যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি। তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এতদিন প্রকাশ্যে সেভাবে না এলেও এখন ইরানের দায়িত্ব তার কাঁধে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির জন্ম ১৯৬৯ সালে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর মাশহাদে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রায় এক দশক আগে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত মোজতবা উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ১৯৮৭ সালের দিকে ইসলামি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।
এর এক বছর পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তার বাবা আলী খামেনি। পরে মোজতবা খামেনি কোম শহরের শীর্ষ ধর্মীয় আলেমদের অধীনে পড়াশোনা করেন এবং নিজেও একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং প্রভাব বাড়তে শুরু করে।
তবে দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। পর্দার আড়াল থেকেই সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন এবং মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসতেন।
২০০৫ সালে রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সংস্কারপন্থীরা অভিযোগ করেন, মোজতবা খামেনি ধর্মীয় নেতৃত্ব ও বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে আহমাদিনেজাদকে জেতাতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
সে সময় নির্বাচনে ‘মাস্টারের ছেলে’ হিসেবে মোজতবার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেন সংস্কারপন্থী নেতা মেহদি কারুবি। তখন আয়াতুল্লাহ খামেনি তার ছেলেকে সমর্থন করে বলেন, ‘‘তিনি মাস্টারের ছেলে নন, নিজেই একজন মাস্টার।’’
২০২৪ সালে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক করলে আয়াতুল্লাহ খামেনি তখন তার ছেলেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথাও বলেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনিকে নেতৃত্বে বসানোর ঘটনা ইরানে বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তরের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। কারণ এই ব্যবস্থাকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত করা হয়েছিল। চলতি বছরের অর্থনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক ইরানির মধ্যেও এমন সিদ্ধান্ত অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, তাকে নির্বাচিত করার মানে এই ইঙ্গিত দেওয়া যে বিপ্লবী গার্ডঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থীরাই এখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রভাবশালী এবং নীতিগত বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
ইরান সরকার জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা আদেল, মা মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদে এবং তার এক সন্তানও নিহত হয়েছেন।