এক হালি গোল স্পেনের
চরচা ডেস্ক

‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ বলাটা একটু বেশি কাব্যিক হয়ে যাবে। এমনও তো নয় যে স্পেন একেবারে খাদে পড়ে গিয়েছিল! পুঁচকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাকে টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট দলগুলোর একটির জন্য বড়জোর ছোটখাটো একটা হোঁচট বলা যায় আর কী!
আগের ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারার জ্বালা স্পেন জুড়াল এক হালি গোল করে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিপক্ষে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবালদের ফুটবল স্পেনকে হট ফেবারিট বলার স্বার্থকতা প্রমাণ করল ৪-০ গোলের জয়ে।
সে পথে ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলো বরং জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি তৃপ্তি জোগাবে স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমে। আগের ম্যাচের হিসাবনিকাশ উল্টে দিয়েছেন ওইয়ারসাবাল, এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে শুরু থেকে নামা ইয়ামাল যে ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, তাতেই রেকর্ডবইয়ে পেলে ছাড়া বাকি সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন, স্কোরবোর্ডে বাতিল হওয়া গোল আর পোস্ট কাঁপানো শটেরও স্বীকৃতির ব্যবস্থা থাকলে স্পেনের গোল হতো আধডজন! কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ৬৭তম জন্মদিনে আর কী চাইতে পারতেন!
ইয়ামাল পারবেন স্পেনের বিশ্বকাপ মিশন বাঁচাতে?
ইয়ামাল শুরু থেকে খেলবেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে বড়জোর মিনিট ষাটেক আর অনুকূলে থাকলে আরও কম তাকে মাঠে রাখবেন স্পেন কোচ – এসব ম্যাচের আগেই অনুমিত ছিল। ম্যাচের পরিস্থিতি ইয়ামালকে নিয়ে ৪৫ মিনিটের বেশি ঝুঁকি নেওয়ার কোনো কারণই রাখল না দে লা ফুয়েন্তের সামনে।
ক্রুইফ টার্নে মুগ্ধতা ছড়িয়ে শুরু ইয়ামালের, ১০ মিনিটে স্পেনের প্রথম গোলটিও তার। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সী ইয়ামালের চেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে নেমে দলের প্রথম গোলটিও করার কীর্তি আছে শুধু পেলে নামের এক ভদ্রলোকের (১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে, ১৭ বছর ২৪১ দিন বয়সে)।
তবে কেপ ভার্দে ম্যাচের সঙ্গে তুলনায় গেলে প্রত্যাবর্তনের গল্পটা ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবালের। আগের ম্যাচে প্রথম ৩০ মিনিটে বলে একবারও পা ছোঁয়াতে পারেননি, তাতে নাম জুড়ে গিয়েছিল অস্বস্তির এক রেকর্ডে – বিশ্বকাপ ইতিহাসে অমন ‘কীর্তি’ যে আর কারও ছিল না। সেই ওইয়ারসাবাল আজ ইয়ামালের গোলে অ্যাসিস্ট করলেন, এরপর ২১ আর ২৪ মিনিটে করলেন দুই গোল! এতেও হলো রেকর্ড, এবার দারুণ গর্বের – বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল আর এক অ্যাসিস্ট করে ফেলার কীর্তি এর আগে ছিলই কেবল একটি, ১৯৮২-তে এল সালভাদরের বিপক্ষে হাঙ্গেরির লাজলো ফাজেকাসের।
অবশ্য ওইয়ারসাবালকে আরেকটা পরিসংখ্যানও তৃপ্তি দেবে – স্পেনের হয়ে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল আর ৭ অ্যাসিস্ট হলো তার! ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা মেসি-রোনালদোসুলভ রেকর্ড! ঠিক বক্সে ওঁৎ পেতে থাকা প্রথাগত নাম্বার নাইন নন, যাকে ফলস নাইন বলা যায়, এমন একজনের জন্য অবিশ্বাস্য!
২৫ মিনিটেই তিন গোলে এগিয়ে, তা-ও ধারে-ভারে পিছিয়ে থাকা সৌদি আরবের বিপক্ষে, স্পেনের তখন ফুরফুরে মেজাজে বাকি সময় পার করার পালা। বিরতিতেই ইয়ামাল আর ওইয়ারসাবাল দুজনকেই তুলে নিলেন স্পেন কোচ। বাকি সময়েও চুপ থাকবে কী! দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে না হতেই ৪৯ মিনিটে চতুর্থ গোল স্পেনের! তবে গোলদাতা স্প্যানিশ নন, সৌদি। লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজ জালেই জড়িয়ে দিলেন সৌদি আরবের ডিফেন্ডার হাসান আলতামবাকতি।
যেদিন ভালো যায়, সেদিন সবই পক্ষে যায় আর কী!

‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ বলাটা একটু বেশি কাব্যিক হয়ে যাবে। এমনও তো নয় যে স্পেন একেবারে খাদে পড়ে গিয়েছিল! পুঁচকে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাকে টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট দলগুলোর একটির জন্য বড়জোর ছোটখাটো একটা হোঁচট বলা যায় আর কী!
আগের ম্যাচে কোনো গোল করতে না পারার জ্বালা স্পেন জুড়াল এক হালি গোল করে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিপক্ষে লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবালদের ফুটবল স্পেনকে হট ফেবারিট বলার স্বার্থকতা প্রমাণ করল ৪-০ গোলের জয়ে।
সে পথে ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলো বরং জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি তৃপ্তি জোগাবে স্প্যানিশ ড্রেসিংরুমে। আগের ম্যাচের হিসাবনিকাশ উল্টে দিয়েছেন ওইয়ারসাবাল, এপ্রিলে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ার পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে শুরু থেকে নামা ইয়ামাল যে ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, তাতেই রেকর্ডবইয়ে পেলে ছাড়া বাকি সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন, স্কোরবোর্ডে বাতিল হওয়া গোল আর পোস্ট কাঁপানো শটেরও স্বীকৃতির ব্যবস্থা থাকলে স্পেনের গোল হতো আধডজন! কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ৬৭তম জন্মদিনে আর কী চাইতে পারতেন!
ইয়ামাল পারবেন স্পেনের বিশ্বকাপ মিশন বাঁচাতে?
ইয়ামাল শুরু থেকে খেলবেন, ম্যাচের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে বড়জোর মিনিট ষাটেক আর অনুকূলে থাকলে আরও কম তাকে মাঠে রাখবেন স্পেন কোচ – এসব ম্যাচের আগেই অনুমিত ছিল। ম্যাচের পরিস্থিতি ইয়ামালকে নিয়ে ৪৫ মিনিটের বেশি ঝুঁকি নেওয়ার কোনো কারণই রাখল না দে লা ফুয়েন্তের সামনে।
ক্রুইফ টার্নে মুগ্ধতা ছড়িয়ে শুরু ইয়ামালের, ১০ মিনিটে স্পেনের প্রথম গোলটিও তার। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সী ইয়ামালের চেয়ে কম বয়সে বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে নেমে দলের প্রথম গোলটিও করার কীর্তি আছে শুধু পেলে নামের এক ভদ্রলোকের (১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে, ১৭ বছর ২৪১ দিন বয়সে)।
তবে কেপ ভার্দে ম্যাচের সঙ্গে তুলনায় গেলে প্রত্যাবর্তনের গল্পটা ফরোয়ার্ড মিকেল ওইয়ারসাবালের। আগের ম্যাচে প্রথম ৩০ মিনিটে বলে একবারও পা ছোঁয়াতে পারেননি, তাতে নাম জুড়ে গিয়েছিল অস্বস্তির এক রেকর্ডে – বিশ্বকাপ ইতিহাসে অমন ‘কীর্তি’ যে আর কারও ছিল না। সেই ওইয়ারসাবাল আজ ইয়ামালের গোলে অ্যাসিস্ট করলেন, এরপর ২১ আর ২৪ মিনিটে করলেন দুই গোল! এতেও হলো রেকর্ড, এবার দারুণ গর্বের – বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটের মধ্যে দুই গোল আর এক অ্যাসিস্ট করে ফেলার কীর্তি এর আগে ছিলই কেবল একটি, ১৯৮২-তে এল সালভাদরের বিপক্ষে হাঙ্গেরির লাজলো ফাজেকাসের।
অবশ্য ওইয়ারসাবালকে আরেকটা পরিসংখ্যানও তৃপ্তি দেবে – স্পেনের হয়ে সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে ১৪ গোল আর ৭ অ্যাসিস্ট হলো তার! ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা মেসি-রোনালদোসুলভ রেকর্ড! ঠিক বক্সে ওঁৎ পেতে থাকা প্রথাগত নাম্বার নাইন নন, যাকে ফলস নাইন বলা যায়, এমন একজনের জন্য অবিশ্বাস্য!
২৫ মিনিটেই তিন গোলে এগিয়ে, তা-ও ধারে-ভারে পিছিয়ে থাকা সৌদি আরবের বিপক্ষে, স্পেনের তখন ফুরফুরে মেজাজে বাকি সময় পার করার পালা। বিরতিতেই ইয়ামাল আর ওইয়ারসাবাল দুজনকেই তুলে নিলেন স্পেন কোচ। বাকি সময়েও চুপ থাকবে কী! দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে না হতেই ৪৯ মিনিটে চতুর্থ গোল স্পেনের! তবে গোলদাতা স্প্যানিশ নন, সৌদি। লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজ জালেই জড়িয়ে দিলেন সৌদি আরবের ডিফেন্ডার হাসান আলতামবাকতি।
যেদিন ভালো যায়, সেদিন সবই পক্ষে যায় আর কী!