এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন, জানালেন আইন উপদেষ্টা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন, জানালেন আইন উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অথবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আইন উপদেষ্টা বলেন, “যারা সংসদ সদস্য হবেন তাদের শপথ পড়ানোর কথা স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। উনারা না থাকলে বিকল্প বিধানও আছে। আমাদের এখানে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ। আরেকজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে। তারা পদত্যাগও করেছেন। বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় উনাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করানোর কোনো স্কোপ আছে বলে আমি মনে করি না।”

আসিফ নজরুল বলেন, “আমাদের আইনে আছে উনারা যদি শপথ পড়াতে না পারেন তাহলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত; অর্থ্যাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। তিন দিনের মধ্যে যদি শপথ না হয় তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ গ্রহণ করতে পারবেন। এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ে সিদ্ধান্ত। আমি চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভেঙে দেন। এর ২৭ দিনের মাথায় ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এখন জেলে আছেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিতদের শপথ নিতে হয়। স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার না থাকলে দিন দিন পর সিইসি শপথ পড়াতে পারেন। এছাড়া সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার ছাড়া রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে।

নির্বাচন কাছে চলে আসায় সংসদ সচিবালয় আনুষাঙ্গিক কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেই হিসেবে সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাংবাদিকদের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, “আমাদের সামনে দুটো অপশন আছে। এক হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ স্বরূপ, আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারে। যদি না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না। নির্বাচন হওয়ার পরে যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।”

সম্পর্কিত