ads

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি
সিরাজগঞ্জে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ছবি: ইউএনবি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। কয়েক দিন আগে নদীর পানি সামান্য কমলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করে। এর ফলে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চৌহালী, কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

কাজীপুর উপজেলার খাস রাজবাড়ি ও চর গিরীশ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, চৌহালীর চর সালিমাবাদ, সিরাজগঞ্জ সদরের পূর্ব বাহুকা ও কাওয়াকোলা চর এবং শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইতিমধ্যে অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

অনেক বাসিন্দা নিজেদের ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেকে সবকিছু হারিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদরের পূর্ব বাহুকা এলাকায় ভাঙন কিছুটা কমলেও চৌহালী ও কাজীপুরের চরাঞ্চলে এখনও অব্যাহত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর রক্ষার কাজ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মাসে চৌহালী ও কাজীপুরে পৃথক দুটি ঘটনায় প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তাদের দাবি, পাউবো সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়। সাধারণত ভাঙন শুরু হওয়ার পরই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে প্রতিবছরই একই ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনার পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

তিনি বলেন, “নদীর তীব্র স্রোত এবং তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।”

তবে তিনি জানান, পানির উচ্চতা বাড়লেও আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সম্পর্কিত