Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

এসসিও সম্মেলন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের দিকে ভারতের ঝুঁকে পড়া

সহিদুল আলম স্বপন, জেনেভা, সুইজারল্যান্ড

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২: ৫৭
এসসিও সম্মেলন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের দিকে ভারতের ঝুঁকে পড়া

২০২৫ সালের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলন ভারতের জন্য ছিল এক অনন্য কূটনৈতিক মঞ্চ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ৭ বছরের পর চীন সফর, সেখানে সি চিন পিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উপস্থিতি—এসব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন এক বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার পর ভারতের এই ঝুঁকে পড়া কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা? নাকি এটি কেবল ভারতের বহুস্তরীয় কূটনৈতিক কৌশলেরই যৌক্তিক বহিঃপ্রকাশ?

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

১৯৯০-এর দশকের পর থেকে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি—সবখানেই সহযোগিতা বেড়েছে। কোয়াড (Quad) গঠনে ভারতের ভূমিকা ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সহযোগী হিসেবে ভারতের অবস্থান বহু দিনের। কিন্তু আমেরিকার সাম্প্রতিক শুল্কনীতি, বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ, দিল্লিকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।

ভারতের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র কেবল সহযোগী নয়, বরং প্রায়শই চাপ প্রয়োগকারী শক্তি হিসেবেও সামনে এসেছে। বাণিজ্য ঘাটতি, প্রতিরক্ষা ক্রয়, এমনকি রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের চাপ প্রায়শই একতরফা মনে হয়েছে। ফলে ভারত কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চীনের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন ও নতুন বাস্তবতা

ভারত–চীন সম্পর্ক গত দশকে বরাবরই সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে উত্তপ্ত ছিল। গালওয়ান সংঘর্ষ দুই দেশের আস্থার ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দেয়। তবুও, বাস্তবতা হলো—চীন ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। প্রযুক্তি, উৎপাদন, অবকাঠামো—সবখানেই চীনের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এসসিওতে ভারতের সক্রিয় উপস্থিতি কেবল প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগত। সীমান্তে শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও দিল্লি বুঝতে পারছে, চীনকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে বৈশ্বিক সমীকরণ সাজানো সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে ভারত কূটনৈতিক মঞ্চে নিজেদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে চাইছে।

এসসিওর ভূরাজনীতি ও ভারতের অবস্থান

এসসিও মূলত চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে পাকিস্তানও সদস্য। ফলে ভারতের উপস্থিতি অনেক সময়ে ‘বেমানান’ মনে হলেও বাস্তবে এটি ভারতের জন্য একটি প্রয়োজনীয় ভারসাম্য। ভারত এখানে দুই দিক থেকে ভূমিকা রাখছে।

এক. চীন–রাশিয়া–পাকিস্তান জোটের একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিহত করা।

দুই. আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জোরালো করা।

তিন. কখনো কখনো ভারত যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর না করায় বিতর্ক তৈরি হলেও এটি ভারতের স্বাধীন অবস্থানেরই প্রমাণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

ওয়াশিংটন থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এসেছে—ভারত, চীন, রাশিয়াকে ‘bad actors’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী যে, দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠিত হতে পারে। এর মানে হলো, ওয়াশিংটন দিল্লির এই কূটনৈতিক খেলা বুঝছে, কিন্তু তাতে অস্বস্তিও প্রকাশ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারতকে চীনের প্রতিরোধে কৌশলগত সহযোগী হিসেবে রাখতে। কিন্তু ভারত যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের শিবিরে বাধা পড়ে যায়, তবে তার স্বার্থসিদ্ধি সীমিত হয়ে যাবে। এই কারণেই দিল্লি বহুমাত্রিক কূটনীতিকে বেছে নিচ্ছে।

বিশ্বাসঘাতকতার যুক্তি

অনেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কূটনৈতিক সমর্থন ও অর্থনৈতিক সুযোগ দিয়েছে, তখন চীনের দিকে ভারতের ঝুঁকে পড়া আসলেই বিশ্বাসঘাতকতা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের চোখে ‘পিঠে ছুরি মারা’র মতো। বিশেষ করে কোয়াড ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপ অনেককে হতাশ করেছে।

এ ছাড়া, সীমান্ত সংঘর্ষে চীনের বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান ভারত নিয়েছিল, সেটি হঠাৎ পরিবর্তিত হওয়া অনেকের চোখে অসঙ্গতিপূর্ণ।

কৌশলগত বাস্তবতার যুক্তি

অন্যদিকে বাস্তবতাকে বিবেচনা করলে ভারতের এই পদক্ষেপ অনেকটাই যৌক্তিক। বহু ধ্রুববিশ্বে একক মিত্রের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ।
ভারতের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে বৈচিত্র্যময় বাজার ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।
নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান–চীন অক্ষকে প্রতিহত করতে ভারতের ভেতরে থেকেই প্রভাব বিস্তার জরুরি। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি ত্যাগ না করে, চীনের দিকেও সাময়িক ঝুঁকে ভারসাম্য রক্ষা করাই ভারতের মূল কৌশল।

‘বিশ্বাসঘাতকতা’ শব্দটি অনেকটা আবেগপ্রবণ। বাস্তবতায় ভারত তার সার্বভৌম স্বার্থ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ওয়াশিংটনকে এটি তিক্ত লাগলেও দিল্লির কাছে এটি কূটনৈতিক স্বনির্ভরতারই বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং, ভারতের এই ঝুঁকে পড়াকে বিশ্বাসঘাতকতা বলা ঠিক নয়; বরং এটি কৌশলগত বাস্তবতায় চালিত একটি অপরিহার্য বহুমাত্রিক পদক্ষেপ, যা দীর্ঘমেয়াদে ভারতকেই শক্তিশালী করে তুলবে।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

*লেখক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং কলামিস্ট ও কবি। email: shahidul.alam@bluewin

বিষয়: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকোয়াডএসসিওচীনভ্লাদিমির পুতিনসি চিনপিংভারতরাশিয়ানরেন্দ্র মোদি
সর্বশেষ
  • ১

    সিকৃবির উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত

  • ২

    ‘আমাদেরকে পুতুল বানানো হয়েছে, আমাদের বাজার নেওয়ার জন্য’

  • ৩

    গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ২৪ আসামি রিমান্ডে

  • ৪

    সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ‘আত্মহত্যা’, কী বার্তা চিরকুটে?

  • ৫

    এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।