Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

শুধু মুক্ত ভূমি নয়, মানুষের সার্বিক মুক্তি চেয়েছিলাম

আক্কু চৌধুরী

আক্কু চৌধুরী

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ৫০
শুধু মুক্ত ভূমি নয়, মানুষের সার্বিক মুক্তি চেয়েছিলাম

পঞ্চাশ বছরেরও আগের স্মৃতি। আমি আর আমার সহযোদ্ধা আরিফ, আমাদের প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আহসানউল্লাহর নেতৃত্বে সাতক্ষীরা অভিযান শুরু করেছিলাম। স্যারের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। সেই ঘটনার পর অনেক বছর কেটে গেছে, সব কথা এখন পুরোপুরি মনে নেই। তবুও কিছু টুকরো মুহূর্ত ফিরে ফিরে আসে। আমার বন্ধু আরিফ হোসেন এই সময়ের ঘটনাগুলো নোট রাখার চেষ্টা করত। কিন্তু যুদ্ধের ক্ষত ও বীভৎসতা আমার মনে এমনভাবে দাগ কেটেছিল যে পাকিস্তানিদের নৃশংসতা আমাকে স্বপ্নের মধ্যেও তাড়া করত দীর্ঘ সময়। আমি সেই সময়ের রক্তক্ষয়ের মুহূর্তগুলোকে ভুলে গিয়ে নির্ঘুম রাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর। লেফটেন্যান্ট স্যার আমাকে, আরিফকে এবং আরও দেড়শোজনকে মহকুমা শহর সাতক্ষীরার দিকে অভিযানের প্রস্তুতি নিতে বললেন। উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা, মৃত্যুভয়–সব মিলিয়ে একটা মিশ্র অনুভূতি কাজ করছিল। আমরা হয়তো এমন একটা সময়ের জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম। আর সেই বয়সের উন্মাদনা আমাদের যুদ্ধের মুখোমুখি হওয়ার জন্য উন্মুখ করে তুলেছিল। শত্রুপক্ষের গুলিতে যদি প্রাণও যায়- সেটাই আমাদের নিয়তি আর তার মাধ্যমে আমরা পরিশোধ করব জন্মভূমির ঋণ। এটা এমন এক অনুভূতি, যা শুধু একজন প্রকৃত যোদ্ধাই অনুভব করতে পারে।

৪ ডিসেম্বরের সন্ধ্যায় আমরা ১৫ মাইল পথ হেঁটে ‘ঘোনা’ নামক এক গ্রামে পৌঁছাই। ঠান্ডা রাত, কাদামাটি আর ধানক্ষেত পেরিয়ে, হাঁটুসমান পানির ভেতর দিয়ে ধীর পায়ে এগোচ্ছিলাম। মাথার ওপর দিয়ে ভারতীয় কামানের গোলা শোঁ শোঁ করে ছুটে যাচ্ছিল। অস্ত্র, গুলির বাক্স, ভারতীয় সেনাবাহিনীর দেওয়া সোয়েটার ও কম্বল–সব কিছু নিয়ে এগোতে হচ্ছিল আমাদের। পানির নিচের কচুরিপানা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের কারণে হাঁটার সময় ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হচ্ছিল, তবু আমরা অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছিলাম।

পাকিস্তানি বাহিনী হার মানলেও ভুট্টো অনড়libaration war-ai

ঘোনা ছিল সাতক্ষীরা থেকে সাত মাইল দূরে। চার ঘণ্টার যাত্রা শেষে আমরা সেখানে ক্যাম্প করি। আক্রমণের নির্দেশ আসার অপেক্ষায় ছিলাম আমরা। এর মধ্যে খবর আসে পাকিস্তানি বাহিনী প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, ফলে ছোট ছোট সংঘর্ষ চলতেই থাকে। অবশেষে ৭ তারিখ সকালে আমরা সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করি। আমাদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর জন্য পাকিস্তানিরা পিছু হটতে হটতে সেতুগুলো উড়িয়ে দিচ্ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

শহরে ঢোকার আগে আমাদের কমান্ডার আহসানউল্লাহ পাকিস্তানিদের একটি জিপ দখল করে নেন। আমরা ছয়জন সেই জিপে উঠে পাকিস্তানি বাহিনীকে তাড়া করতে থাকি, যাতে তারা সংঘবদ্ধ হতে না পারে। আমাদের ওপর পাল্টা হামলা না চালাতে পারে। কিন্তু সেতু ধ্বংস করে দেওয়ায় আমাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। তাই আমাদের আদেশ দেওয়া হয় শহর থেকে চার মাইল উত্তরে বিনেরপোতা নামক জায়গায় অবস্থান নিতে। ভারতীয় বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট আমাদের সঙ্গে যোগ দেয় কিছুক্ষণের মধ্যে। তারপর শুরু হয় টহল, বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান। আমি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি আমার সেই সহযোদ্ধাদের, যাদের অনেকের নামও জানি না, যারা শুধু চেয়েছিল এক টুকরো মুক্ত ভূমি যেখানে তারা মানুষের মতো সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবে।

বাংলাদেশ পঞ্চাশ বছরে অনেক দূর এগিয়েছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের জন্য কিছু চাইনি, আমাদের স্বপ্ন ছিল এমন একটি দেশ গড়ে তোলার, যেখানে আমাদের সন্তানেরা ঔপনিবেশিক মানসিকতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে বেড়ে উঠবে। শুধু একটা মুক্ত ভূমি নয়, মানুষের সার্বিক মুক্তি। অনেক বড় স্বপ্ন, কিন্তু অসম্ভব নয়। কোনো একদিন আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব।

আরিফকে ধন্যবাদ। ওর সেই নোটগুলোর জন্যই আজ এই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারলাম।

আক্কু চৌধুরী: মুক্তিযোদ্ধা ও পর্যটন উদ্যোক্তা

বিষয়: মুক্তিযুদ্ধ১৬ই ডিসেম্বরসাতক্ষীরাবিজয় দিবস
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া