Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

রাজধানীর রাস্তায় যেন সবাই রাজা!

অর্ণব সান্যাল

অর্ণব সান্যাল

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫: ৩০
রাজধানীর রাস্তায় যেন সবাই রাজা!

ঘটনা ১: রাজধানীর একটি ব্যস্ত চৌরাস্তা। তাতে বাস আছে, ট্রাক আছে। আবার আছে পায়ে টানা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশাও। মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলও আছে বটে। আর সবাই মিলে চলছিল ঠুসোঠুসি করে রাস্তার মোড় পার হওয়ার চেষ্টা। কেউ কাউকে জায়গা দিতে চায় না। ফাঁক পেলেই ঢুকে পড়তে চায়। আর এই অবস্থায় সেই মোড় পার হতেই লেগে গেল প্রায় ৩০ মিনিট!

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ঘটনা ২: যাত্রীবাহী বাস চলছিল রাস্তার মাঝ বরাবর। চলতে চলতে হঠাৎ কি হলো, কথা নেই বার্তা নেই, বাতি জ্বালিয়ে সংকেত দেওয়া নেই, চালক বাসটিকে চাপাতে থাকলেন রাস্তার বামে। ওদিকে রাস্তার বামের লেনে ছিল ধীর গতির যান রিকশা, বাইসাইকেল। এদের সবার যাওয়ার পথ আটকে দিল বাসের সামনের অংশটি। আর বাসের পেছনের অংশের কারণে আটকে গেল এর পেছনে থাকা সকল ধরনের যানবাহনের গতিপথ, ব্রেক কষতে হলো কষে।

road safety

কী ভাবছেন? রাস্তাঘাটের কোনো জরুরি পরিস্থিতির কথা? না, না। এক যাত্রী রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে স্রেফ হাত তুলেছিলেন যাওয়ার জন্য। ওমনি পুরো বাস রাস্তায় থাকা সবাইকে আটকে এভাবেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। সেই জট ছুটতে লেগেছিল প্রায় ২০ মিনিট।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এভাবেই রাজধানী শহর ঢাকার রাস্তায় সব যানই যেন রাজা বনে যায়। চলে যে যার ইচ্ছেমতো। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উপরের ঘটনাগুলোর উল্লেখ করলেও, এমনটা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে অহরহ ঘটে। এতে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়, তেমনি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হয়। দুর্ঘটনা ঘটেও প্রায় সময়। কারও কারও প্রাণটাও যায়। তবে ঢাকার সড়কের এমন আদি–অকৃত্রিম চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না। এর সঙ্গে আছে আবার বাসের চালক ও চালকের সহকারীর অযাচিত ব্যবহার এবং বাসভাড়ার ন্যায্যতার প্রসঙ্গে। সেরের ওপর সোয়া সেরের মতো এসবের সাথে যদি ঢাকার সড়কে চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার বিষয়টিও যুক্ত করা হয়, তবে অসহায় বোধ করতে সময় লাগে না খুব বেশি।

আমরা যারা বিত্তের হিসাবে নিম্ন ও মধ্য নামের গোত্রভুক্ত, তারা মাত্রই এ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাসের ভাড়ার হিসাব করতে বসলে দেখবেন, ভাড়ার ন্যায্যতা কিংবা বাসের চালক ও তার সহকারীর আচরণের প্রতিবাদ করা বা সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা মানেই হলো যেচে ঝামেলায় জড়ানো। এর ফলাফল হিসেবে যেমন আপনার বাক্যক্ষয় হবে, তেমনি শারীরিকভাবেও আক্রমণের শিকার হতে পারেন। আর গালিগালাজ তো আছেই। ঢাকায় পা রাখা ইস্তক প্রায় ১৬/১৭ বছর ধরে এই শহরের যাত্রীবাহী বাসগুলোর এসব সমস্যা প্রত্যক্ষ করা হচ্ছে। একই অবস্থা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনার ক্ষেত্রেও। কোনো পরিবর্তন এখন পর্যন্ত চক্ষুগোচর হয়নি। উল্টো দিনকে দিন এসবের তীব্রতা যেন বাড়ছেই। এসব দেখভালের জন্য রয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ। কিন্তু তাদের উত্তরও দায়সারা।

এসব ক্ষেত্রে যে অনিয়মগুলো হচ্ছে, তা অনেকদিন ধরেই সবাই জানে, শোনে। কিন্তু পকেট কাটা বা ভোগান্তির ক্ষেত্রে শিকার যেহেতু শুধুই সাধারণ জনগণ, তাই এসবের কোনো সমাধানই হয় না। মাঝে মাঝে হুংকার আসে অবশ্য। তবে ওই পর্যন্তই। নৈরাজ্য দূরীভূত হয় না, ভোগান্তিও কমে না। কারণ, জনতার নোট নষ্ট হলে কার কী যায় আসে! আর যে নোট নষ্ট হয়, তা কারও না কারও সৌভাগ্যের কারণ তো অবশ্যই। এটি দিনের আলোর মতোই সত্য, অনিয়মের ক্ষতি কারও না কারও সৌভাগ্যের হেতু। বাংলা প্রবাদেই তো আছে, ‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’।

রাজধানীতে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়, তেমনি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও তৈরি হয়। ফাইল ছবি: চরচা

তাই পরিস্থিতি কেবল খারাপ থেকে খারাপই হচ্ছে। এত ধরনের অনিয়মে জেরবার ঢাকার সড়কে যানের জট হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বলছে, বিশ্বের ১৫২টি দেশের ১ হাজার ২০০ শহরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির শহর ঢাকা। বিশ্বব্যাংক ও বুয়েটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে ঢাকার সড়কে গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটারে। অর্থাৎ, যাত্রা কেবলই ক্রমাবনতির দিকে। এতে আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কিছুদিন আগে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতারাই জানিয়েছিলেন যে, ঢাকার যানজটের কারণে দিনে ক্ষতি হয় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার। এবার তবে বছরের হিসাব করে ফেলুন। অঙ্কটা বের করে চমকে যাবেন নিশ্চিত। আর এর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক হ্যাপার বিষয়টি যোগ করলে নিদারুণ হতাশায় ডুবে যাওয়া ছাড়া মনে হয় গত্যন্তর নেই।

এসব সমস্যা কি সমাধানের অযোগ্য? না, কখনোই নয়। সমাধান করার সৎ চেষ্টা থাকলে, এই পৃথিবীতে সব সমস্যারই সমাধান করা সম্ভব। এর জন্য প্রকৃত ইচ্ছা থাকতে হবে।

কিন্তু এই ঢাকায় এতদিন ধরে চলে আসা এমন সংকটের স্বরূপ অবলোকন করতে করতে মনে হতেই পারে যে, সমাধানের বদলে সংকট টিকিয়ে রাখতেই আসলে শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ হচ্ছে হয়তো! নইলে কি আর এমন নৈরাজ্য দিনের পর দিন চলে? নইলে কি আর রাজধানীর রাস্তায় সবাই রাজা বনে যায়!

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

বিষয়: রাজধানীযানজটযাত্রীযানবাহনঢাকাযান চলাচলআইন–শৃঙ্খলাসমাজদুর্ঘটনা
সর্বশেষ
  • ১

    ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে: হাইকোর্ট

  • ২

    খুলনায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

  • ৩

    ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আগুন, সবশেষ যা জানা গেল

  • ৪

    হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, গ্রেপ্তার ৪

  • ৫

    ই-সিগারেটসহ নতুন তামাকপণ্য ব্যবহারকারী সাড়ে ৫% তরুণ: গবেষণার ফল

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া