
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। তিনি ইতালি ও স্পেন থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। এর আগে জার্মানিতে অবস্থানরত সেনা কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।

সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে, স্লোভেনিয়ার এই গণভোটের ঘোষণা শুধু একটি ছোট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়। এটি একটি বৃহত্তর ও গভীরতর পরিবর্তনের লক্ষণ।

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর গ্রিনল্যান্ড দখলের নতুন করে উত্থাপিত পরিকল্পনা ন্যাটো জোটের ৭৭ বছরের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক এমন এক ভাঙনের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ইউরোপীয়

ইরান যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়; এটি পশ্চিমা জোটব্যবস্থার ভিত্তিকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে। ন্যাটোর সামনে এখন যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়ত তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় জোট টিকে থাকবে, নাকি ভেঙে পড়বে– তার উত্তর নির্ভর করছে মূলত ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত এবং ইউরোপের প্রস্তুতির ওপর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে। ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। সবাই চাইছে দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ হোক। বিস্তারিত শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের আলোচনায়।

সামরিক জোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুতরভাবে বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

আমেরিকার বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যক্তিবর্গ কি আসলেই হুমকির মুখে? ইরান যুদ্ধ কোনদিকে যাচ্ছে? ইউরোপ, জাপান কি জড়িয়ে পড়বে? আরব ন্যাটোর কথা শোনা যাচ্ছে, কিন্তু কতটা বাস্তব? যুদ্ধ ও আলোচনা কি একসঙ্গে চলতে পারে? ইসরায়েল কি শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহার করে বসবে?

এই কারণে ইউরোপের প্রত্যাখ্যান এত স্পষ্ট। তারা শুধু যুদ্ধ এড়াতে চায় না, বরং নিজেদের ক্ষতি থেকেও বাঁচতে চায়। এখানে একটি ঐতিহাসিক বিদ্রূপ রয়েছে। ন্যাটো জোটকে নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক বলা হতো।

বর্তমানে ইউরোপের আর কোনো নেতা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বাধানো ‘অন্যায় যুদ্ধে’র বিরুদ্ধে সানচেজের মতো সোচ্চায় নন। তার কণ্ঠস্বর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অন্তত আপাতত তিনি একা।

আমেরিকার সহযোগিতা ছাড়া ইউরোপ নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না মন্তব্য করেছেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে।

দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল ন্যাটো জোটের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করবে এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেবে। এমনকি ফ্রেডেরিকসেন এই মর্মে সতর্কবাণীও দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড দখল ন্যাটো বিলুপ্তির কারণ হতে পারে।

এবারের হামলাটি হয়েছে পশ্চিম ইউক্রেনের এলভিভ অঞ্চলে, যার সীমান্ত ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে একটি ‘বৈশ্বিক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প জানান যে, তেলসমৃদ্ধ দেশটির শাসনব্যবস্থা তদারকি করার ইচ্ছা ওয়াশিংটনের রয়েছে। মার্কিন এই সামরিক অভিযান ডেনমার্কের মনে নতুন করে শঙ্কা জাগিয়েছে যে, ডেনিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকেও হয়তো একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।

পুতিন বারবার তাদের এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, ন্যাটোর উপর আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং তার মতে ন্যাটোর প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বিপরীতে রাশিয়ার জন্য এমন পদক্ষেপ বোকামি হবে।

পুতিন বারবার তাদের এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, ন্যাটোর উপর আক্রমণ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই এবং তার মতে ন্যাটোর প্রচলিত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের বিপরীতে রাশিয়ার জন্য এমন পদক্ষেপ বোকামি হবে।