Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক: সুবিধা হবে কার?

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

ফাইয়াজ আহনাফ সামিন

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২: ০৩
গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক: সুবিধা হবে কার?
ছবি: চরচা

নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতে দেশের সব গণপরিবহনে গত ১ আগস্ট থেকে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। শুধু জিপিএস সংযুক্ত করাই নয়, জিপিএস বাধ্যতামূলকভাবে সবসময় চালু রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ প্রতিষ্ঠান থেকে গণপরিবহনগুলোকে জিপিএস সেবা নিতে হবে। এর জন্য এককালীন ও মাসিক খরচা করতে হবে বাস মালিকদের।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রশ্ন উঠছে, জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করার সুবিধা হবে কার? নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে বিআরটিএর এই পদক্ষেপ যাত্রীদের কতটা নিরাপত্তা দেবে?

গত ১১ জুন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নতুন যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন এবং পুরনো যানবাহনের ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস ডিভাইস থাকা বাধ্যতামূলক।

সরকারি নির্দেশনা মানার যে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কয়েকটি রুটের বাসচালক-সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশিরভাগ যানেই জিপিএস লাগানো হয়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কী ধরনের ডিভাইস বসাতে হবে

গণপরিবহনে কী ধরনের জিপিএস ডিভাইস ব্যবহার করতে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে বিআরটিএর একটি নির্দেশিকায়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, জিপিএস ডিভাইসটি অবশ্যই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদিত কোনো ভেন্ডর বা সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছ থেকে নিতে হবে। শুধু ডিভাইস লাগালেই চলবে না, সেই ডিভাইসের ডেটা বা তথ্য এপিআইয়ের মাধ্যমে বিআরটিএর কেন্দ্রীয় সার্ভারে যুক্ত থাকতে হবে।

বিআরটিএর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী জিপিএস ডিভাইসে বেশ কিছু অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্য থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথমত, অবস্থানের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে এর নির্ভুলতা বা পজিশনিং অ্যাকুরেসি হতে হবে অন্তত ২.৫ মিটারের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, জরুরি পরিস্থিতিতে সংকেত পাঠানোর জন্য ডিভাইসে অবশ্যই একটি ফিজিক্যাল এসওএস বাটন থাকতে হবে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয়ত, অত্যন্ত দুর্বল সিগন্যালেও যাতে অবস্থান শনাক্ত করা যায় সেজন্য ট্র্যাকিং সেন্সিটিভিটি হতে হবে মাইনাস ১৬২ ডিবিএম বা তার নিচে। চতুর্থত, ডিভাইসের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এটি ধুলোবালি ও জলরোধী বা আইপি৬৫ অথবা আইপি৬৮ রেটিং সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। পঞ্চমত, গাড়ির মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও যাতে ট্র্যাকিং সচল থাকে সেজন্য অন্তত ২৭০ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাকআপ ব্যাটারি থাকতে হবে।

সবশেষে, গাড়ির হার্শ ব্রেকিং, দ্রুত গতি বা দুর্ঘটনা শনাক্তের জন্য এতে এক্সিলারোমিটার সেন্সর এবং গাড়ির ইঞ্জিন চালু নাকি বন্ধ তা বোঝার জন্য ইগনিশন ডিটেকশন প্রযুক্তি থাকা বাধ্যতামূলক।

খরচ কত

বিআরটিএ এর নির্দেশনা অনুযায়ী ২০টি প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএস সংগ্রহ করা যাবে। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে সরকারি সংস্থাটি। প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো অন্যরকম ইলেক্ট্রনিকস। অন্যরকম ইলেক্ট্রনিকস এর আওতায় যানবাহনের জিপিএস ট্র্যাকার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হলো প্রহরী।

প্রহরীর ব্র্যান্ড মার্কেটিং হেড হিমেল আহমেদ চরচাকে বলেন, গণপরিবহনের জন্য বিশেষায়িত জিপিএস সার্ভিস ‘স্মার্ট বাস’ নিয়ে এসেছেন তারা। স্মার্ট বাস জিপিএস এ ডিভাইসের খরচ এককালীন ৪ হাজার ৫০০ টাকা। জিপিএসের সব সেবা পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে খরচ দিতে হবে ৫০০ টাকা।

গণপরিবহনে জিপিএস সিস্টেম চালু করছে সরকার: সেতুমন্ত্রী রবিউলrobiul alom

হিমেল বলেন, প্রহরীর জিপিএস বিআরটিএর এপিআইয়ের সাথে ইন্টিগ্রেট করা আছে। জিপিএস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মোবাইলের নির্দিষ্ট অ্যাপও তৈরি করেছেন তারা। অনুমোদনহীন জায়গা থেকে জিপিএস ডিভাইস কিনলে তা অ্যাপের সাথে সংযুক্ত করা যাবে না।

