Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আমরা কি সমালোচনার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি?

মো. ফজলুল করিম

মো. ফজলুল করিম

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৩৩
আমরা কি সমালোচনার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি?

মানুষের আচরণে ভুল একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা–এটি জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সহজ ও রুটিন কাজেও মানুষ কিছু না কিছু ভুল করে। আর জটিল, চাপপূর্ণ বা বহু-ধাপ বিশিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে সেই ভুলের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ক্লান্তি, মানসিক চাপ কিংবা মনোযোগের ঘাটতি এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেমানের মতে, মানুষের চিন্তাজগৎ মূলত দুই স্তরে কাজ করে–একটি দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয় চিন্তাপদ্ধতি এবং অন্যটি ধীর ও বিশ্লেষণমূলক চিন্তাপদ্ধতি। দ্রুত চিন্তাপদ্ধতি অনেক সময় মানসিক সহজীকরণ বা শর্টকাটের ওপর নির্ভর করে। ফলে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ও ভুল মূল্যায়ন তৈরি হতে পারে। ফলে মানুষ অনেক সময় বাস্তবতার পরিবর্তে নিজের মানসিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই পৃথিবীকে ব্যাখ্যা করে।

এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে–মানুষ কেন অন্যের দোষ খুঁজতে এত আগ্রহী? সিগমুন্ড ফ্রয়েডের মতে, মানুষ অনেক সময় নিজের অস্বস্তিকর দিক অন্যের ওপর আরোপ করে আত্মরক্ষা করে। অন্যদিকে লিওন ফেস্টিঙ্গারের সামাজিক তুলনা তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষ নিজের অবস্থান বুঝতে অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে। ফলে অন্যের দুর্বলতা অনেক সময় আত্মতৃপ্তির একটি মানদণ্ড হয়ে ওঠে।

তরুণদের আত্মহত্যা: উন্নয়নের আড়ালে অদৃশ্য সংকটai

কার্ল ইয়ুং-এর ভাষায়, “অন্যের যে আচরণ আমাদের বিরক্ত করে, তা অনেক সময় আমাদের নিজের অচেনা দিককে বুঝতে সাহায্য করে।” অর্থাৎ, অন্যের দোষ খোঁজার প্রবণতা প্রায়ই নিজের ভেতরের অসমাধানকৃত দ্বন্দ্বের প্রতিফলন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা হলো–যে মানুষ যত বেশি নিষ্ক্রিয় বা কম সম্পৃক্ত, তার মধ্যে সমালোচনার প্রবণতা তত বেশি। বিষয়টি সর্বজনীন সূত্রে ব্যাখ্যা করা না গেলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত না থাকলে অনেক সময় পর্যবেক্ষণের বদলে বিচার করার প্রবণতা বেড়ে যায়।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বর্তমান প্রজন্মের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একমাত্রিক নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, তথ্যপ্রবাহের সহজলভ্যতা এবং উচ্চ প্রত্যাশার বাস্তবতা–সব মিলিয়ে তরুণদের একটি অংশ বাস্তবতার চেয়ে আদর্শ বা ইউটোপিয়ান মানদণ্ডে জীবনকে বিচার করে। ফলে বাস্তবতা ও প্রত্যাশার ব্যবধান অনেক সময় অসন্তোষ ও অতিরিক্ত সমালোচনার জন্ম দেয়।

অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা: সময়ের দাবিstudent

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যেকোনো ঘটনা বা ব্যক্তিকে বিশ্লেষণ করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। তবে এই সহজলভ্যতা অনেক সময় গভীরতা কমিয়ে দেয়–ত্রুটি ধরা সহজ হয়, কিন্তু প্রেক্ষাপট বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সমালোচনা বাড়ে, কিন্তু সহমর্মিতা কমতে পারে।

অন্যদিকে, এই সমালোচনামূলক প্রবণতার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি সমাজে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও পরিবর্তনের চাপ তৈরি করে। অনেক সামাজিক অগ্রগতির পেছনেই রয়েছে প্রশ্ন তোলা ও সমালোচনার সংস্কৃতি।

তবে সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন সমালোচনা ভারসাম্য হারায়; যখন তা নির্মাণের বদলে ধ্বংসের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে, তখন সমাজে অস্থিরতা বাড়ে এবং সম্পর্কগুলোও অবিশ্বাসের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

সমাজের সুস্থ অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে একটি ভারসাম্য। কারণ, সমালোচনা যেমন উন্নতির পথ দেখাতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত দোষ-অনুসন্ধান সম্পর্ক ও সমাজে অবিশ্বাস তৈরি করে। অন্যদিকে প্রশংসা ও সহমর্মিতা মানুষকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে এবং সামাজিক স্থিতি বজায় রাখে। তাই একটি পরিপক্ব সমাজের পরিচয় শুধু প্রশ্ন তোলার সক্ষমতায় নয়, বরং কখন থামতে হবে, কখন বোঝাপড়ার জায়গা দিতে হবে—সেই বিচারবোধ ও মানবিক সংযমেই তার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।

লেখক: অধ্যাপক, বিজিই বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয়: মনোবিজ্ঞানীসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমঅধ্যাপকসংস্কৃতিতরুণসমাজসমালোচনা
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া