৭২ মিনিটে সুইজারল্যান্ড দশ জনের দল হয়ে পড়লেও আর্জেন্টিনা সেটার সুবিধা নিতে পারেনি। পারবে বলেও মনে হচ্ছিল না।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হলো ১-১ সমতায়, অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধও শেষ। মেসি দু-একবার চেষ্টা করেছেন, নির্ধারিত সময়ে একবার আর অতিরিক্ত সময়ে তার দুটি শট গোলের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল ভালোভাবে। কিন্তু অতটুকুই। সুইজারল্যান্ড প্রাণপণে ডিফেন্ড করে যাচ্ছিল, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের দেখেই ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। টাইব্রেকারই তখন মনে হচ্ছিল ভবিতব্য।
সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন এই চিন্তা করেই অনুশীলনে টাইব্রেকারের পেছনে আলাদা সময় ব্যয় করেছেন। সে অবশ্য দল লাল কার্ড খেলে কী করতে হবে, সে অনুশীলনই তিনি করেছিলেন বলে ম্যাচের আগে খবর এসেছে।
কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ উল্টেপাল্টে দিল হুলিয়ান আলভারেসের এক চোখধাঁধানো শট। ১১২ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের বক্সের বাইরে বল পেলেন আলভারেস, এই বিশ্বকাপে এর আগ পর্যন্ত যিনি ছিলেন গোলহীন। কানসাসেও আজ খুব একটা ভালো খেলেননি – অন্তত গোল করার সম্ভাবনা জাগানো তেমন কিছু করতে পারেননি। সেটা ১১২ মিনিটের আগের কথা।
১১২তম মিনিটে বলটা পেয়েই বক্সের বাইরে থেকে চোখধাঁধানো এক বাঁকানো শট আলভারেসের। পুরো স্টেডিয়ামকে মুগ্ধ করে দিয়ে বল জড়িয়ে গেল জালে! সুইজারল্যান্ড গোলকিপার কোবেল ঝাঁপিয়ে পড়েও কোনো লাভ হলো না।
আর্জেন্টিনা স্বস্তি পেল।
সুইজারল্যান্ড এরপর সমতা ফেরানোর জন্য দশজন নিয়েই ঝাঁপাবে, জানা কথা। তা করতে গিয়ে উল্টো আরেকটা গোল খেয়ে গেল শেষ মুহূর্তে। ১১৯ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ওঠা আর্জেন্টিনার হয়ে থিয়াগো আলমাদার শট ফিরিয়ে দেন সুইস গোলকিপার, কিন্তু পাশেই দৌড়ে উঠতে থাকা লওতারো মার্তিনেস এরপর ফিরতি বল জড়িয়ে দেন জালে।
যে ম্যাচ টাইব্রেকারে যাওয়ার কথা, সেই ম্যাচ আর্জেন্টিনা জিতে গেল ৩-১ গোলে। দশম মিনিটে মেসির কর্নারে ম্যাকঅ্যালিস্টারের হেডে আর্জেন্টিনার এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয়ার্ধে এনডয়ের গোলে সুইসদের সমতা, এর তিন মিনিট পরই ব্রিল এমবোলোর ডাইভিংয়ের অভিযোগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড…এর বাইরে খুব বেশি মুহূর্ত জন্ম দিতে না পারা ম্যাচে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়েরও শেষ মুহূর্তে হঠাৎ দুই গোল পেয়ে উঠে গেল সেমিফাইনালে!