থাইল্যান্ডে নির্বাচন আজ, হচ্ছে গণভোটও

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
থাইল্যান্ডে নির্বাচন আজ, হচ্ছে গণভোটও
স্থানীয় সময় আজ রোববার সকাল ৮টার দিকে থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডে তিন বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির সংবিধান সংস্কার নিয়েও একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

স্থানীয় সময় আজ রোববার সকাল ৮টার দিকে দেশটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ধীর অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও তীব্র জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যেই চলছে দেশটির পাঁচ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের সমর্থন পাওয়ার লড়াই।

যদিও ভোটে অংশ নিচ্ছে ৫০টিরও বেশি দল, তবে সাংগঠনিকভাবে এবং জনপ্রিয়তার দিক থেকে কেবল তিনটি দল জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

দল তিনটি হলো- নাথাফং রুয়েংপানিয়াউতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘পিপলস পার্টি’, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল দল ‘ভুমজাইথাই পার্টি’ ও কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দল ‘ফিউ থাই’ ।

জরিপ বলছে, কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে না। তাই ৫০০ আসনের পার্লামেন্টে জোট আলোচনা হয়ে উঠছে অপরিহার্য। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের মাধ্যমে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রগতিশীল পিপলস পার্টির সবচেয়ে বেশি আসন জেতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেনাবাহিনী ও আদালতের ক্ষমতা কমানো এবং বড় বড় ব্যবসার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙার মতো পরিকল্পনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা হয়তো একত্রিত হয়ে সরকার গঠন করে দলটিকে বাইরে রাখতে পারে।

মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির এই উত্তরসূরি দল ২০২৩ সালে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর মনোনীত সিনেটের বাধার কারণে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। পরে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলীন করে দেয়, কারণ তারা থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের সম্মান রক্ষার আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিল।

চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল দল ভুমজাইথাই পার্টিকে রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীর সমর্থন পাওয়া প্রধান দল হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তিনি গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় ছিলেন। পেতংতার্নকে দেশটির সাংবিধানিক আদালত বরখাস্ত করে। অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকি পাওয়ার পর চার্নভিরাকুল ডিসেম্বর মাসে পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

ফিউ থাই হলো এই নির্বাচনে তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থানসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থিত রাজনৈতিক আন্দোলনের নতুন রূপ। এই দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী থাকসিনের ভাতিজা যোদচানান ওংসাওয়াত।

তাদের দলটি থাই রাক থাই দলের পপুলিস্ট নীতি অবলম্বন করেছে। এই দল ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল এবং পরে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারায়।

এই সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, থাইল্যান্ড কি ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করবে কি না।

সম্পর্কিত