চরচা প্রতিবেদক

১৭ বছরের নির্বাসন শেষ!
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পা রাখলেন দেশের মাটিতে। তাকে বহনকারী বিমানটি যখন বাংলাদেশের আকাশসীমায় ঢুকল, ঠিক তখনই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট—“৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে তারেক রহমানের নির্বাসনের আরও একটি হিসাবে সবার চোখ আটকে যেতেই পারে—“৫৫ কোটি সেকেন্ড পর বাংলাদেশের মাটিতে তারেক রহমান।” ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছিল, সেই নির্বাসন শেষে ফেরার মহিমা এতটাই যে সময়ের হিসেবকে নানা এককে পরিমাপ করাটাও যেন আনন্দ আর স্বস্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
এই ১৭ বছর তিনি লন্ডনে বসেই বাবার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপির হাল ধরেছিলেন। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে তারেক রহমানের যেকোনো বক্তৃতা–বিবৃতি দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে কারণেই, মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে ১৫ বছর অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। মা খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যখন কারাগারে পাঠানো হয়, তখন রীতিমতো নেতৃত্বশূন্য বিএনপি। কিন্তু নির্বাসনে বসেও তারেক বিএনপির এই দুর্দিনে রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মনে হয়েছিল তারেক রহমান বোধহয় দ্রুতই ফিরবেন। হাসিনার পতনের পর তারেকের বাংলাদেশে ফেরা ছিল দেশের মানুষের চাওয়া। কিন্তু সেটা হয়নি। তিনি দ্রুততার সঙ্গে ফেরেননি। কেন বিএনপির নির্বাসিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরছেন না, তা নিয়ে মানুষ নিজেদের মতো করেই হিসেব–নিকেশ সাজিয়েছে। এক ধরনের ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছিল। গত জানুয়ারিতে খালেদা জিয়া যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন, তখন পুরো ব্যাপারটি নিয়ে জল্পনা–কল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বিএনপি থেকে তখন বারবার বলা হয়েছে, “তারেক রহমান খুব শিগগিরই ফিরবেন।” কিন্তু সেই সময়টা কোনোভাবেই আসছিল না। সর্বশেষ গত মাসে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক কবে ফিরবেন—এ নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল তুঙ্গে ওঠে। কিন্তু তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফেরা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তাঁর স্ট্যাটাসটি নানা প্রশ্ন তৈরি করেছিল। তবে ওসমান হাদি যেদিন গুলিবিদ্ধ হলেন, সেদিন রাতেই তারেক রহমান নিজের মুখেই জানিয়ে দেন ফেরার তারিখ। তাঁর এই ঘোষণা সব জল্পনা–কল্পনার আপাত সমাপ্তি ডেকেছিল।
তারেক রহমান এমন এক বাংলাদেশে নির্বাসন শেষে ফিরলেন, যখন এই রাষ্ট্র এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এখনকার সংকট অনেকটা তেমনই। রাষ্ট্রকাঠামো ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত। দেশে চলছে বড় ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা। সুযোগ–সন্ধানী বিভিন্ন গোষ্ঠী নানা কিছুতে দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে—এই সময় তারেকের ফেরাটা মানুষকে আশান্বিত করেছে। সেই সঙ্গে তারেক রহমানের জন্যও চ্যালেঞ্জটা বহুগুণে বেড়ে গেছে। বিএনপির রাজনীতিতে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রবেশ, দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও ১৭ বছর যা করেছেন, সেটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই রাজনীতির ‘কোয়ারেন্টিন’। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সত্যিকার অর্থেই আজ থেকে শুরু হবে মূল পরীক্ষা। সেটি বিএনপির প্রধান হিসেবে যেমন, নির্বাচনের পর তিনি যদি প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন তখনও।
তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যেটি, তা হলো সাম্প্রতিককালে দেশে যে এক ধরনের ডানপন্থী রাজনীতি ও মতবাদের যে বাড়বাড়ন্ত, সেটির বিপরীতে বিএনপির মধ্যপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। উদার গণতান্ত্রিক মধ্যপন্থী রাজনীতিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য যারা কল্যাণকর মনে করেন, এই মুহূর্তে নেতা হিসেবে তারেক রহমানই একমাত্র বিকল্প। দল হিসেবে বিএনপি। তাই রাজনীতির মাঠে তাঁর দায়িত্বের মাত্রাটাও অনেক বেশি। উগ্র ডানপন্থা যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি যে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ, সম্প্রতি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে অস্থিতিশীলতা, তা দিয়ে বোঝা গেছে।
এমন একটা পরিস্থিতিতে তারেকের ফেরার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়াতে গুরুত্ব পেয়েছে ভালো মতোই। রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়া তো তারেকের ফেরার খবর দিতে গিয়ে তাঁকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবেও বলছে। এমনকি আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর যে ভারত বাংলাদেশের প্রতি ‘যথেষ্ট বিরূপ’, সেই ভারতের মিডিয়াও তারেকের ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।
