সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সাংসদ। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের পরপরই প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে। এই ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হর্তাকর্তারা। কেননা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যকর থাকলেও বাংলাদেশে এর আগে কখনো কোনো ছায়া মন্ত্রিসভা ছিল না। সেই পথে জামায়াত কতদূর এগিয়েছে? বাজেট অধিবেশনে এই মন্ত্রিসভা বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রিসভার কথাই প্রকাশ করেনি জামায়াতে ইসলামী। যদিও দলটির নেতারা দাবি করছেন, ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ চূড়ান্ত করে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, অনেকের মধ্যে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেহেতু ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো আইনী কাঠানো নেই, সেটাও তৈরী করতে চায় জামায়াত।
ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গঠিত একটি বিকল্প মন্ত্রিসভা। এতে বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে ‘ছায়ামন্ত্রী’ নির্ধারণ করা হয়। সেই ‘ছায়ামন্ত্রী’ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সরকারি নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করবে। বিকল্প নীতি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে সহায়তা করে। ছায়া মন্ত্রীদের মূল ভূমিকা হলো পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন।
জামায়াত নেতারা বলে আসছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সরকারের সমান্তরালে একটি নীতিনির্ভর পর্যবেক্ষণ কাঠামো তারা তৈরী করতে চান। সেই চিন্তা থেকেই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গত ৩০ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও ওই ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি।
জামায়াত নেতারা বলছেন, কেবল সরকারের সমালোচনা নয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প বাজেট উপস্থাপনের মতো দায়িত্বও পালন করতেই তারা ছায়া মন্ত্রিসভা করছেন। এ জন্য চলতি মাসে বাজেট অধিবেশনে আসতে যাচ্ছে ‘ছায়া বাজেট’।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) চরচাকে বলেন, ‘‘ছা্য়া মন্ত্রিসভার কাজ প্রায় চূড়ান্তের দিকে। খুব শিগগির এটা আসবে।”
আইনের স্বীকৃতির ব্যবস্থা
ছায়া মন্ত্রিসভা বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা কতটুকু–জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) চরচাকে বলেন, ‘‘এখানে একটি বিষয় আছে যে, যে সব দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার রেওয়াজ আছে, সেখানে ছায়া মন্ত্রিসভা স্বীকৃত। কিন্তু আমাদের দেশে তো এর আইনী স্বীকৃতি নেই। আমরা আইনী স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছি। চেষ্টা করছি আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা যাতে হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”
ছায়া মন্ত্রিসভার আইনী স্বীকৃতি দিতে সরকার আন্তরিক হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘‘বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আমরা আশা করব, সরকার এ বিষয়ে উদারতা দেখাবে।”
এবারই ছায়া বাজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মীর আহমদ বিন কাসেম।
জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটির আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ সংক্রান্ত কাজ করতে দায়িত্বশীলদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের কাছ করছেন। তাদের কাজের মধ্য দিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। অতীতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বাংলাদেশে ছিল না। ফলে এটাকে বাস্তবায়িত করার আগে অনেক কিছু ভাবতে হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান।
সম্প্রতি জাপান সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি আবারও সামনে আনেন। জামায়াত নেতারা জানান, কাজ চূড়ান্ত করে আনা হলেও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে বিষয়টি একেবাবে নতুন। ফলে নতুন একটি বিষয় চূড়ান্ত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে ‘সময় নিতে’ চায় জামায়াত। ফলে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘ছায়া মন্ত্রীর কাজ যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা করছে।”
ছায়া মন্ত্রিসভা করতে কোনো আইন কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেতে হবে কি না–জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘‘আমি জানি না।”