আরেকটি প্রতিষ্ঠান এনআইটিএস সার্ভিস লিমিটেডের কাছ থেকে জিপিএস ডিভাইস নিলে খরচ হবে ৫ হাজার টাকা, আর মাসিক খরচ ৫০০ টাকা। তাদেরও নিজস্ব অ্যাপ ব্যবহার করে জিপিএস চালাতে হবে। অ্যাপের জন্য আলাদা কোনো টাকা দিতে হবে না।

এই খরচ নিয়ে অবশ্য আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, সরকার আলোচনা ছাড়াই তাদের ওপর ব্যয়ের ‘বোঝা চাপিয়ে’ দিয়েছে।

এই ২০টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো জায়গা থেকে জিপিএস ডিভাইস নিলে তা বিআরটিএর অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) সাথে ইন্টিগ্রেট করা যাবে না বলে জানিয়েছে জিপিএস প্রোভাইডার কোম্পানিগুলো।

ছবি: চরচা
ছবি: চরচা

এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিআরটিএর নির্দিষ্ট মনিটরিং দল জিপিএস ডিভাইসগুলোর তথ্য যাচাই করতে পারবে। লাইভ লোকেশন দেখা, টোল আদায় করছে কি না তা দেখা, ইমার্জেন্সি বাটন (এসওএস) থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌঁছানোসহ আরও বিভিন্ন বিষয় থাকবে বিআরটিএর নজরদারিতে।

জিপিএস ট্র্যাকার বসালে কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে জানতে চাইলে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম চরচাকে বলেন, “জিপিএস ডিভাইসগুলো দিয়ে আমরা গণপরিবহনের প্রায় সবকিছুই ট্র্যাক করতে পারব। ট্র্যাকিং সিস্টেমের একটি প্রোটোটাইপ সফটওয়্যার আমরা ইতিমধ্যে ডেভেলপ করেছি। সফটওয়্যার লঞ্চ করা হলে জনগণের হাতে সেটার ওপেন এক্সেস থাকবে। সফটওয়্যারের অ্যাডমিন ফিড থাকবে মনিটরিং টিমের কাছে। মনিটরিং টিমও প্রায় প্রস্তুত আমাদের।”

জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪১৬Road accident

জিপিএস বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে বিআরটিএ কী ব্যবস্থা নিয়েছে সে বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান, পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. জাকির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবীবুর রহমান গত ১ আগস্ট একটি সংবাদপত্রকে বলেন, “নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কিংবা ফিটনেস সনদের জন্য আসার সময় জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত থাকতে হবে। বিআরটিএর ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে।”

কী প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে

সরকারের এই নতুন নির্দেশনা ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। নতুন করে খরচের ‘বোঝা’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ চরচাকে বলেন, “সরকার আমাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা দিয়ে মালিকদের ওপরে ব্যয়ের একটি বোঝা চাপানো হচ্ছে। একটি ট্র্যাকার কিনতে ৪-৫ হাজার টাকা লাগে, আবার মাসে মাসে ৫০০-৬০০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। বছরে ৭-৮ হাজার টাকা করে প্রতিটি গাড়ির পেছনে এই বাড়তি খরচ আমাদের মতো মালিকদের জন্য অনেক বড় ধাক্কা।”

কফিল উদ্দিন বলেন, “যেখানে আমরা ৪০-৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে কোনোমতে টিকে আছি, সেখানে এই প্রযুক্তির বাস্তবতা আমরা দেখছি না। এছাড়া এই ট্র্যাকার যদি চোর খুলে ফেলে বা কয়েক মাস পর নষ্ট হয়ে যায়, তবে এর তদারকি করবে কে? কেবল বিআরটিএর ফিটনেস সনদ পাওয়ার জন্য এটি একটি লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা হয়ে দাঁড়াবে।”

চলতি মাস থেকে সকল গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। ছবি: চরচা
চলতি মাস থেকে সকল গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। ছবি: চরচা

অবশ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বাগত জানালেও কিছু শঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান। চরচাকে তিনি বলেন, “গণপরিবহন তদারকিতে জিপিএসের কোনো বিকল্প নেই। এতে গাড়ির গতি, রুট এবং অবস্থান ঘরে বসেই মনিটর করা সম্ভব।”

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতার অভাব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সমস্যা হলো আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব। প্রযুক্তি দিলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি তদারকি করার জন্য দক্ষ জনবল ও সৎ প্রশাসন থাকতে হবে। বিআরটিএ বা পুলিশের মধ্যে যদি সেই তদারকি করার মানসিকতা না থাকে, তবে এই জিপিএস কেবল একটা প্লাস্টিকের বাক্স ছাড়া আর কিছুই নয়।”

