Advertisement Banner

মার্কিন এলপিজির দিকে ঝুঁকছে এশিয়া

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মার্কিন এলপিজির দিকে ঝুঁকছে এশিয়া
ছবি: ফ্রিপিক থেকে নেওয়া

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারত ও চীনের মতো এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প হিসেবে আমেরিকার বাজারের দিকে ঝুঁকছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরবরাহ সংকটে স্পট মার্কেটে এলপিজির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলপিজি রপ্তানি আগের মাসের তুলনায় ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দৈনিক ৪ লাখ ১৯ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। রান্নার কাজে এবং পেট্রো কেমিক্যাল শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত এই জ্বালানির প্রধান উৎস ছিল মধ্যপ্রাচ্য।

জ্বালানি মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ‘আর্গাস’-এর মতে, সরবরাহ সংকটের কারণে এপ্রিল মাসে লোড করা প্রোপেন ও বিউটেনের টন প্রতি ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর দাপ্তরিক মূল্যেও। যেখানে প্রোপেন টন প্রতি ২০৫ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০ ডলারে। অন্যদিকে, বিউটেন টন প্রতি ২৬০ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০০ ডলারে।

আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ‘মারেক্স’-এর পেট্রোকেমিক্যাল ট্রেডিং বিভাগের প্রধান বাসুদেব বালগোপাল বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও চীন তাদের আমদানি কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে। তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যের বদলে যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে এবং কানাডা থেকে বেশি পরিমাণে এলপিজি সংগ্রহ করছে।”

এশিয়ার জ্বালানি ঘাটতি মেটানোর জন্য এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এলপিজি রপ্তানি রেকর্ড ২৭ লাখ বিপিডি বা ‘ব্যারেল পার ডে’ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ১৮ লাখ বিপিডি এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। যা মার্চ মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।

আর্গাস-এর তথ্যমতে, এই বিপুল চাহিদার কারণে গত ১৯ মার্চ মার্কিন উপকূলে প্রোপেন এবং বিউটেনের স্পট টার্মিনাল ফি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যার টন প্রতি দাম যথাক্রমে ২৭৩ দশমিক ৫২ ডলার এবং ২৪০ দশমিক ০৯ ডলার।

সম্পর্কিত