তারেক রহমান যখন দেশে ফিরলেন, তখন তাকে যেভাবে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, সেটির সঙ্গে তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসার সময়টির দারুণ মিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে রাষ্ট্র কাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থা বেরিয়ে এসেছিল সামনে। একই সঙ্গে দেশের শান্তি–শৃঙ্খলার মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেনাবাহিনীতে ক্যু–পাল্টা ক্যু দেশকে ঠেলে দিয়েছিল গভীর এক সংকটের মুখে। অনেকেই বলেন, দেশ তখন ছিল গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সেই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছিল। জিয়া পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহী–জনতার এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করার পর যেভাবে শক্ত হাতে দেশের হাল ধরেছিলেন, তারেককে করতে হবে সেটিই। তাঁর কাজটা আরও কঠিন হয়তো। কারণ জিয়া ক্ষমতার শীর্ষে গিয়েই কাজ করতে পেরেছিলেন, তারেকে ক্ষমতায় যেতে আগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে। সেটি উতরে যাওয়ার পর তাঁকে মোকাবিলা করতে হবে বিশৃঙ্খল রাষ্ট্র ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই রাজনীতিক হিসেবে তিনি কতটা কী করতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ, দেশের মানুষের ভাগ্য।
তারেক রহমান দেশে ফিরে মানুষের বিপুল সংবর্ধনা পেয়েছেন। পূর্বাচলের ৩০০ ফিটের জনস্রোতে তিনি যে বক্তৃতা করেছেন, সেটিতে মানুষের এই মুহূর্তের আশা–আকাঙ্খার অনেকটাই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বারবারই দেশে শান্তি–শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার কথা। তিনি বক্তৃতার শুরুতেই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলেছেন। পাহাড়ের, সমতলের বৈচিত্র্যকে তিনি উল্লেখ করেছেন, সব ধর্মের মানুষের কথা এনে তিনি বলেছেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যে–ই হোক না কেন ঘর থেকে বের হলে সে যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে।
তারেক রহমানের সে ধরনের বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে পারেন কিনা, এটাই দেখতে এখন মুখিয়ে দেশের মানুষ।

১৭ বছরের নির্বাসন শেষ!
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পা রাখলেন দেশের মাটিতে। তাকে বহনকারী বিমানটি যখন বাংলাদেশের আকাশসীমায় ঢুকল, ঠিক তখনই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট—“৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে তারেক রহমানের নির্বাসনের আরও একটি হিসাবে সবার চোখ আটকে যেতেই পারে—“৫৫ কোটি সেকেন্ড পর বাংলাদেশের মাটিতে তারেক রহমান।” ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছিল, সেই নির্বাসন শেষে ফেরার মহিমা এতটাই যে সময়ের হিসেবকে নানা এককে পরিমাপ করাটাও যেন আনন্দ আর স্বস্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
এই ১৭ বছর তিনি লন্ডনে বসেই বাবার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপির হাল ধরেছিলেন। নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রেখেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে তারেক রহমানের যেকোনো বক্তৃতা–বিবৃতি দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সে কারণেই, মূল ধারার সংবাদমাধ্যমে ১৫ বছর অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। মা খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যখন কারাগারে পাঠানো হয়, তখন রীতিমতো নেতৃত্বশূন্য বিএনপি। কিন্তু নির্বাসনে বসেও তারেক বিএনপির এই দুর্দিনে রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মনে হয়েছিল তারেক রহমান বোধহয় দ্রুতই ফিরবেন। হাসিনার পতনের পর তারেকের বাংলাদেশে ফেরা ছিল দেশের মানুষের চাওয়া। কিন্তু সেটা হয়নি। তিনি দ্রুততার সঙ্গে ফেরেননি। কেন বিএনপির নির্বাসিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফিরছেন না, তা নিয়ে মানুষ নিজেদের মতো করেই হিসেব–নিকেশ সাজিয়েছে। এক ধরনের ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছিল। গত জানুয়ারিতে খালেদা জিয়া যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন, তখন পুরো ব্যাপারটি নিয়ে জল্পনা–কল্পনা তুঙ্গে ওঠে। বিএনপি থেকে তখন বারবার বলা হয়েছে, “তারেক রহমান খুব শিগগিরই ফিরবেন।” কিন্তু সেই সময়টা কোনোভাবেই আসছিল না। সর্বশেষ গত মাসে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক কবে ফিরবেন—এ নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল তুঙ্গে ওঠে। কিন্তু তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফেরা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তাঁর স্ট্যাটাসটি নানা প্রশ্ন তৈরি করেছিল। তবে ওসমান হাদি যেদিন গুলিবিদ্ধ হলেন, সেদিন রাতেই তারেক রহমান নিজের মুখেই জানিয়ে দেন ফেরার তারিখ। তাঁর এই ঘোষণা সব জল্পনা–কল্পনার আপাত সমাপ্তি ডেকেছিল।