তবে এখানে একটি সমস্যা হচ্ছে, কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছে কাজের জন্য তথ্য চাওয়া হলে সরকারের আন্তরিকতা লাগবে কি না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিলন বলেন, ‘‘আন্তরিকতার প্রশ্ন নেই। প্রভিশনের প্রশ্ন। ধরেন, আমি কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চাই, সে তো দিতে বাধ্য না।”
সরকার আন্তরিক থাকবে কি না– আবারও জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘আমরা সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছি না। আমরা কাজ করছি। প্রয়োজন হলে সরকারের সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন তো। কাজেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলেরই অভ্যস্ততার বিষয় আছে।”
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে নির্বাচিত জামায়াতের প্রায় সব সদস্যই কোনো না কোনোভাবে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে দলের দায়িত্বশীল অন্য নেতারাও বিভিন্ন পদে যুক্ত হবেন। তবে তাতে বিরোধী জোটের বাকি দলগুলোর কেউ যুক্ত থাকবেন কি না–সে ব্যাপারে তারা স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি।
সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘সংসদ সদস্যদের বাইরে দলীয় নেতারাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকছেন। একটি বিভাগে বিভিন্ন এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ) নিয়ে কাজ করতে হবে তো। এ জন্য যারা সংসদের বাইরের, তারাও কাজ করবে।”
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদের সাবেক নেতাদেরও এই কার্যক্রমে রাখা হতে পারে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী থাকবেন, যারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করবেন এবং যেসব ক্ষেত্রে অসংগতি বা দুর্বলতা থাকবে, সেগুলো চিহ্নিত করে জনসম্মুখে তুলে ধরবেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য দরকার হলে বিষয়টি কীভাবে করা হবে–জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘এখনো বিষয়টি ঠিক করা হয়নি। দেখা যাক, নির্ভরযোগ্য ডকুমেন্ট পেতে হলে তো আমাদের অফিসিয়ালি যেতে হবে।”
ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা দায়িত্বে
এ বিষয়ে জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে গেছে। যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা এবং তাদের সহযোগীরা, তারা কাজও শুরু করেছে। এটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এটা আমরা প্রকাশ্যে বলব না। কারণ আমাকে একটি দায়িত্ব দেওয়া হলো, সেটা আমি পারছি কি না, সেটাও তো আমার সংগঠনের দেখার বিষয় আছে। এখনই আমরা বিষয়টি নিয়ে পাবলিকলি কিছু বলছি না। আমরা কাজ করছি। সময় হলে এটা নিয়ে বলা হবে।”
জামায়াত নেতারা জানিয়েছে, ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সমালোচনাই করবে না, বিভিন্ন বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাবও দেবে। বিবৃতি দেবে, সংসদে কথা বলবে, নীতিগত সুপারিশ করবে। এর মাধ্যমে সরকারকেই সহযোগিতা করবে। জামায়াত নেতাদের মতে, ছায়া মন্ত্রিসভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসনিক প্রস্তুতি। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নেতারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ, বাজেট, আইন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। ফলে ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার সুযোগ এলে তাদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।
সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাজেট দেবে ছায়া মন্ত্রিসভা। প্রয়োজন হলে বিকল্প বাজেট বা বিকল্প অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরা হতে পারে। সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘‘এই বাজেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। কিন্তু কীভাবে দেব, এটা এখনো চূড়ান্ত করিনি।”
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই?
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই যেন ছায়া মন্ত্রিসভা কিংবা সরকার না তৈরী হয়–সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি চরচাকে বলেন, ‘‘ছায়া মন্ত্রিসভা সামনে এলে কিছু প্রশ্ন থেকে যাবে। যারা সরকারে আছেন, ছায়া মন্ত্রিসভার পদে আছেন– তারা হয়তো চিন্তা করে চলবেন যে, ছায়া মন্ত্রিসভা কিংবা সরকার তাদের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারে কি না। অথবা তারা যেগুলো করছেন কিংবা যেগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেগুলোর ব্যাপারে সরকারকে তারা পরামর্শ দিতে পারেন কি না।
কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরীর জন্য যে ধরনের পড়াশোনা ও প্রস্তুতি দরকার, টিম দরকার। বাংলাদেশে সরকার যন্ত্রের যে লোকজন আছে, সেখানেই তো অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে দেখি না। সেখানে ছায়া সরকার কিংবা মন্ত্রিসভা কিভাবে যাদের প্রণোদনা আছে তাদের ওয়াচডগের মধ্যে রাখবে?”
বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভা খুব চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, “যদি পারে তাহলে তো খুবই ভালো। কিন্তু এটা যেন এমন না হয়ে যায় যে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই ছায়া সরকার বা মন্ত্রিসভা না তৈরী হয়। এমন হলে এটা খুবই বাজে দৃষ্টান্ত হবে বাংলাদেশের জন্য। এমন হলে এই ধারণাটাই পঁচে যাবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘যারা ছায়া সরকার কিংবা মন্ত্রিসভা করবে, সেটা তো দলের ভেতর থেকে হয়। বিরোধী দলগুলোই ছায়া মন্ত্রিসভা করে। এটা তাদের জন্যই ভালো হয়। তারা যখন আগামী নির্বাচনে যাবে, তখন তাদের কাছে অনেক তথ্য থাকবে, তারা অনেক পরিকল্পনা করতে পারবে। যেহেতু তারা ৫ বছর ধরে সরকারকে পরখ করবে। এটা যতটা না জনগনের লাভ, তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ, যারা ছায়া সরকার তৈরী করে তাদের। পরবর্তী নির্বাচনে তারা সহজেই পলিসি তৈরী করবে পারবে।”
দেশে দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা
ছায়া মন্ত্রিসভা সবচেয়ে সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী যুক্তরাজ্যে। ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে ‘‘সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল বিরোধী দল” ধারণা থেকে এর উদ্ভব। অর্থাৎ বিরোধী দল সরকারের বিরোধিতা করলেও রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকে।
সেখানে যিনি বিরোধী দলের নেতা হন তার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রতিটি সরকারি মন্ত্রীর বিপরীতে একজন ছায়ামন্ত্রী থাকেন। যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত অংশ। অনেক সময় ছায়ামন্ত্রীরাই পরবর্তী নির্বাচনে জিতে প্রকৃত মন্ত্রী হয়ে যান।
যুক্তরাজ্য ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডায় ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সাংবিধানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা নেই। তবে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক দলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। কানাডায় এই কাঠামোকে অনেক সময় ‘অপজিশন ক্রিটিক’ বলা হয়, যেখানে প্রতিটি খাতের জন্য একজন দায়িত্বশীল সমালোচক নির্ধারিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, জ্যামাইকা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতেও বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে।
সংসদে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সাংসদ। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের পরপরই প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছিল, তারা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে। এই ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হর্তাকর্তারা। কেননা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কার্যকর থাকলেও বাংলাদেশে এর আগে কখনো কোনো ছায়া মন্ত্রিসভা ছিল না। সেই পথে জামায়াত কতদূর এগিয়েছে? বাজেট অধিবেশনে এই মন্ত্রিসভা বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মন্ত্রিসভার কথাই প্রকাশ করেনি জামায়াতে ইসলামী। যদিও দলটির নেতারা দাবি করছেন, ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ চূড়ান্ত করে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, অনেকের মধ্যে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেহেতু ছায়া মন্ত্রিসভার কোনো আইনী কাঠানো নেই, সেটাও তৈরী করতে চায় জামায়াত।
ছায়া মন্ত্রিসভা হলো সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গঠিত একটি বিকল্প মন্ত্রিসভা। এতে বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে ‘ছায়ামন্ত্রী’ নির্ধারণ করা হয়। সেই ‘ছায়ামন্ত্রী’ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সরকারি নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করবে। বিকল্প নীতি ও প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে সহায়তা করে। ছায়া মন্ত্রীদের মূল ভূমিকা হলো পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপন।
জামায়াত নেতারা বলে আসছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করতে সরকারের সমান্তরালে একটি নীতিনির্ভর পর্যবেক্ষণ কাঠামো তারা তৈরী করতে চান। সেই চিন্তা থেকেই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গত ৩০ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়ে গেলেও ওই ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি।
জামায়াত নেতারা বলছেন, কেবল সরকারের সমালোচনা নয়, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রয়োজন হলে বিকল্প বাজেট উপস্থাপনের মতো দায়িত্বও পালন করতেই তারা ছায়া মন্ত্রিসভা করছেন। এ জন্য চলতি মাসে বাজেট অধিবেশনে আসতে যাচ্ছে ‘ছায়া বাজেট’।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) চরচাকে বলেন, ‘‘ছা্য়া মন্ত্রিসভার কাজ প্রায় চূড়ান্তের দিকে। খুব শিগগির এটা আসবে।”
আইনের স্বীকৃতির ব্যবস্থা
ছায়া মন্ত্রিসভা বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা কতটুকু–জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) চরচাকে বলেন, ‘‘এখানে একটি বিষয় আছে যে, যে সব দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার রেওয়াজ আছে, সেখানে ছায়া মন্ত্রিসভা স্বীকৃত। কিন্তু আমাদের দেশে তো এর আইনী স্বীকৃতি নেই। আমরা আইনী স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছি। চেষ্টা করছি আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা যাতে হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি।”
