্রাসী গুলিতে নিহত হন। এরশাদ উল্লাহও আহত হয়েছিলেন।
এই আসনে মোট প্রার্থী ছয়জন। বাকিরা হলেন ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্ম নুরুল আলম (হাতপাখা) ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোমবাতি প্রতীকেরও বড় একটি ভোট ব্যাংক এখানে রয়েছে।
শহর এবং বোয়ালখালী নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। এর মধ্যে দুই লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন ভোটার বোয়ালখালীতে। সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নগরাংশে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ২৮ হাজার ৭৪২ জন।
চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, “শহরের অংশে ভোট বেশি। এই অংশের বাসিন্দা এরশাদ উল্লাহ। তার অবস্থান তুলনামূলক ভালো।”
এই আসনের একটা মূল ইস্যু হচ্ছে কালুরঘাট সেতু। প্রতি নির্বাচনে এটা সামনে আসে। বোয়ালখালী অংশের লোকজন কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি দ্বিমুখী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এই সেতুর অভাবে তাদের যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটে। কালুরঘাট সেতুর দুদিকে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় লোকজনকে।
প্রয়াত সংসদ সদস্য মঈনউদ্দীন খান বাদল সংসদে দাঁড়িয়ে বার বার সেতুর দাবি জানিয়েছলেন। গত ১৪ মে সার্কিট হাউস থেকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরের স্মারক ফলক উম্মোচন করেন। কিন্তু নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি।
এই আসনটিতে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী হিসেবে জাসদের মঈনউদ্দীন খান বাদল নির্বাচিত হন। এর পর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও মঈনউদ্দীন খান বাদল নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে তার মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে মোসলেম উদ্দিন আহমেদ নির্বাচিত হন। মোসলেম উদ্দিনের মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের নোমান আল মাহমুদ নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে লীগের আবদুচ ছালাম নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রাম-১০ নোমান পুত্রের সাথে সাবেক কাউন্সিলরের লড়াই
চট্টগ্রাম-১০ আসনটি নগরের হালিশহর, ডবলমুরিং, পাঁচলাইশের একাংশ, খুলশীসহ বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালে এই আসন থেকে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান। সেবার বাবার পক্ষে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন ছেলে সাঈদ আল নোমান। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নোমানের মৃত্যুর পর এবার ছেলে সাঈদ আল নোমান তুর্যকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে দলটি।
এই আসনে মোট প্রার্থী ৯ জন। এর মধ্যে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী শুলকবহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন এবার। মূলত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এলাকাটিতে চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার লোকজনের বসবাস রয়েছে। এ ছাড়া সংখ্যালঘু ভোটারও আছে ১৫ শতাংশের বেশি।
সাঈদ আল নোমান তুর্য। ছবি: চরচাসাঈদ আল নোমান চরচাকে বলেন, “ভোটারের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা আছে। তারা আমাকে দোয়া করছেন এবং নোমান সাহেবের ছেলে হিসেবে তাদের একজন মনে করছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে আশাকরি সবাই ভোট দিতে যাবেন। মাঝে মধ্যে কিছু দুরভিসন্ধির কথা শুনতে পাই। এগুলোকে পাত্তা দিতে চাই না। জনগণের ম্যান্ডেট ধানের শীষের পক্ষে। নির্বাচন কমিশন একটা সুষ্ঠু পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ভোট করবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।”
এই আসনটিতে গত তিনটি নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের ঘটনা ঘটেছিল। দখল ঠেকাতে প্রশাসন কতটা সফল হবে সেটার দিকেও অনেকের নজর রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯২ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে দুই লাখ ৪২ হাজার ৬৩২ জন নারী ভোটার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের আফছারুল আমীন জিতেছিলেন। পরের দুটি নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন। ২০২৪ সালে লীগের মহিউদ্দিন বাচ্চু জয়লাভ করেন।
মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী। ছবি: চরচাচট্টগ্রাম-১১ বন্দর আসনে সবার নজর
এই আসনটিতে চট্টগ্রাম বন্দর এবং কাস্টমস হাউস অবস্থিত। বাণিজ্যিকভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। বন্দর, পতেঙ্গা ও ইপিজেড থানা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে আবু তাহের লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। মোট প্রার্থী ১১ জন।
তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এলাকার পরিচিত মুখ। এই আসন থেকে তিনি আগেও সংসদ সদস্য হয়েছেন।
শফিউল আলম স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। তিনিও জনপ্রিয়। এখানে চট্টগ্রামের বাইরের লোকজনের বসবাস বেশি। এই আসনে বন্দরের পাশাপাশি রয়েছে ইপিজেড। যার কারণে এটার আলাদা একটা গুরুত্ব রয়েছে।
বিএনপি নেতা আমীর খসরুর সঙ্গে তামিম ইকবাল। ছবি: ফেসবুকএই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৯৫ হাজার ২৭৮ জন। তারে মধ্যে নারী দুই লাখ ৪২ হাজার ৯৪২ জন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সবগুলো নির্বাচনে এখানে আমির খসরু মাহমুদ জিতেছেন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এম এ লতিফ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি এখান থকে জিতেছিলেন।
তবে দুজন টানা এত বছর দায়িত্ব পালনের পরও এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। জামায়াতের দাবি, তাদের প্রার্থী যেহেতু ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন মানুষ তার সঙ্গে আছেন।
বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতের মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জামায়াত শান্তিপূর্ণ ভোটে বিশ্বাসী। সব ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে লোকজন জামাতের চার প্রার্থীর সঙ্গে আছেন।