Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

রাজনীতি নয়, এখন প্রয়োজন জননীতি

রহমান মৃধা

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫: ৫৫
রাজনীতি নয়, এখন প্রয়োজন জননীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মৌলিক রূপান্তরের সময় এসে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির যে চর্চা চলেছে, তা আজ জনসমর্থনের সংকটে পড়েছে। অর্থ, প্রভাব কিংবা সংগঠনের জোরে রাজনীতি চালানো গেলেও জনগণের আস্থা আর সহজে অর্জিত হচ্ছে না। মানুষ এখন জানে—কে কী করেন, কোথায় যান, কার স্বার্থে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই জানাই রাজনীতির পুরোনো ভাষাকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রাজনীতি আর মাইক্রোফোন ধরে উচ্চকণ্ঠে বক্তৃতা কিংবা নির্বাচনের আগে আশ্বাসের ফুলঝুরি ছোড়ার বিষয় নয়। সেই যুগ পেরিয়ে এসেছে জননীতি—যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, কষ্ট ও প্রত্যাশা নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে থাকে। জননীতি মানে কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বাস্তবে পরিবর্তন। মানুষ এখন ফলাফল দেখতে চায়—সেবা, ন্যায় ও জীবনের সহজতায়।

একটি বড় ভুল রাজনীতিবিদেরা দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছেন—তারা জনগণকে সরল ভেবেছেন। বাস্তবে জনগণ মোটেও সরল নয়। তারা জানে কোন উন্নয়ন প্রকৃত, আর কোনটি কেবল প্রদর্শনী। তারা বোঝে কোন প্রকল্প জনস্বার্থে, আর কোনটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সুবিধার ঢাল। এই সচেতন জনগণ এখন আর প্রশ্ন করে না—ভোটের মাধ্যমে জবাব দেয়।

জননীতির পথে হাঁটতে হলে প্রথম শর্ত আত্মসমালোচনা। প্রশাসন ও রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো জনগণের জন্য কতটা উন্মুক্ত, সেটি নিজেকেই আগে যাচাই করতে হবে। চারপাশে যারা ক্ষমতার ছায়ায় ব্যবসা করে, তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে হবে। জননীতি মানে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব নেওয়ার সাহস। এই গুণগুলো ছাড়া রাজনীতির গায়ে নতুন শব্দ জুড়ে দিলেও বাস্তব বদলায় না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

দ্বিতীয় শর্ত হলো সংযোগ। নীতিনির্ধারকেরা যদি মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা না বোঝেন, তবে বড় প্রকল্পও অর্থহীন হয়ে পড়ে। একটি পরিবারের শিক্ষাখরচ বন্ধ হয়ে গেলে তার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব কী—সেই বোধ না থাকলে রাজনীতি কেবল দূরত্বই বাড়ায়। জননীতি মানে বিদেশ সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের তালিকা নয়; জননীতি মানে প্রতিদিনের ছোট সমস্যাগুলোর সমাধান।

তৃতীয় শর্ত সংস্কৃতি ও নৈতিকতা। জনগণ সহজেই বুঝে ফেলে কে আন্তরিক, আর কে কেবল সততার ভান করে। নীতিনির্ধারকের ব্যক্তিগত আচরণ, ভাষা ও সিদ্ধান্ত—সবকিছুই বিশ্বাসযোগ্যতার অংশ। জননীতি এমন এক মানদণ্ড দাবি করে, যা মানুষ নিজের জীবনেও অনুসরণ করতে আগ্রহী হয়।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তব অর্জন। কাগজে লেখা পরিকল্পনা নয়, ফাইলে বন্দি রিপোর্ট নয়—মানুষ বিচার করে ফল দিয়ে। সেবা পৌঁছেছে কি না, দুর্নীতি কমেছে কি না, জীবন সহজ হয়েছে কি না—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরেই রাজনৈতিক মূল্যায়ন হয়। কাজ চোখে না পড়লে প্রচার দ্রুতই অর্থহীন হয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে ওসমান হাদির জীবন ও আদর্শ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তার রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক অবস্থান, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা এবং জনগণের সঙ্গে গভীর সংযোগ। তিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেছিলেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চিন্তার স্বাধীনতাকে তিনি সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান শক্তি বলে বিশ্বাস করতেন।

দুর্নীতি, আধিপত্যবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি ছিল জননীতির দর্শনের ওপর আঘাত। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—যারা ভয়ের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে জনগণের শক্তিকে সামনে আনে, তাদের পথ সহজ হয় না।

তবু সত্য থেকে যায়—ন্যায়ের পথে হাঁটাই ইতিহাসে স্থায়ী হওয়ার একমাত্র উপায়। ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, দেহ থেমে যেতে পারে, কিন্তু আদর্শ টিকে থাকে। জননীতি সেই আদর্শেরই নাম, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মানুষের মর্যাদা বড়, আর ভোটের চেয়েও সম্মান মূল্যবান।

আজ তাই প্রশ্ন একটাই—আমরা কি পুরোনো রাজনীতির চর্চায় আটকে থাকব, নাকি জননীতির পথে সাহসী পদক্ষেপ নেব?

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

*লেখক গবেষক ও সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। ইমেইল: [email protected]

বিষয়: নৈতিকতারাজনীতিসংস্কৃতিজননীতিজনগণমুক্ত মতমুক্ত আলোচনা
সর্বশেষ
  • ১

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক জোরদারে মোদি-পুতিন সমঝোতা

  • ২

    খসড়া সাইবার সুরক্ষা আইন স্বাধীন মতপ্রকাশে ঝুঁকি সৃষ্টি করবে: টিআইবি

  • ৩

    অর্থ আত্মসাতে জড়িত ছিল চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি: পুলিশ

  • ৪

    হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের

  • ৫

    ‘আমরা জেনারেশন নাইন ইলাভেন’

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।