একটু আগেই গোল করে ফেরালেন সমতা। তবে খানিক বাদেই বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেহারায় রাজ্যের হতাশা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে তাকে আরও হতাশ করে সমতা টেনে উদযাপনে মেতে উঠল ক্রোয়েশিয়া। তবে নাটকীয়তায় ভরপুর ম্যাচে বাতিল হল সেই গোল। হৃদয় ভাঙল লুকা মদরিচদের, শেষ হাসি রোনালদোর পর্তুগালের।
রাউন্ড অব ৩২-এর শুক্রবার সকালের ম্যাচে ২-১ গোলে শেষ ১৬-তে পৌঁছেছে পর্তুগাল। দলটির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন গনসালো রামোস।
শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে খেলবে পর্তুগাল।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৪১ বছর বা তার বেশি বয়সে মাঠে নামা প্রথম ফুটবলার তিনিই।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। স্তানিশিচকে দুর্দান্ত গতিতে পেছনে ফেলে রাফায়েল লিয়াও বাইলাইন থেকে বক্সের ভেতরে কাট-ব্যাক করে পাস বাড়ান ব্রুনো ফার্নান্দেসকে। প্রথম টাচেই শট নেন তিনি, তবে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ দারুণ সেভে তা ফিরিয়ে দেন।
স্কটল্যান্ডের লো-ব্লক রক্ষণের সামনে বিরতির আগে সেভাবে আর সুবিধা করতে পারেনি পর্তুগাল। ৫৩তম মিনিটে আচমকাই গোল করে বসে ক্রোয়েশিয়া। মাত্তেও কোভাচিচ মাঝমাঠ থেকে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় থাকা সুচিচের দিকে বল ছড়িয়ে দেন। সুচিচ বক্সের দিকে কাট-ইন করে বাড়ান ডান দিক দিয়ে ওভারল্যাপ করে ওঠা স্তানিশিচের কাছে। তিনি বক্সে নিখুঁত ক্রস দেন, যা থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান।
এর কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে লেয়াওয়ের দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে। ৬০তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার জালে বল জড়িয়ে উল্লাস শুরু করে দিয়েছিলেন রোনালদো। তবে ভিএআর অফসাইডের কারণে তা বাতিল করে দেয়।
৬৪তম মিনিটে অবশ্য পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল হয়নি রোনালদোর। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন মাঝ বরারব শট রেখে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের অষ্টম ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটিও নিজের করে নিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এতদিন এটি ছিল আরেক পর্তুগিজ পেপের দখলে (৩৯ বছর ২৮৩ দিন)।
৭৫ মিনিটে ডাবল সেভে পর্তুগালকে বাঁচান গোলকিপার। একাই দুটি শট নেন কোভেচিচ, যার একটি আবার পোস্টে আঘাত করে। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে, তখনই ব্যবধান গড়ে দেন বদলি নামা রামোস।
গোটা ম্যাচে দারুণ খেলা লেয়াওর উঁচু করে বাড়ানো ক্রসে হেড থেকে ঠিকানা খুঁজে নেন পিএসজি স্ট্রাইকার। তবে ১১২তম মিনিটে ফের নাটক। এবার পর্তুগালের জালে বল পাঠিয়ে আনন্দে ফেটে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। তবে ভিআর সেই গোল বাতিল করে দেয় অফসাইডের কারণে। তাতেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় গত দুই বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়ার।