Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

তরুণদের আত্মহত্যা: উন্নয়নের আড়ালে অদৃশ্য সংকট

মো. ফজলুল করিম

মো. ফজলুল করিম

প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০২৬, ১১: ৫২
তরুণদের আত্মহত্যা: উন্নয়নের আড়ালে অদৃশ্য সংকট

আমাদের সমাজ বদলেছে। রাষ্ট্র হয়েছে আরও আধুনিক। শিক্ষা, প্রযুক্তি ও জীবনযাপনের নানা ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই অগ্রগতির আড়ালেই নীরবে বাড়ছে এক গভীর সংকট—তরুণদের হতাশা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর আমাদের নাড়িয়ে দেয়। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়—এমনকি দেশের শীর্ষ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা এক তরুণ, যিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন, ছুটিতে দেশে এসে আত্মহত্যা করেছেন—এমন ঘটনাও আমাদের সামনে এসেছে। এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহত্তর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রশ্ন জাগে—কেন এমন হচ্ছে? কেন এত সম্ভাবনাময় তরুণরা জীবনের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে?

অনেকে মনে করেন, বর্তমান প্রজন্ম দ্রুত সাফল্য অর্জনের এক তীব্র চাপের মধ্যে বাস করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য, জীবনযাত্রার চাকচিক্য এবং ক্রমাগত তুলনার সংস্কৃতি তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। নিজেদের জীবনকে তারা অন্যের মানদণ্ডে মাপতে গিয়ে সহজেই হতাশ হয়ে পড়ে। অল্পতেই ব্যর্থতার অনুভূতি গ্রাস করে, আর সেই ব্যর্থতাকে তারা অনেক সময় চূড়ান্ত বলে ধরে নেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
২০২৫ সালে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে: আঁচলachol (1)

এ ছাড়া এক ধরনের অদৃশ্য অতৃপ্তি তাদের মধ্যে কাজ করে। যা আছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার প্রবণতা কমে গেছে; বরং যা নেই, সেটিই তাদের চিন্তার কেন্দ্রে চলে আসে। বাস্তবতার সঙ্গে ফ্যান্টাসির এই দ্বন্দ্ব তাদের আরও বিচ্ছিন্ন ও হতাশ করে তোলে।

তবে এই প্রজন্মকে কেবল ‘স্বার্থপর’ বা ‘দুর্বল’ বলে দায়ী করাও একপেশে হবে। বাস্তবতা হলো–তারা এক ভিন্ন ধরনের চাপে বড় হচ্ছে—প্রতিযোগিতা, অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব এবং সামাজিক প্রত্যাশার বহুমাত্রিক চাপ তাদের মানসিক স্থিতি নষ্ট করে দিচ্ছে। পরিবার ও সমাজের সঙ্গে আবেগগত সংযোগও অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

আমাদের নিজেদের বেড়ে ওঠার সময়ের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের বাস্তবতার পার্থক্যও এখানে বিবেচ্য। একসময় সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ছোট ছোট অর্জনে আনন্দ ছিল, পরিবারকে কেন্দ্র করে এক ধরনের সংহতি ছিল। নতুন পোশাকের জন্য ঈদের অপেক্ষা, সীমিত চাহিদার মধ্যে জীবনযাপন—এসব অভিজ্ঞতা আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা এবং বাস্তবতা মেনে নেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।

পড়াশোনা নিয়ে ‘বকাবকি’ করায় ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’suicide 2

অন্যদিকে, বর্তমান প্রজন্ম ভোগের সহজলভ্যতা ও প্রত্যাশার উচ্চতায় এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে অপূর্ণতা সহ্য করার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। ফলে সামান্য ব্যর্থতাও তাদের কাছে অসহনীয় মনে হয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। রাষ্ট্রকে অবশ্যই তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদার মনোবিশারদ নিয়োগ, শিক্ষাক্রমে মানসিক সুস্থতা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা এবং হতাশা মোকাবিলার বাস্তবধর্মী কৌশল শেখানো এখন সময়ের দাবি।

পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সবারই দায়িত্ব রয়েছে তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ গড়ে তোলা, তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ব্যর্থতাকে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখানোর ক্ষেত্রে।

তরুণরা এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের হতাশা কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি জাতীয় ক্ষতি। তাই এখনই সময়—উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখার।

লেখক: অধ্যাপক, বিজিই বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয়: আত্মহত্যাতথ্যপ্রযুক্তিইংল্যান্ডউন্নয়নশিক্ষাবিশ্ববিদ্যালয়তরুণীসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমশিক্ষার্থীসমাজউচ্চশিক্ষা
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া