তারেক রহমান এমন এক বাংলাদেশে নির্বাসন শেষে ফিরলেন, যখন এই রাষ্ট্র এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এখনকার সংকট অনেকটা তেমনই। রাষ্ট্রকাঠামো ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত। দেশে চলছে বড় ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা। সুযোগ–সন্ধানী বিভিন্ন গোষ্ঠী নানা কিছুতে দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে—এই সময় তারেকের ফেরাটা মানুষকে আশান্বিত করেছে। সেই সঙ্গে তারেক রহমানের জন্যও চ্যালেঞ্জটা বহুগুণে বেড়ে গেছে। বিএনপির রাজনীতিতে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রবেশ, দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করলেও ১৭ বছর যা করেছেন, সেটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই রাজনীতির ‘কোয়ারেন্টিন’। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সত্যিকার অর্থেই আজ থেকে শুরু হবে মূল পরীক্ষা। সেটি বিএনপির প্রধান হিসেবে যেমন, নির্বাচনের পর তিনি যদি প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন তখনও।
তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যেটি, তা হলো সাম্প্রতিককালে দেশে যে এক ধরনের ডানপন্থী রাজনীতি ও মতবাদের যে বাড়বাড়ন্ত, সেটির বিপরীতে বিএনপির মধ্যপন্থী রাজনীতিকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। উদার গণতান্ত্রিক মধ্যপন্থী রাজনীতিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য যারা কল্যাণকর মনে করেন, এই মুহূর্তে নেতা হিসেবে তারেক রহমানই একমাত্র বিকল্প। দল হিসেবে বিএনপি। তাই রাজনীতির মাঠে তাঁর দায়িত্বের মাত্রাটাও অনেক বেশি। উগ্র ডানপন্থা যদি শক্তিশালী হয়, তাহলে সেটি যে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ, সম্প্রতি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যে অস্থিতিশীলতা, তা দিয়ে বোঝা গেছে।
এমন একটা পরিস্থিতিতে তারেকের ফেরার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়াতে গুরুত্ব পেয়েছে ভালো মতোই। রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়া তো তারেকের ফেরার খবর দিতে গিয়ে তাঁকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবেও বলছে। এমনকি আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর যে ভারত বাংলাদেশের প্রতি ‘যথেষ্ট বিরূপ’, সেই ভারতের মিডিয়াও তারেকের ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।
তারেক রহমান যখন দেশে ফিরলেন, তখন তাকে যেভাবে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে, সেটির সঙ্গে তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসার সময়টির দারুণ মিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে রাষ্ট্র কাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থা বেরিয়ে এসেছিল সামনে। একই সঙ্গে দেশের শান্তি–শৃঙ্খলার মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেনাবাহিনীতে ক্যু–পাল্টা ক্যু দেশকে ঠেলে দিয়েছিল গভীর এক সংকটের মুখে। অনেকেই বলেন, দেশ তখন ছিল গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সেই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছিল। জিয়া পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর সিপাহী–জনতার এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করার পর যেভাবে শক্ত হাতে দেশের হাল ধরেছিলেন, তারেককে করতে হবে সেটিই। তাঁর কাজটা আরও কঠিন হয়তো। কারণ জিয়া ক্ষমতার শীর্ষে গিয়েই কাজ করতে পেরেছিলেন, তারেকে ক্ষমতায় যেতে আগে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে। সেটি উতরে যাওয়ার পর তাঁকে মোকাবিলা করতে হবে বিশৃঙ্খল রাষ্ট্র ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই রাজনীতিক হিসেবে তিনি কতটা কী করতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ, দেশের মানুষের ভাগ্য।
তারেক রহমান দেশে ফিরে মানুষের বিপুল সংবর্ধনা পেয়েছেন। পূর্বাচলের ৩০০ ফিটের জনস্রোতে তিনি যে বক্তৃতা করেছেন, সেটিতে মানুষের এই মুহূর্তের আশা–আকাঙ্খার অনেকটাই প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বারবারই দেশে শান্তি–শৃঙ্খলা ও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, সকলে মিলে দেশ গড়ার কথা। তিনি বক্তৃতার শুরুতেই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা বলেছেন। পাহাড়ের, সমতলের বৈচিত্র্যকে তিনি উল্লেখ করেছেন, সব ধর্মের মানুষের কথা এনে তিনি বলেছেন, আমরা সবাই মিলে এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যে–ই হোক না কেন ঘর থেকে বের হলে সে যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে।
তারেক রহমানের সে ধরনের বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে পারেন কিনা, এটাই দেখতে এখন মুখিয়ে দেশের মানুষ।

ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার উত্তেজনা এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানী, সংবাদকক্ষ এবং নীতি-নির্ধারণী মহলে একটি প্রশ্ন নিয়েই বেশ গুঞ্জন চলছে: চীন কি শেষ পর্যন্ত ইরানের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে আসবে? আর যদি আসে, তবে সেই সহায়তার ধরণ কেমন হবে?

ইরানি বাহিনীর হাতের কাছেই বহু লক্ষ্যবস্তু আছে। এর মধ্যে রয়েছে–হরমুজ প্রণালী বা বৃহত্তর উপসাগরে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ। নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল, যাদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট