Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

মে দিবসেই বোমায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক রাষ্ট্রনায়ক

নাইর ইকবাল

নাইর ইকবাল

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১৯: ১৭
মে দিবসেই বোমায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক রাষ্ট্রনায়ক

মে দিবস ছিল সেদিন! সালটা ১৯৯৩!

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ছুটির দিন। ঠিক দুপুরের দিকে একটা সংবাদ বিমূঢ় করে দিল বাংলাদেশের মানুষকে। কলম্বোতে মে দিবসের মিছিলে হাঁটতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন শ্রীলঙ্কার সে সময়ের প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসা।

সে সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন বিবিসির সঙ্গে একটা চুক্তি করেছিল। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টেলিভিশনের স্ক্রিনে দেখা যেত বিবিসির অনুষ্ঠানমালা। স্যাটেলাইট টিভি দুনিয়াব্যাপী সহজলভ্য হলেও বাংলাদেশে সেটা তখনও সহজলভ্য নয়। ঘরে ঘরে কেবল টিভির দাপট তখনও সেভাবে শুরু হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ খুব আগ্রহ নিয়ে বিবিসির অনুষ্ঠান দেখে। বিবিসির খবরে চোখ রাখে। ১৯৯৩ সালের মে দিবসের ছুটির দিন সবাই বিবিসির খবরগুলোয় চোখ রেখেছিল বাড়তি আগ্রহ নিয়ে, মন খারাপ করেই।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসা বাংলাদেশে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর এক মাস আগেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ঢাকায় হয়েছিল সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। সেই সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তার বক্তৃতার একটা অংশে বাংলায় কথা বলেছিলেন। তিনি বক্তৃতায় একটু বাংলা বলবেন, সে জন্য সঙ্গে করে টেলিপ্রম্পটার নিয়ে এসেছিলেন। এ সবই ছিল বাংলাদেশের মানুষকে একটু আনন্দ দিতে, বাংলাদেশের মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন বলেই। তার ভাঙা ভাঙা বাংলা বাংলাদেশের মানুষ খুব আগ্রহ ও আবেগের সঙ্গেই গ্রহণ করেছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটা ১৯৯৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়, সেটি আসলে হওয়ার কথা ছিল ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু সেবার ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় হিন্দুত্ববাদীদের হাতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার কারণে গোটা উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সার্ক সম্মেলনের সব আয়োজন সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সেটি স্থগিত হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ভারতের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ঢাকা আসতে পারেননি। কিন্তু বাংলাদেশের আয়োজনের প্রতি নিজের সহানুভূতি প্রকাশ করতে সার্ক সম্মেলন না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রেমাদাসা। অনেকটাই যেন বিপদে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর মতো করেই।

বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রেমাদাসা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে এসেছিলেন প্রেমাদাসা। ছবি: সংগৃহীত

সবকিছু মিলিয়ে প্রেমাদাসার হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষকে ব্যথিত করেছিল। শোকগ্রস্ত করেছিল। শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন প্রেমাদাসা। কিন্তু তাকে সেদিন হত্যা করেছিল কারা?

শ্রীলঙ্কায় তখনও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি। আশির দশকের শুরুতে সিংহলী ও তামিলদের জাতিগত বিবাদ গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছিল। স্বাধীন তামিল রাষ্ট্রের জন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠী এলটিটিই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে। এই এলটিটিই–ই ১৯৯১ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সময় আত্মঘাতী হামলায় হত্যা করেছিল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে।

প্রেমাদাসার সঙ্গে সেদিন নিহত হয়েছিলেন আরও ২৩ জন। ঘটনাটি ঘটে কলম্বো শহরের একেবারে মধ্যভাগে। তিনি সেদিন একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। ওই হামলায় যে ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছিল, তাকেও পরে চিহ্নিত করা হয়। তার নাম ছিল কুলবীরসিঙ্গম বীর কুমার। সেই ব্যক্তি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলয়ে যেকোনোভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক কর্মকর্তার সঙ্গে বন্ধুত্বও করতে পেরেছিলেন।

শক্তিশালী সেই বিস্ফোরণে সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের দেহ হয়ে গিয়েছিল ছিন্নভিন্ন। প্রেমাদাসার মৃতদেহ শনাক্ত হয়েছিল দেহের খণ্ডাংশে থাকা আংটি ও ঘড়ি দেখে। আত্মঘাতী বোমা হামলার পর কয়েক ঘণ্টা প্রেমাদাসার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়নি।

১৯৯৩ সালে মে দিবসের ওই শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল প্রেমাদাসার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি)। বেলা পৌনে ১টার দিকে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তিনি নিজেই। এমন সময় ভিড়ের মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসে এক মোটরবাইক আরোহী। শরীরেই তার বাঁধা ছিল শক্তিশালী বোমা। প্রেমাদাসার কাছাকাছি এসে সেই বোমায় বিস্ফোরণ ঘটায় আততায়ী। নিমেষেই সব শেষ।

শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন প্রেমাদাসা। ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন প্রেমাদাসা। ছবি: সংগৃহীত

রানাসিংহে প্রেমাদাসার জন্ম ১৯২৪ সালের ২৩ জুন কলম্বোর বস্তিতে। রিকশা ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন তার বাবা। ছেলেবেলাতেই তিনি অংশ নিয়েছিলেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনে। ১৯৪৬ সালে তিনি একজন পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন লেবার পার্টিতে। মাত্র চার বছরের মাথায় তিনি দলটির যুব সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৫০ ও ১৯৫৪ সালে দুই দফায় কলম্বোর পৌর কাউন্সিল নির্বাচিত হন প্রেমাদাসা। পরে ১৯৫৫ সালে কলম্বোর ডেপুটি মেয়র পদে বসেন তিনি।

১৯৫৬ সালে লেবার পার্টি ছেড়ে ইউএনপিতে যোগ দেন প্রেমাদাসা। এই দলের হাত ধরেই একটু একটু করে আরও সামনে এগোন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর পরের বছরই বসেন প্রেসিডেন্টের গদিতে। রাজনৈতিক জীবনে এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কোনো ‘গডফাদার’ ছিল না প্রেমাদাসার। এমনকি শ্রীলঙ্কার অনেক রাজনীতিবিদের মতো শক্তিশালী পারিবারিক সমর্থনও ছিল না তার। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন রাজনীতিক।

প্রেমাদাসার মৃত্যুর পর তার শেষকৃত্যে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের শ্রদ্ধা পৌঁছে দিয়েছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

বিষয়: নিহতইতিহাসের এই দিনেপ্রেসিডেন্টইতিহাসমৃত্যুশ্রীলঙ্কা
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া