ads

বিশ্বকাপ ম্যাচের এক টিকিটের দাম দুই মাসের বেতনের সমান!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বিশ্বকাপ ম্যাচের এক টিকিটের দাম দুই মাসের বেতনের সমান!

নিজ দেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের কাছে শুরু থেকেই স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিটের দাম যেন সব সীমা ছাড়িয়েছে। সর্বোচ্চ মূল্য গিয়ে ঠেকেছে ১৬ লাখ টাকার বেশি পর্যন্ত!

টিকিটের এমন দামের কারণে স্থানীয়দের অনেকেই স্পোর্টস বার বা কমিউনিটি ওয়াচ পার্টিতে গিয়ে বিনা খরচে খেলা দেখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইসাবেল শাভেজ নামের এক মার্কিন ফুটবলভক্ত শুনিয়েছেন কঠিন বাস্তবতার কথা, “এত দাম দিয়ে টিকিট কেনা মানে আমার প্রায় দুই মাসের বেতন উড়িয়ে দেওয়া। আমি কখনোই এত দাম দিয়ে টিকিট কিনতে পারব না।”

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে এবারই, যা নিয়ে দর্শকদের মাঝে দেখা যাচ্ছে ক্ষোভ। সোমবার সিয়াটলে শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র।

স্টাবহাবে এই ম্যাচটির সবচেয়ে কম দামের টিকিট ছিল প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলার, আর সর্বোচ্চ দাম পৌঁছেছে ১৩ হাজার ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় যা ১৬ লাখ ৪ হাজার ৩৮২ টাকা। অন্যদিকে টিকিটমাস্টারে টিকিটের মূল্য ছিল ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন ৩ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৯ টাকা গচ্চা যাবে স্রেফ একটা ম্যাচের জন্যই।

যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা জেইন আলালির মতে, দর্শকদের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “দামটা খুবই অযৌক্তিক। নিজের দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে এত টাকা খরচ করা উচিত না। তবে আমার ভাগ্য ভালো, কারণ আমার এক বন্ধু লটারিতে ৫০০ ডলারে একটি টিকিট জিতেছে আর সে সেটা আমাকে দিয়ে দিয়েছে।”

আরেক সমর্থক সামিরা পেরেজের ভাগ্য অবশ্য এতোটা ভালো নয়। তিনি তাই টেলিভিশনেই খেলা দেখবেন। একটা আক্ষেপও আছে তার, “স্বাগতিক দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের তো অন্তত ২০ শতাংশ ছাড় পাওয়া উচিত ছিল।”

তবে যারা একটু বুদ্ধিমান, তারা আগেই বিপদের আঁচ পেয়েছিলেন। তাই আগেভাগেই তুলনামূলক কম দামে টিকিট কিনে রেখেছিলেন। সিয়াটলের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল সান্তাক্রুজ সেই দলেরই একজন। তিনি ও তার বন্ধুরা মিলে প্রায় ৪৩০ ডলারে টিকিট কিনেছিলেন বিশ্বকাপ শুরুর আগেই। এখন সেই একই টিকিটের মূল্য ৩ হাজার ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

যেহেতু স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা সম্ভব না, তাই অনেকেই বন্ধুবান্ধব ও আপনজনদের নিয়ে খেলা দেখার পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। সামিরা পেরেজ এতেই খুঁজে পাচ্ছেন আনন্দ, “টিকিটের দাম যতই বাড়ুক না কেন, আমরা তো একসঙ্গে বসে খেলা দেখবই। আমাদের কিন্তু এখানে (স্পোর্টস বার) আসতে কোনো টাকা লাগেনি, অথচ দারুণ সব মানুষের সঙ্গে খেলা দেখে বিশ্বকাপের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারছি। আমার কাছে তো এটাই বেশি ভালো লাগছে।”

সম্পর্কিত