ছায়া মন্ত্রিসভার আইনী স্বীকৃতি দিতে সরকার আন্তরিক হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘‘বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আমরা আশা করব, সরকার এ বিষয়ে উদারতা দেখাবে।”
এবারই ছায়া বাজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মীর আহমদ বিন কাসেম।
জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটির আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ সংক্রান্ত কাজ করতে দায়িত্বশীলদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের কাছ করছেন। তাদের কাজের মধ্য দিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। অতীতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বাংলাদেশে ছিল না। ফলে এটাকে বাস্তবায়িত করার আগে অনেক কিছু ভাবতে হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী আমীর শফিকুর রহমান।
সম্প্রতি জাপান সফরকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি আবারও সামনে আনেন। জামায়াত নেতারা জানান, কাজ চূড়ান্ত করে আনা হলেও বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে বিষয়টি একেবাবে নতুন। ফলে নতুন একটি বিষয় চূড়ান্ত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে ‘সময় নিতে’ চায় জামায়াত। ফলে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘ছায়া মন্ত্রীর কাজ যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা করছে।”
ছায়া মন্ত্রিসভা করতে কোনো আইন কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেতে হবে কি না–জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘‘আমি জানি না।”
তবে এখানে একটি সমস্যা হচ্ছে, কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছে কাজের জন্য তথ্য চাওয়া হলে সরকারের আন্তরিকতা লাগবে কি না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিলন বলেন, ‘‘আন্তরিকতার প্রশ্ন নেই। প্রভিশনের প্রশ্ন। ধরেন, আমি কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য চাই, সে তো দিতে বাধ্য না।”
সরকার আন্তরিক থাকবে কি না– আবারও জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘‘আমরা সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছি না। আমরা কাজ করছি। প্রয়োজন হলে সরকারের সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন তো। কাজেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলেরই অভ্যস্ততার বিষয় আছে।”
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে নির্বাচিত জামায়াতের প্রায় সব সদস্যই কোনো না কোনোভাবে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে দলের দায়িত্বশীল অন্য নেতারাও বিভিন্ন পদে যুক্ত হবেন। তবে তাতে বিরোধী জোটের বাকি দলগুলোর কেউ যুক্ত থাকবেন কি না–সে ব্যাপারে তারা স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি।
সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘সংসদ সদস্যদের বাইরে দলীয় নেতারাও এর সঙ্গে যুক্ত থাকছেন। একটি বিভাগে বিভিন্ন এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ) নিয়ে কাজ করতে হবে তো। এ জন্য যারা সংসদের বাইরের, তারাও কাজ করবে।”
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ছাত্র সংসদের সাবেক নেতাদেরও এই কার্যক্রমে রাখা হতে পারে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী থাকবেন, যারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন, নীতিগত সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করবেন এবং যেসব ক্ষেত্রে অসংগতি বা দুর্বলতা থাকবে, সেগুলো চিহ্নিত করে জনসম্মুখে তুলে ধরবেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য দরকার হলে বিষয়টি কীভাবে করা হবে–জানতে চাইলে সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘এখনো বিষয়টি ঠিক করা হয়নি। দেখা যাক, নির্ভরযোগ্য ডকুমেন্ট পেতে হলে তো আমাদের অফিসিয়ালি যেতে হবে।”
ছায়া মন্ত্রিসভায় কারা দায়িত্বে
এ বিষয়ে জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন চরচাকে বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে গেছে। যাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা এবং তাদের সহযোগীরা, তারা কাজও শুরু করেছে। এটাও সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এটা আমরা প্রকাশ্যে বলব না। কারণ আমাকে একটি দায়িত্ব দেওয়া হলো, সেটা আমি পারছি কি না, সেটাও তো আমার সংগঠনের দেখার বিষয় আছে। এখনই আমরা বিষয়টি নিয়ে পাবলিকলি কিছু বলছি না। আমরা কাজ করছি। সময় হলে এটা নিয়ে বলা হবে।”
জামায়াত নেতারা জানিয়েছে, ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সমালোচনাই করবে না, বিভিন্ন বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাবও দেবে। বিবৃতি দেবে, সংসদে কথা বলবে, নীতিগত সুপারিশ করবে। এর মাধ্যমে সরকারকেই সহযোগিতা করবে। জামায়াত নেতাদের মতে, ছায়া মন্ত্রিসভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসনিক প্রস্তুতি। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নেতারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজ, বাজেট, আইন ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। ফলে ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার সুযোগ এলে তাদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।
সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাজেট দেবে ছায়া মন্ত্রিসভা। প্রয়োজন হলে বিকল্প বাজেট বা বিকল্প অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরা হতে পারে। সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘‘এই বাজেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। কিন্তু কীভাবে দেব, এটা এখনো চূড়ান্ত করিনি।”
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই?
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই যেন ছায়া মন্ত্রিসভা কিংবা সরকার না তৈরী হয়–সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি চরচাকে বলেন, ‘‘ছায়া মন্ত্রিসভা সামনে এলে কিছু প্রশ্ন থেকে যাবে। যারা সরকারে আছেন, ছায়া মন্ত্রিসভার পদে আছেন– তারা হয়তো চিন্তা করে চলবেন যে, ছায়া মন্ত্রিসভা কিংবা সরকার তাদের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারে কি না। অথবা তারা যেগুলো করছেন কিংবা যেগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেগুলোর ব্যাপারে সরকারকে তারা পরামর্শ দিতে পারেন কি না।
কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরীর জন্য যে ধরনের পড়াশোনা ও প্রস্তুতি দরকার, টিম দরকার। বাংলাদেশে সরকার যন্ত্রের যে লোকজন আছে, সেখানেই তো অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে দেখি না। সেখানে ছায়া সরকার কিংবা মন্ত্রিসভা কিভাবে যাদের প্রণোদনা আছে তাদের ওয়াচডগের মধ্যে রাখবে?”
বাংলাদেশে ছায়া মন্ত্রিসভা খুব চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, “যদি পারে তাহলে তো খুবই ভালো। কিন্তু এটা যেন এমন না হয়ে যায় যে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই ছায়া সরকার বা মন্ত্রিসভা না তৈরী হয়। এমন হলে এটা খুবই বাজে দৃষ্টান্ত হবে বাংলাদেশের জন্য। এমন হলে এই ধারণাটাই পঁচে যাবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘যারা ছায়া সরকার কিংবা মন্ত্রিসভা করবে, সেটা তো দলের ভেতর থেকে হয়। বিরোধী দলগুলোই ছায়া মন্ত্রিসভা করে। এটা তাদের জন্যই ভালো হয়। তারা যখন আগামী নির্বাচনে যাবে, তখন তাদের কাছে অনেক তথ্য থাকবে, তারা অনেক পরিকল্পনা করতে পারবে। যেহেতু তারা ৫ বছর ধরে সরকারকে পরখ করবে। এটা যতটা না জনগনের লাভ, তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ, যারা ছায়া সরকার তৈরী করে তাদের। পরবর্তী নির্বাচনে তারা সহজেই পলিসি তৈরী করবে পারবে।”
দেশে দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা
ছায়া মন্ত্রিসভা সবচেয়ে সুসংগঠিত ও প্রভাবশালী যুক্তরাজ্যে। ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে ‘‘সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল বিরোধী দল” ধারণা থেকে এর উদ্ভব। অর্থাৎ বিরোধী দল সরকারের বিরোধিতা করলেও রাষ্ট্র ও সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকে।
সেখানে যিনি বিরোধী দলের নেতা হন তার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। প্রতিটি সরকারি মন্ত্রীর বিপরীতে একজন ছায়ামন্ত্রী থাকেন। যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত অংশ। অনেক সময় ছায়ামন্ত্রীরাই পরবর্তী নির্বাচনে জিতে প্রকৃত মন্ত্রী হয়ে যান।
যুক্তরাজ্য ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডায় ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সাংবিধানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা নেই। তবে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক দলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে। কানাডায় এই কাঠামোকে অনেক সময় ‘অপজিশন ক্রিটিক’ বলা হয়, যেখানে প্রতিটি খাতের জন্য একজন দায়িত্বশীল সমালোচক নির্ধারিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, জ্যামাইকা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতেও বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে।