চট্টগ্রামের খুলশীতে গ্রেপ্তার বিদেশিরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাত করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন দেশের অধিবাসী হলেও তারা একটি চক্র হিসেবে অনলাইনে প্রতারণার কাজটি করে আসছিল।
আজ শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য জানান।
ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, “খুলশী থানার দুবাই প্রবাসীর ওই আটতলা ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানার পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের নিকট থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দেড় শতাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।”
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাকিস্তানের ২১ জন, লাওসের ৩৫ জন, চীনের পাঁচজন এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।”
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল। তাদের অপরাধমূলক র্কাযক্রম পরিচালনায় এ দেশীয় সহযোগীও রয়েছে।”
ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, “তাদের নিকট থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন, একটি অ্যাপল ট্যাব, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় খুলশী থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে।”
ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে তারা অপরাধ সংঘটন করে আসছিল। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে অনলাইনে অপরাধের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান জোরদার হওয়ায় চক্রটি নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কারো কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তাদের সকল পাসপোর্ট এক ব্যক্তির কাছে রাখা আছে। তাকে ধরা গেলে এবং পাসপোর্টগুলো জব্দ করা গেলে বলা যাবে তারা কীভাবে কখন এ দেশে এসেছিলেন।”