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অসন্তোষের জবাবে সাইদুর রহমান বলেন, “বাস মালিকরা জিপিএস লাগাতে চায় না কারণ তাদের অধিকাংশ গাড়িই মেয়াদোত্তীর্ণ এবং ভাঙাচোরা। দেশে ৫ লাখ মোটরযান এখন ত্রুটিপূর্ণ, যার মধ্যে ৭৫ হাজারই বাস ও ট্রাক। এই জিপিএস লাগানো বাধ্যতামূলক হলে তাদের লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো সব ধরা পড়বে। তাদের ভয় ১০ হাজার টাকার যন্ত্র কেনা নয়, তাদের ভয় হলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অনিয়মগুলো জনসমক্ষে চলে আসবে।”

কী পরিবর্তন আসতে পারে

জিপিএস ট্র্যাকার গণপরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে কার্যকর করা গেলে বাসের গতিসীমা অতিক্রম করার সাথে সাথে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ম বেজে উঠবে, যা বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এ ছাড়া অনুমোদিত রুটের বাইরে গাড়ি চালানো বা রুট ভায়োলেশন রোধ করা সহজ হবে। বাসে কোনো ডাকাতি, হয়রানি বা বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এসওএস বাটনের মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে যা যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি বাস মালিকরা তাদের গাড়ির ট্রিপ সংখ্যা ও জ্বালানি সাশ্রয় মনিটর করার সুযোগ পাবেন যা পুরো পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে।

সরকারি এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরিবহন পরিকল্পনাবিদ ও সড়ক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, “গণপরিবহনে আইটি ইন্টিগ্রেশনের জন্য বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন। প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই এআই বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিবহনগুলোর চলাচলের একটি প্যাটার্ন বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।”

যাত্রীদের সুবিধার কথা তুলে তিনি বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, কিছু লোকাল বাস রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলে। বিভিন্ন অনিয়ম করে। কিন্তু জিপিএস ট্র্যাকার থাকলে তাদের এ কাজগুলো সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একইসাথে সড়কের যে এলাকাগুলোতে গণপরিবহন দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকে, সেই ‘ডিলে টাইম’ ট্রাক করে সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব। যেসব রুটে রাত পর্যন্ত বাস চলে, সেখানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পারবে জিপিএস ট্র্যাকার। কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিশ্চিত হলে গণপরিবহনগুলোর যাত্রীসেবা নিশ্চিত হবে।”

যা বলছেন চালক-যাত্রীরা

জিপিএস ট্র্যাকার নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই পরিবহন খাতের শ্রমিকদের মাঝে। নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরাগামী বিকাশ বাসের ড্রাইভার মনির মিয়া বলেন, “একেক সরকার একেক রকম প্রযুক্তি নিয়া আসে। কিন্তু দিন শেষে কারও লাভ নাই। যারা আইন বানায়, তারা তো আর বাসে চড়ে না। আমাগো মালিকরাও চড়ে না। গরীব ড্রাইভার আর হেল্পারদের জীবন কঠিন করাই তাগো কাজ।”

তবে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানোর সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ধানমন্ডিতে অফিস করেন শাহানারা বেগম। চরচাকে তিনি বলেন, “রাতে যখন বাড়ি ফিরি বাসে করে, একটু ভয় লাগে। সরকার যদি এমন নির্দেশ দেয় যে সব লোকাল বাস নজরদারিতে থাকবে, তাহলে আমার মতো চাকরিজীবী নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।”

বিষয়: বিএনপিযানবাহনবাসসরকারগণপরিবহনট্রাকবাংলাদেশ
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

    সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত ফেরত দেওয়া চলছে। টাকা তোলার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরুর পর প্রথম তিন দিনে ৫৮ হাজার ৭৪৫ জন গ্রাহক মোট ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে ২৬ হাজার ৫৬ জন গ্রাহক ব্যাংক থেকে মো

  • সিলেট নগরে যানজট: দায় কার, হকার নাকি অবৈধ পার্কিংয়ের?

    সিলেট নগরে যানজট: দায় কার, হকার নাকি অবৈধ পার্কিংয়ের?

    ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, যানজটমুক্ত ও সুন্দর সিলেটের কথা চিন্তা করে এই আধুনিক লাক্সারি বাসস্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ঘুরেফিরে ওই মূল রাস্তাতেই বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। এসব দেখার বা বলার কেউ নেই।

  • আশুলিয়ায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, যা জানা গেল

    আশুলিয়ায় ‘ট্রিপল মার্ডার’, যা জানা গেল

    ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার ‘ট্রিপল মার্ডারের’ রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সোমবার মধ্যরাতে তাকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে

  • এজেন্টদের অভিযোগ এন্তার, বিকাশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

    এজেন্টদের অভিযোগ এন্তার, বিকাশ বলছে ‘ভিত্তিহীন’

    মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ–এর বিরুদ্ধে এজেন্টদের ওপর ডিপিএস ও লেনদেনের টার্গেট পূরণে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অবশ্য বিকাশ এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলেই উড়িয়ে দিয়েছে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে